ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ মাঘ ১৪২৮, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

মাদ্রাসায় গ্রেনেড বিস্ফোরণ

অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি ২৫ ফেব্রুয়ারি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৩৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৪
অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি ২৫ ফেব্রুয়ারি

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরীর বহুল আলোচিত লালখান বাজার মাদ্রাসায় গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দাখিল করা অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার উপর শুনানির জন্য আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত।

হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ইজহারুল ইসলাম ও তার ছেলে হারুন ইজহারসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।



বুধবার অভিযোগপত্রটি সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মুজিবুর রহমানের আদালতে আসে। আদালত অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার উপর ২৫ ফেব্রুয়ারি সময় নির্ধারণ করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ‘অভিযোগ পত্র যাচাইবাছাই করে আমি ২৫ ফেব্রুয়ারি মতামত দেব। সেদিন গ্রহণযোগ্যতার উপর শুনানি হবে। ’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগপত্রভুক্ত আসামীদের মধ্যে মুফতি ইজহারুল ইসলাম হাইকোর্টের জামিনে আছেন। মুফতি হারুন শাপল‍া চত্বরে হেফাজতের লংমার্চে সহিংসতার মামলার আসামী হিসেবে ঢাকায় আছেন।
 
বাকি আসামীদের মধ্যে হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ ইছহাক, মনির হোসেন, আবদুল মান্নান, তফসির আহমেদ ও মোহাম্মদ জুনায়েদকে আদালতে হাজির করে ‍পুলিশ। আবদুল হাই ওরফে সালমান নামে আরেক আসামী পলাতক আছেন।

মাদ্রাসায় গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনের ৩ ও ৪ ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বাকি দু’টি মামলা এখনও তদন্তাধীন আছে।

গত বছরের ৭ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে নগরীর লালখান বাজারে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম পরিচালিত জামেয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন ছাত্র আহত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’ছাত্র মারা যায়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ল্যাপটপ চার্জার থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করে। তবে পুলিশ ওই কক্ষ তল্লাশি করে চারটি তাজা গ্রেনেড এবং বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেন। রাতে মুফতি ইজহারের বাসায় তল্লাশি করে ১৮ বোতল এসিড পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে নগরীর খুলশী থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। দু’টি মামলাতেই মুফতি ইজহার ও ছেলে হারুনকে আসামী করা হয়।

মুফতি ইজহার ও তার ছেলের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে।

লস্কর ই তৈয়বার সঙ্গে কানেকশনের অভিযোগে ২০১০ সালে একবার মুফতি হারুন ইজহার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের ডাউকি এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া লস্কর-ই তৈয়বার দুটি জঙ্গি নাজের ওরফে নাজের পারবন এবং শফিক ওরফে সাহাফাজ শামসুদ্দিন সেদেশের পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তাদের সঙ্গে ২০০৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে মুফতি হারুনের কয়েক দফা বৈঠক হয়। এমনকি তারা মার্কিন ও ভারত দূতাবাসে হামলারও পরিকল্পনা নিয়েছিল। এরপর মুফতি হারুন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

তার পিতা মুফতি ইজহারের মাদ্রাসায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হরকাতুল জিহাদের জন্ম হয়েছিল বলেও অভিযোগ আছে। দেড় দশক আগে ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রয়াত কবি শামসুর রাহমানের প্রাণনাশ চেষ্টার অভিযোগে আটক হওয়া কয়েকজন জঙ্গি জানায়, তারা মুফতি ইজহারুল ইসলামের লালখান বাজার মাদ্রাসাতেই ট্রেনিং নিয়েছিল।

মুফতি ইজহার ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের সভাপতি নেজামে ইসলাম পার্টির একাংশের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে আছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৩১০ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa