ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ মাঘ ১৪২৮, ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

উৎকণ্ঠায় চট্টগ্রামের গার্মেন্টস মালিকরা

মো.মহিউদ্দিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২৩৪৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ২২, ২০১৪
উৎকণ্ঠায় চট্টগ্রামের গার্মেন্টস মালিকরা

চট্টগ্রাম: একের পর এক কারখানা বন্ধের ঘোষণায় উদ্বিগ্ন চট্টগ্রামের গার্মেন্টস মালিকরা। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শ্রম অসন্তোষের আশঙ্কা করছেন তারা।



দীর্ঘদিনের শ্রম-সাধনায় প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তাদের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান হঠাৎ বন্ধ ঘোষণায় শ্রমিক উত্তেজনার আতঙ্কে থাকা মালিকরা কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
 
এদিকে বাংলাদেশী তৈরী পোশাকের ইউরোপীয় ও মার্কিন ক্রেতাদের সম্মিলিত পরিদর্শন সংস্থা অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের পরিদর্শন রিপোর্টের ভিত্তিতে চলতি মাসেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে চট্টগ্রামের সাতটি গার্মেন্ট কারখানা।

এতে একদিকে কারখানা মালিককে দীর্ঘ দিনের ব্যবসা হঠাৎ গুটিয়ে নিতে হয়েছে অন্যদিকে বেকার হয়েছে অন্তত তিন হাজার শ্রমিক। বন্ধ হওয়ার তালিকায় রয়েছে আরো অনেক কারাখানা। ফলে উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছেন চট্টগ্রামের গার্মেন্টস মালিক ও শ্রমিকরা।  

শ্রমিকদের নিরাপত্তা ইস্যুতে বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব কারখানা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে আর চালু করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজিএমইএ’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রম সাধণা আর দেশের প্রচলিত আইন কানুন মেনে প্রতিষ্ঠা পাওয়া উদ্যোক্তাদের মূল্যায়ন দরকার।

‘কারণ একজন উদ্যোক্তার অনেক দায়বদ্ধতা থাকে। কারখানায় শ্রমিকদের বেতন, পাইপ লাইনে থাকা পণ্যের বিপরিতে ডলার, অর্ডার বাতিলের বিষয়টি জড়িত থাকে। এ অবস্থায় একটি কারখানা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া মানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া। ‘

এমন সিদ্ধান্ত উদ্যোক্তাদের প্রতি ‘অবিচার’ আখ্যায়িত করে এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ারদের সংগঠন অ্যালায়েন্স, ইউরোপভিত্তিক সংগঠন অ্যাকর্ড ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত টিম পরিদর্শন করে যাওয়ার পর অনিরাপদ ভবনে গড়ে তোলা তিনটি পোশাক কারখানা বন্ধ করতে নোটিশ দিয়েছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।

শনিবার পরিদর্শন শেষে দেওয়া মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক বশীর আহমদ সোমবার এ নোটিশ জারি করেন।

কারখানা তিনটি হচ্ছে বিজিএমইএ’র পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশের আরএসআই অ্যাপারেলস লিমিটেড, শাহাবুদ্দিন চৌধুরীর মালিকানাধীন ক্যান্ট গার্মেন্টস ও ভবন মালিক নজরুল ইসলামের শাহচান অ্যাপারেলস লিমিটেড। এ তিন কারখানায় এক হাজার ২০০ শ্রমিক কাজ করতেন।

জেনারেলাইড সিষ্টেম অব প্রিপারেন্স (জিএসপি) সুবিধা পূর্ণবহালে গঠিত এ দুটি টিমের সদস্যরা গত শনিবার চট্টগ্রাম আসেন। এ্যাকর্ড আর অ্যালায়েন্স টিম যৌথভাবে এসব কারখানা পরিদর্শন ও মূল্যায়ন করে বন্ধ ঘোষণা করতে মতামত দেন।

নিরাপত্তার অযুহাতে কোন গার্মেন্টস কারখানা হঠাৎ বন্ধ না করে সেটি স্থানান্তরের জন্য সময় দেওয়া উচিত বলে মনে করেন নাছির উদ্দিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্পে বিনিয়োগ করে উদ্যোক্তারা কোন অন্যায় করেননি। ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানকে হঠাৎ করে এভাবে রাস্তায় ফেলে দিতে পারেন না।

হঠাত বন্ধ করে দেওয়া গার্মেন্টস মালিকদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন উল্লেখ করে বিজিএমইএ পরিচালক সম্প্রতি বন্ধ ঘোষণা করা ডে অ্যাপারেলস‘র চেয়ারম্যান মো.আবদুল ওয়াহাব বাংলানিউজকে বলেন, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স বায়ারদের পক্ষ হয়ে কারখানা পরিদর্শনে এসেছে। তারা যেটাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে সেটা বন্ধ করতে বলছেন।

তিনি বলেন, কিন্তু কারখানা বন্ধ না করেও সেটিকে ঝুঁকিমুক্ত করা যায়; সেই কথাটি বলার মতো আমাদের দেশে কেউ নেই। ফলে আমরা নিজেরাও উদ্বিগ্ন, যে আমাদের কি হবে।

তবে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কারখানা বন্ধের বিষয়ে কারখানার মালিকরা আমাদের রিপোর্ট করেননি। এছাড়া যেহেতু এটা কমপ্লায়েন্স ইস্যু তাই কিছু বলা ঠিক হবে না।

কারখানা বন্ধের এ সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল সেটা কারখানার মালিকরাই ভালো বলতে পারবেন উল্লেখ করে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

বন্ধ কারখানা সম্পর্কে প্রথম সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী অবগত বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ পরিচালক আব্দুল ওয়াহাব।

অ্যাকর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল এবং ৩১ মার্চ পরিদর্শন করে চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস কারখানায় নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন ধরনের ত্রুটির সন্ধান পায়। সেসব কারখানার বিষয়ে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। যা রিভিউ কমিটিতে যাওয়ার পর তা পরিদর্শন ও মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে নগরীর আতুরার ডিপো এলাকার একটি ভবন পরিদর্শন শেষে মেনস অ্যাপারেলস, বায়েজিদ ড্রেসেস, ডে অ্যাপারেলস ও ডে ফ্যাশন নামে চারটি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সময়:২৩৪৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ২২, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa