ঢাকা, শনিবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৮ মে ২০২২, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

জলবায়ু ও পরিবেশ

শুষ্ক মৌসুমে পদ্মাপাড়ে ধস!

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২১১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭
শুষ্ক মৌসুমে পদ্মাপাড়ে ধস! রাজশাহীতে শুকনো মৌসুমে পদ্মাপাড়ে ভাঙ্গন। ছবি: বাংলানিউজ

রাজশাহী: শুষ্ক মৌসুমেও এবার ধস নেমেছে রাজশাহীর পদ্মাপাড়ে। শহর রক্ষা বাঁধের  বুলনপুর পয়েন্টের মাটি হঠাৎ করেই প্রায় ২শ’ ফুট নিচে দেবে গেছে।

এতে মহানগরীর বুলনপুর ও ঘোষপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। মাটি দেবে যাওয়ায় আবারও হুমকির মুখে পড়েছে নদীপাড়ের বেশ কিছু বাড়ি-ঘর।

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) হঠাৎ করে বাঁধে ধস নামায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নদীপাড়ে বসবাসরতরা তাদের বাড়ি-ঘর রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বুলনপুর এলাকার আবদুর রশিদ জানান, বুধবার রাতে হঠাৎ করে বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে ধস নামে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা ধসে গভীরতা বাড়ে।

এতে পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেই ভাঙন আজ অনেকের বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অনেকের বাড়ি-ঘরও ধসে পড়বে পদ্মা নদীর বুকে।
 
রাজশাহীতে শুকনো মৌসুমে পদ্মাপাড়ে ভাঙ্গন।  ছবি: বাংলানিউজস্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের পাশের এই ধস সেখানকার ভবিষ্যত স্থাপনার জন্যও হুমকি স্বরূপ। এখানে দীর্ঘদিন ধরে বালু রাখা হয়।

সেই ভেজা বালু রাখার কারণেই পাড় এবং শহর রক্ষা বাঁধে এই ধস নেমেছে। এ ব্যাপারে তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এছাড়া বালু রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।

এদিকে, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার কয়েক দফায় ওই এলাকা পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তারা স্থানীয়দের দ্রুত মেরামতের কথাও জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মখলেসুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, তিনি অফিসের কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে খবর পাওয়ার পর কর্মকর্তাদের সেখানে পাঠিয়েছেন। তারা পরিদর্শন করেছেন।

এই পয়েন্টেই নদী থেকে মেশিনের মধ্যমে বালু তোলা হয়। আর বালু তোলার সময় তার সাথে নদীর পানিও থাকে।

একই স্থানে দীর্ঘ সময় ভেজা বালু ও পানি থাকায় ধস নামতে পারে। তবে এ নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ নদীতে তেমন পানিও নেই, স্রোতও নেই।

তারওপর রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ স্থায়ীভাবে সংষ্কারের কাজ চলছে।   বুলনপুরের ওই পয়েন্টেই মূল কাজটা হবে। এজন্য নদীর পাড়ের মাটি এমনিতেই কোথাও কোথাও কাটতে হবে। তবে এই কাজটা শুরু করতে আরো দেড় মাস লাগবে। কিন্তু পাড়ে ধস নামায় আজ থেকেই ওই পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। এটা স্থায়ী কাজেরই অংশ।

আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের ২ হাজার ৬শ’ ৫০ মিটার বাঁধ সংস্কারের কাজ শেষ করা হবে। এটা জুনের আগেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থায়ী সংস্কারের আওতায় সাড়ে ৪ লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হবে এবং সাড়ে ১২ লাখ সিসি ব্লক ফেলা হবে। এরপর তার দিয়ে বাঁধটি স্থায়ীভাবে বেঁধে দেওয়া হবে। তাই বুলনপুরের ধস নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বলেন, রাজশাহী পাউবোর এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ সময়: ০৮০০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭
এসএস/ জেডএম 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa