ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ আশ্বিন ১৪২৯, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

সহিংসতার পথ ছেড়ে আসার আহ্বান ব্যবসায়ীদের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩২২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৩
সহিংসতার পথ ছেড়ে আসার আহ্বান ব্যবসায়ীদের ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: বর্তমানে দেশে যে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরণের রাজনৈতিক পরিবেশ চান না ব্যবসায়ীরা। তারা চান নির্বিঘ্নে অফিস করতে আর আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে।

 

তাদের প্রত্যাশা শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে পারে, কৃষক যেন তার উ‍ৎপাদিত ফসল নিয়ে বাজারে আসতে পারে।

ব্যবসায়ীরা চাননা সড়কে গাড়িতে আগুন জ্বলুক, মানুষ পুড়ুক, কারখানার উ‍ৎপাদন বন্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতি চাকা বন্ধ হয়ে যাক।

বর্তমানে সহিংসতার রাজনীতি থেকে সরে এসে প্রধান দুই দলকে সমঝোতায় বসায় আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।

তারা বলেছেন, অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেই দেশ এগিয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে দেশের অর্থনীতি র্ধ্বংস্তপের মুখোমুখি। এভাবে চলতে থাকলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস্তুপে পরিণত হবে। আর ধ্বংস্তুপে দাঁড়িয়ে দেশ কিভাবে শাসন করবেন? রাজনীতিবীদদের কাছে প্রশ্ন রাখেন ব্যবসায়ীরা।

দেশে চলমান সহিংস পরিস্থিতিতে সংঘাত, প্রাণহানি, শিল্প-বাণিজ্য ধ্বংসের পথ পরিহার করে শান্তির স্বপক্ষে সাদা পতাকা নিয়ে রাজপথে নামেন ব্যবসায়ীরা।

রোববার বেলা পৌনে ১২টায় চট্টগ্রাম চেম্বার ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতীকি এ অনুষ্ঠানে এসে ব্যবসায়ী নেতারা এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, উইম্যান চেম্বার, দোকান মালিক সমিতি, সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ গ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে চেম্বার সভাপতি বলেন, আজ আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকার কথা থাকলেও রাজপথে দাঁড়াতে হয়েছে। বর্তমানে দেশে যে অস্থির পরিস্থিতি চলছে তাতে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। তাই সাদা পতাকা নিয়ে রাজপথে অবস্থান আমাদের।

দেশের অর্থনীতি না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না উল্লেখ করে তিনি প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান তিনি।

এফবিসিসিআই পরিচালক এমএ সালাম বলেন, দেশের সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য দেশের অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। তাই আজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে থাকার কথা থাকলেও আমরা রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছি।

দেশের নীতি নির্ধারকদের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আমরা আর কোন লাশ চাই না। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে চাই। দেশের প্রধান চালিকা শক্তি অর্থনীতি বন্ধ হয়ে গেলে দেশ অচল হয়ে যাবে।

প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে সালাম বলেন, ব্যবধান কমিয়ে প্রধান আনুন। যাতে কাল থেকে আমরা অফিস করতে পারি। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে, কৃষক যেন তার পণ্য নিয়ে বাজারে যেতে পারে।

ব্যবসা ছেড়ে রাজপথে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশের পোশাক খাত যে সুনাম অর্জন করেছে তা ধ্বংসের মুখোমুখি।

তিনি বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে পোশাক শিল্প খাত ধ্বংস্তুপে পরিণত হবে। এ ধ্বংস্তুপে দাঁড়িয়ে আপনারা কিভাবে দেশ পরিচালনা করবেন।

সহিংসতার জন্য জাতি এ রাজনীতিকে ক্ষমা করবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সহিংস পরিস্থিতির জন্য দেশের অর্থনীতির বড় ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে বিজিএমইএ ভারপ্রাপ্ত প্রথম সহ-সভাপতি আবদুল ওহাব বলেন, এ খাত বড় বিপর্যয়ের সম্মুখিন।

সম্প্রতি শ্রমিকদের বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, হরতালের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। কারখানা বন্ধ থাকলে মালিকরা কিভাবে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করবেন।

দুই রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সমঝোতায় এসে আমাদের পরিত্রাণ দিন। দেশকে এগিয়ে নিয়ে ‍যাওয়ার সুযোগ দিন।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বিকেএমইএ পরিচালক শওকত ওসমান, ঢাকা মেট্রো পলিটন চেম্বারের সভাপতি আনিস এ খান, চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক সৈয়দ সগির আহমেদ, উইম্যান চেম্বারের আইভি হাসান, প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ সময়:১২৫০ঘন্টা, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৩

সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa