ঢাকা, বুধবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৯ মে ২০২৪, ২০ জিলকদ ১৪৪৫

জলবায়ু ও পরিবেশ

রেকর্ড ৪০.৮ ডিগ্রির তাপপ্রবাহে পুড়ছে ফরিদপুর

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৪৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০২৪
রেকর্ড ৪০.৮ ডিগ্রির তাপপ্রবাহে পুড়ছে ফরিদপুর

ফরিদপুর: ফরিদপুরে গত পাঁচ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে।  শনিবার (২০ এপ্রিল) জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

যা গত পাঁচ বছরের জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর আবহাওয়া অফিস।  

এদিকে, কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে এ জেলার মানুষ। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। রোদের কারণে ছাতা ছাড়া রাস্তায় বের হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। লোডশেডিংয়ের কারণে তীব্র গরমে প্রায় প্রতিটি ঘরেই জ্বর, সর্দি, কাশিসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা গরমে বেশি নাজেহাল। কেউবা রোদ আর গরম থেকে বাঁচতে গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন।  

ফরিদপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিগত পাঁচ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ফরিদপুর আবহাওয়া অফিস। এদিন ফরিদপুর জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার যেটা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রতিদিনই তাপমাত্রার রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে।  

ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী এলাকার শ্রাবণী আক্তার নামের এক গৃহবধূ বলেন, দিনে-রাতে একই রকম গরম লাগছে। এছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের বেশি কষ্ট হচ্ছে। গরমের কারণে বাচ্চাদের জ্বর-সর্দি লেগেই আছে।

একই এলাকার হায়দার আলী বলেন, গরমে বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। এখন বোঝা যাচ্ছে গাছের প্রয়োজনীয়তা কতখানি। নগরের যেসব এলাকায় গাছ নেই, সেসব এলাকার রাস্তায় হাঁটাই মুশকিল হয়ে গেছে।  

হায়দার আলী আরও বলেন, ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই রোদ আর গরমে। প্রখর রোদে পথ-ঘাট সব কিছুই উত্তপ্ত। সব থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন খেটে খাওয়া শ্রমিকরা।  

ফরিদপুর শহরের মুদি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে গরমের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। ওপরে নিচে ফ্যান চললেও গায়ে লাগছে না বাতাস।

হামিদ খান নামের এক রিকশাচালক বলেন, তীব্র গরমে রিকশা চালানো দায় হয়ে গেছে। যাত্রীও তুলনামূলক কম পাচ্ছি।  

এদিকে কৃষকরা বলছেন, রোদের প্রখরে ফল-ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। আম, লিচু, ধান, পাটসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে যাচ্ছে। এতে লোকসানের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।  

ফরিদপুর আবহাওয়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বাংলানিউজকে বলেন, এমন তীব্র তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। তবে, বৃষ্টি নামলে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে। এছাড়া বর্তমানে রাতে তাপমাত্রা তুলনামূলক কমছে না। ফলে রাতেও অত্যধিক গরম অনুভূত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪২ ঘণ্টা, এপ্রিল ২০, ২০২৪
এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।