ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ মাঘ ১৪২৮, ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

‘আল্লাহর নৈকট্য লাভ প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩১১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০১৪
‘আল্লাহর নৈকট্য লাভ প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব’ ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: ধর্মীয় ভাবগম্ভীর ও উৎসবমূখর পরিবেশে মঙ্গলবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হচ্ছে। দিবসটি পালনে আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উদ্যোগে নগরীতে জশনে জুলুসসহ ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।



সকাল ৯টায় নগরীর ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন খানখায়-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে জুলুসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এরপর সেখান থেকে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রং-বেরঙের ব্যানার ও ফেস্টুন সংবলিত জশনে জুলুসে অংশ নেয়া বিভিন্ন গাড়ির বহর মুরাদপুর, মির্জারপুল, কাতালগঞ্জ হয়ে অলিখাঁ মসজিদ, চকবাজার প্যারেড গ্রাউন্ডের উত্তর পাশের সিরাজুদৌল্লা রোড, চন্দনপুরা, দিদার মার্কেট, দেওয়ান বাজার, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড, কদম মোবারক, চেরাগী পাহাড়, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, সলিমা সিরাজ মহিলা মাদ্রাসা, কাজির দেউড়ি, আলমাস সিনেমার সামনে দিয়ে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের উত্তর পাশ, ওয়াসার মোড়, জিইসি মোড় ষোলশহর দুই নম্বর গেইট-এর সামনে দিয়ে প্রদক্ষিণ করে ফের মুরাদপুর, বিবিরহাট হয়ে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া প্রাঙ্গণে শেষ হয়।

এদিকে জশনে জুলুস বের হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো গাড়ির বহর যুক্ত হচ্ছে নগরীর নানা পয়েন্ট থেকে।   আর মুসুল্লিদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে,‘ইয়ানবী সালামু আলাইকা, ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা। ’

হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর শুভ জন্মদিন উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের কণ্ঠে নাতে রাসুল ও সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধ্বনিতে চারদিক মুখরিত হয়ে উঠেছে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টেও স্থাপন করা মাইক ও সাউন্ডবক্সে চলছে নাতে রাসুল।

আহমদিয়া সুন্নিয়া প্রাঙ্গনে জশনে জুলুস পূর্ব আলোচনায় বক্তব্যে পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান বলেন,‘আজকের এই দিনে মহানবীর পৃথিবীতে শুভাগমনের মধ্য দিয়ে নবুওয়াতের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। এরপর আর কোন নবী দুনিয়ায় আসবেন না। আমাদের সবচেয়ে বড় ঈদ; এই ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী।   এই খুশি উদযাপন করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। ’

তিনি বলেন,‘বর্তমানে দিবসটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতেই মহা-সমারোহে পালিত হচ্ছে। কেননা মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) সারা পৃথিবীতে রহমতের বার্তা নিয়ে এসেছেন এবং পৌঁছে দিয়েছেন। ’

পৃথিবীতে যাতে মহানবীর বাণী শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা হয়-তা কামনা করেছেন সুফি মিজানুর রহমান।

আলোচনায় মাওলানা ওবায়দুল হক নঈমী বলেন,‘নবীকুল শিরোমনি হযরত মোহ্ম্মদ (সা.) এর জন্মদিনে যে আনন্দ করছি, তা শুধু আনন্দ নয়; আল্লাহর সুন্নাতও পালন করছি আমরা। ’

তিনি বলেন,‘এটি (ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী পালন) একটি বড় ইবাদত। ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী পালনের জন্য পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে। আমাদের মহানবী না এলে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হতো না। তিনি এসেছেন বলেই আমরা নামাজ, রোজা এবং পবিত্র গ্রন্থ কোরআন পেয়েছি। অন্যায়, অত্যাচার থেকে মুক্তি মিলেছে। ইসলামের সঠিক পথের সন্ধান পেয়েছি। ’

‘অন্ধকার দূর করতেই আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয়বন্ধুকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন’—বলেন মুফতি ওবায়দুল হক নঈমী।

এসময় অন্যদের মধ্যে তরুণ শিল্পপতি পিএইচপির পরিচালক আমির হোসেন সোহেল, আনজুমান ট্রাস্টের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং গাউচিয়া কমিটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আনজুমান ট্রাস্ট’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মহসিন বাংলানিউজকে জানান, প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর জন্মদিন পালনে প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এতে চট্টগ্রাম ছাড়াও দেশে-বিদেশের লাখো ধর্মপ্রাণ সুন্নী জনতা অংশ নিচ্ছেন।

তিনি বলেন,‘জশনে জুলুস শেষে বাদ যোহর জামেয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা ময়দানে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। জুলুসে আর মোনাজাতে যোগ দিতে দেশ-বিদেশের লাখো মুসুল্লি গতকাল (সোমবার) থেকেই জামেয়া আহমদিয়া প্রাঙ্গনে সমবেত হয়েছেন। ’

জশনে জুলুসের আয়োজন প্রসঙ্গে মো. মহসিন জানান, ১২ই রবিউল আওয়াল রাসুল (সা.) এর শুভাগমন হয়েছিল এই পৃথিবীতে। আর তার শুভাগমনকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিবছর জশনে জুলুস হয়ে থাকে।

প্রসঙ্গত, রাসুল (সা.) যে আলোর বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছেন তার খুশি ও আনন্দ উদযাপনের জন্য বাংলাদেশে ১৯৭৪ সাল থেকে সৈয়দ তৈয়ব শাহ (র.) জশনে জুলুসের প্রচলন করেন।   এরপর দেশে প্রতিবছরই মহাসমারোহে বিশ্বনবীর জন্মদিনটি পালন করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শুধু বাংলাদেশেই না বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও দিবসটি বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালন করা হয়।

আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ-সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে কোরআনের বাণী, হামদে না’ত সহকারে ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়। নগরীর প্রধান সড়ক ছাড়াও বিভিন্ন সড়কদ্বীপে ডিজিটাল ব্যানার সহকারে সুদৃশ্য তোরণের পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন।

প্রসঙ্গত, ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র মক্কা নগরীর অভিজাত কুরাইশ বংশে আবির্ভাব ঘটে নবীকুলের শিরোমণি রহমাতুল্লীল আলামীন হযরত মুহাম্মদ (স.) এর। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন করবে মুসলিম বিশ্ব।

আবার এইদিনেই আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করা ও তৌহিদের বাণী প্রচার করা মহামানব ওফাত লাভ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৩০৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০১৪
সম্পাদনা: তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa