ঢাকা, সোমবার, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

অবরোধ শেষে বন্দরে পণ্য ডেলিভারির ধুম

মো.মহিউদ্দিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৫৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২০, ২০১৩
অবরোধ শেষে বন্দরে পণ্য ডেলিভারির ধুম ছবি: সোহেল সরওয়ার/ বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: অবরোধ শেষে শুক্রবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ডেলিভারির ধুম পড়েছে। গত রাত থেকে সারি সারি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান বন্দরে প্রবেশ করেছে।

এছাড়াও অবরোধের শেষ দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ পণ্য ডেলিভারি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কে নিরাপত্তা জোরদার ও পুলিশি পাহারায় পণ্য পরিহবনের ব্যবস্থা করায় অবরোধেও পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ১১৬ টিউস পণ্য ডেলিভারি হয়েছে। যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

অবরোধের দ্বিতীয় দিন বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি হয়েছিল ১ হাজার ৫০০ টিউস। অবরোধের প্রথমদিন ১ হাজার ১৮৯ টিউস পণ্য ডেলিভারি হয়।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার অবরোধ না থাকায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই সারি সারি ট্রাক- কাভার্ড ভ্যান পণ্য ডেলিভারি নিতে অপেক্ষা করছিল। ফলে এদিন দ্বিগুণ পণ্য ডেলিভারি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজদারিতে মহাসড়কে নাশকতা করতে না পারা, পুলিশ পাহারায় পণ্যবাহী গাড়ি পৌছে দেয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে গত তিনদিনের অবরোধে পণ্য ডেলিভারি স্বাভাবিক ছিল।

সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, হরতাল-অবরোধের কারণে এরই মধ্যে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের পোশাক শিল্প খাত। নিয়মিত পণ্য রপ্তানি করতে না পারার আশঙ্কায় অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

তবে গত তিনদিনের অবরোধে অন্যান্য সময়ের চেয়ে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহন অনেকটা স্বাভাবিক ছিল।

একই কথা জানালেন চট্টগ্রাম কাস্টমস সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের বন্দর সম্পাদক লিয়াকত আলী হাওলাদার।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, পুলিশি পাহারায় পণ্য পরিবহন হচ্ছে। তাই অন্যান্য অবরোধে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও গত তিনদিনের অবরোধে মহাসড়কে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক ছিল।

তবে অতিরিক্ত গাড়ি ভাড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা এর সুফল নিতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন লিয়াকত আলী।

তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধে গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, মহাসড়কে ডাকাতির কারণে পণ্য পরিবহনে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। পেলেও গাড়ি ভাড়া কয়েকগুণ বেশি। ফলে এ সুবিধা সবাই নিতে পারছে না।

অনেক সময় বুকিং দেয়া গাড়িও পণ্য পরিবহনে যেতে রাজি হচ্ছে না জানিয়ে এ ব্যবসায়ী বলেন, ফলে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিলেও গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক এসএম হাবিবুল হক বাংলানিউজকে বলেন, পুলিশের সহায়তা চাইলে পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখনো আতঙ্ক কাটেনি চালক সহকারীদের। ফলে অনেকেই যেতে রাজি হচ্ছে না।

নগরীর পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান বৃহস্পতিবার রাতে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য পরিবহনে পুলিশের সহায়তা চাইছে তাদের পণ্য পুলিশ পাহারায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ ফরহাদ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দৈনিক দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৮০০ টিউস পণ্য ডেলিভারি হয়। অবরোধের শেষ দিনে তিন হাজার ১১৬ টিউস পণ্য ডেলিভারি হয়েছে।

তিনি জানান, শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ২৭ হাজার ৩৪ টিউস কন্টেইনার রয়েছে। এদিন চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ও বর্হিনোঙ্গরে মোট ৩০টি জাহাজে কাজ চলছিল।

বাংলাদেশ সময়:২০২০ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৩

সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa