চট্টগ্রাম: প্রাথমিক পর্বে বাংলাদেশের তিন প্রতিপক্ষ- আফগানিস্তান, হংকং ও নেপাল। এতদিন শংকা আফগানিস্তানকে নিয়ে থাকলেও এবার বোধহয় বাংলাদেশকে সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে টি-টোয়েন্টি’র বিশ্ব আসরে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা হংকংয়ের দিকেও।
শনিবার বিকালে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হংকং দলের অধিনায়ক জেমি অ্যাটকিনসন বললেনও তাই। ‘অতীতে মানুষ মনে করতো বিশ্বকাপ আসরের প্রাথমিক পর্বে আমরাই সব চাইতে দূর্বল দল। কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, যেকোনো দলকে মোকাবেলা করার সামর্থ্য আমাদের আছে। ’
৭ মার্চ আবুধাবিতে নেদারল্যান্ডসকে ৮৫ রানে হারায় হংকং। গত শুক্রবার এম আজিজ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে দ্বিতীয় দফা হারে নেদারল্যান্ডস। ৮ মার্চ শারজায় আয়ারল্যান্ডকে হারায় তারা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে টেস্ট খেলুড়ে দল জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করে দলটি। দু’সপ্তাহের ব্যবধানে চারটি জয় পেয়ে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে দলটির। রোববার নেপালের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্ব আসরে অভিষেক হবে হংকংয়ের।
জেমি অ্যাটকিনসন বলেন,‘শেষ দু’সপ্তাহে মানুষের দৃষ্টি আমাদের দিকে ফিরে গেছে। নিশ্চয় এটা অনেক বড় আসর। সারা বিশ্বে সম্প্রচার হবে। সারা বিশ্বের মানুষের চোখ থাকবে এ টুর্নামেন্টের দিকে। প্রতিটি খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন থাকে এ ধরণের বিশ্ব আসরে খেলার। আমরা সে সুযোগ পেয়েছি। এখন নিজেদের প্রমান করতে হবে আমরাও পারি। ’
এশিয়া কাপের বাইরে ক্রিকেটের কোনো বড় আসরে এই প্রথম খেলার সুযোগ পেল হংকং। তবে বাংলাদেশ বা আফগানিস্তানের সঙ্গে লড়াইয়ের আগে নেপালকে নিয়েই ভাবতে হচ্ছে বাছাই পর্বের শেষ দল হিসেবে সুযোগ পাওয়া দলটিকে। অলরাউন্ডার ইরফান আহমেদ আর উইকেটকিপার জেমি অ্যাটকিনসন তাদের সেরা দুই তারকা। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া ইরফানের বলে যেমন গতি আছে, তেমনি হাতে আছে স্ট্রোকের ফুলঝুরি। আর অ্যাটকিনসনের আছে কাউন্টি ক্রিকেটে
ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা। দলটির নতুন তারকা মার্ক চ্যাপম্যান। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচেই করেছে অর্ধশতক। প্রথম শ্রেণীতে ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন। সেখানেও রয়েছে ৫টি অর্ধশতক।
শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পেসার হাসিব আমজাদ ২১ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলে টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ের তালিকায় লংকান স্পিন জাদুকর অজন্তা মেন্ডিসের পড়ই থাকতো তার নাম। এমন দলের উপর আস্থাতো রাখতেই পারেন কোচ।
হংকং কোচ চার্লি বার্ক বলেন,‘শেষ চারটি ম্যাচে আমরা জয় পেয়েছি। দুটি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, একইভাবে আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও জয় পেয়েছি। চারটি ম্যাচ জয়ের প্রেরণাতো আমাদের পেছনে আছেই। এ ধারাবাহিকতা রাখতে পারলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো কিছু করা সম্ভব। ’
রোববার জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি। ১৮ মার্চ একই মাঠে আফগানদের মোকাবেলা করবে। ২০ মার্চ একই ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে হংকং।
অন্যদিকে রোববার নেপালের টি-টোয়েন্টি বিশ্ব আসরে অভিষেক ঘটবে। ২০০৪ সালে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে নেপালের অভিষেক ঘটে। ২০০৮ সালে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগের পঞ্চম বিভাগে আইসিসি’র সহযোগী সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে খেলার সুযোগ পায়। ২০১০ সালে নেপাল পঞ্চম ডিভিশনের শিরোপা জয় করে।
২০১২ সালে চতুর্থ বিভাগ আর ২০১৩ সালের মার্চ মাসে তৃতীয় বিভাগ পার করে নেপাল এখন টি-টোয়েন্টি’র বিশ্ব আসরে। ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলারও স্বপ্ন দেখছে দলটি।
শনিবার বিকালে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নেপাল দলের অধিনায়ক পরশ খড়কা বলেন, ‘নেপাল সামনে কি করতে যাচ্ছে তা দেখতে মানুষ উদগ্রীব হয়ে আছে। খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্ব আসরে খেলার সুযোগ পেয়ে আমরা খুবই এক্সসাইটেড। কিন্তু আমাদের আবেগকে সংবরণ করতে হবে। আমরা আমাদের সেরা খেলাটাই খেলবো। বিশ্ব আসরে কেমন খেলতে হবে তা আমরা শিখেছি। ইতিমধ্যে প্রমাণও করেছি। ’
বাংলাদেশ সময়: ২১৩২ঘণ্টা, মার্চ ১৫, ২০১৪