ঢাকা, বুধবার, ২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৮ মহররম ১৪৪৪

বইমেলা

‘কাজের ফাঁকে ফাঁকে আত্মজীবনী লিখেছি’

সৈয়দ ইফতেখার আলম, নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৩৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৬
‘কাজের ফাঁকে ফাঁকে আত্মজীবনী লিখেছি’ ছবি: রাজীব / বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি থেকে: শৈশবে হাত দেখানোর নেশা পেয়ে বসে আবুল মাল আবদুল মুহিতের। কোনো এক জ্যোতিষী হাত দেখে তাকে বলেছিলেন, নৌ-রেখা অর্থাৎ বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ জীবনে কম।

তারপর ছুরি দিয়ে তিনি কেটে ফেলেন হাত! সৃষ্টি করেন হাতের নতুন রেখা। আজ সেই তিনিই বিদেশ ভ্রমণ করতে করতে প্রায় ক্লান্ত!

এমনই সব স্মৃতিকথা ও আত্মকথনে ‘সোনালি দিনগুলি’ সাজানো। এই সোনালি দিন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের। বইয়ের শিরোনামের মধ্য দিয়েই তিনি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন ঝলমলে অতীতের কথা।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আবুল মাল আবদুল মুহিতের আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘সোনালি দিনগুলি’র প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। একাধারে তিনি সংস্কৃতি ও ক্রীড়াপ্রেমী, সমাজচিন্তক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, লেখক-কলামিস্ট এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী।

এতোগুলো পরিচয়ের মধ্য দিয়ে তার কর্মবিস্তৃতি। অনুষ্ঠানে বক্তব্যের এক পর্যায়ে এ বিষয়ে তিনি বলেন, কাজের ফাঁকে ফাঁকে লিখেছি এই আত্মজীবনী। তাও খণ্ডিত রূপে। মাত্র ২২ বছরের জীবনকে এই গ্রন্থে বাঁধতে পেরেছি। যাতে উঠে এসেছে আমার ছেলেবেলা ও শিক্ষাজীবন মাত্র। আরও সারাটি জীবন তো পড়েই রইলো; তবে সেগুলোও ধীরে ধীরে আগামীতে লিখে যাবো বলে প্রত্যয় রাখছি।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সোনালি দিনগুলি বইয়ের জন্য ১১ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে লেখা শুরু করি। যা শেষ হয় ওই বছরের অক্টোবরের ৭/৮ তারিখে। পরে দৈনিক জনকণ্ঠে তা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হলো। ইউনির্ভাসিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) থেকে বইটি বের করার কথা ছিল। কিন্তু তারা সময় মতো পারবে না জেনে, চন্দ্রাবতী একাডেমিকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। চন্দ্রাবতী খুব স্বল্প সময়ে, মাত্র অর্ধমাসে বইটি ছেপেছে। এমন একটি গ্রন্থ হাতে পেয়ে আমি অভিভূত।

২৩৬ পাতার এ বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ৪৫০ টাকা। যাতে উঠে এসেছে আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছেলেবেলা ও ছাত্রজীবন (সময়কাল তার ২২ বছর)। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বইটি পাওয়া যাবে। এছাড়া সম্প্রতি তার রচনাবলি বেরিয়েছে।

অনুষ্ঠানে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তার কথা। বলেন, তার মতো বর্ণাঢ্য ব্যক্তির জীবন সম্পর্কে জানলে-পড়লে অনুজদের ভবিষ্যত পথ আরও সুগম হবে।

তার আগে বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, অত্যন্ত চমৎকার একটি বই হয়েছে। মুহিত ভাইয়ের জীবনীগ্রন্থ হাতে পেয়ে আমি বেশ আনন্দিত।

স্মৃতিচারণ করে তোফায়েল বলেন, মুহিত ভাই আমার আপনজন। জীবনের অনেক খুঁটিনাটি কথা তিনি আমার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার সবচেয়ে বড় গুণ তিনি সব কথা মনে রাখতে পারেন। কোনো দিন কোনো স্মৃতি ভোলেন না। এছাড়া তার মেধার তুলনা হয় না, এই ৮২ বছর বয়সেও তিনি সমান মেধাবী। এছাড়া তার কাছ থেকে আরেকটি শিক্ষা পাওয়া যায়- তা হলো নিজের কাজ নিজেই করার প্রচেষ্টা। নিয়মিত পড়াশোনা করেন, ব্যাপক সামাজিক মানুষ। আরও কত গুণ রয়েছে এই মানুষটির। তবে মাঝে মাঝে স্বল্পতে রেগে যান, আবার পরক্ষণে গলে হয়ে যান পানি।

তোফায়েল আরও বলেন, আমি এবং আমরা সবাই গর্বিত তাকে নিয়ে। তার মতো পরিশ্রমী মানুষের তুলনা তিনি নিজেই।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ৮২ বছর পার করছেন আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমরা চাই তার শতায়ু হোক। সব সময় সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। তিনি এতোই মেধাবী যে তার মতো মানুষের প্রয়োজন আমাদের।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, গ্রিনডেল্টা ইনস্যুরেন্সের উপদেষ্টা ও অর্থমন্ত্রীর বাল্যবন্ধু নাসির এ চৌধুরী, পল্লী সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, জাতীয় জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ড. এনামুল হক, চিত্রশিল্পী হাশেম খান এবং চন্দ্রাবতী একাডেমির প্রকাশক ও নির্বাহী পরিচালক কামরুজ্জামান কাজল।

প্রথমে শিশু একাডেমির শিশুদের নৃত্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং আলোচনা অনুষ্ঠান হয়েছে। সবশেষে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন।

বাংলাদেশ সময়: ১৯২৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৬
আইএ/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa