ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ভাদ্র ১৪২৯, ১৬ আগস্ট ২০২২, ১৭ মহররম ১৪৪৪

জলবায়ু ও পরিবেশ

ক্লাইমেট গোল: উল্টো রথে ইন্দোনেশিয়া

পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৩৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৫
ক্লাইমেট গোল: উল্টো রথে ইন্দোনেশিয়া

ঢাকা: বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়ার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ। দেশের উন্নয়নে বন উজাড় করে শিল্প বিপ্লব ঘটালেও, এখন মোট নিঃসরণের ৩৭ শতাংশ যোগ হচ্ছে ওই গাছ না থাকায়।



আর সে কারণেই পরিবেশবাদীদের শক্ত সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটি। দেশটির আরও ২৭ শতাংশ জিএইচজিস যোগ হচ্ছে পিট পোড়ানোর কারণে। এটি কেবল ধোঁয়াই বাড়াচ্ছে না, পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণায়নেও যোগ করছে নতুন সমস্যা।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার সরকার ঘোষণা করেছে, কার্বন নিঃসরণের হার কমাতে তারা কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে। যদিও গোল-২০২০ একতরফাভাবে পরিবর্তন করে ২৬ শতাংশের পরিবর্তে ২০৩০ সালের মধ্যে ২৯ শতাংশ নিঃসরণ কমানোর কথা জানায় তারা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটা তাদের জন্য উচ্চাভিলাস ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ, অতীতের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতেই তাদের উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

২০০৯ সালে ইউএন-আরইডিডি থেকে অসংখ্য প্রকল্প (নিঃসরণ কমাতে গাছ কাটা বন্ধ ও বনায়ন ) নেওয়া হয়, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বন সংরক্ষণও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে সময় বৈদেশিক সহয়তার বিনিময়ে পিট পোড়ানো বন্ধ কর‍ার অঙ্গীকারও করে তারা। এখন পর্যন্ত দেশটিতে বিভিন্ন স্তরে প্রায় ৬০টি আরইডিডি-সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

কিন্তু সমালোচকদের মতে, কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইন্দোনেশিয়া এ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ হাতে নেয়নি। গত মাসে (আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রপতি জোকো উইডোডো একটি নতুন কয়েল প্ল্যান্টের প্রবর্তন করেন, যা ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় কয়েল প্ল্যান্ট বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় ৫২ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতেই এ নতুন প্রকল্প। যদিও ইন্দোনেশিয়া এবং তার কিছু অংশীদারদের সবিরোধী আচরণ এটি।

অন্য দেশের সাপেক্ষে অতীতে ইন্দোনেশিয়ার অঙ্গীকার ছিল ২০২০ সালের মধ্যে জিএইচজিএস ২৬ শতাংশ কমিয়ে আনা। সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও ছিল প্রাকৃতিক অসংখ্য প্রতিকূলতা। আর তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কৃষি উৎপাদনের হার ধরে র‍াখতেও নিঃসরণের মাত্রা কমানোই একমাত্র পথ।


যে কারণে হয়তো ইন্দোনেশিয়া এখন আরও বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

যেখানে মাত্র কয়েক মাস বাদে সারা পৃথিবীর নেতারা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে একসঙ্গে কাজ ক‍রার জন্য চুক্তিবদ্ধ হতে প্যারিসে একত্রিত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৫
এটি/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa