ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ বৈশাখ ১৪৩১, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৮ শাওয়াল ১৪৪৫

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

বন্দরে প্রস্তুত বাংলার কাকলি

১২ হাজার টন চাল যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা

তপন চক্রবর্তী, ব্যুরো এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৫১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৪
১২ হাজার টন চাল যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: কর্ণফুলী নদীতে শনিবার সকাল থেকেই জোয়ারের অপেক্ষায় থাকবে ‘বাংলার কাকলী’। জোয়ার এলেই চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়বে ১২ হাজার মেট্রিক টন চাল বোঝাই এই জাহাজ।

গন্তব্য শ্রীলংকার কলম্বো বন্দর। বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো চাল রপ্তানির সবচেয়ে বড় চালানটি শনিবারই দেশ ছেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের কার্গো জাহাজ এই ‘এমভি বাংলার কাকলি’।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পর্যাপ্ত মজুদের পর সরকার প্রথমবারের মতো চাল রফতানি শুরু করেছে। শ্রীলংকায় রফতানির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে ১২ হাজার টন চালের জাহাজীকরণ এখন শেষ পর্যায়ে।

চালের প্রথম চালানটি নিয়ে শনিবার শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবে বলেই জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

খাদ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, বাংলার কাকলিতে সাড়ে ১২ হাজার টন চাল বোঝাইয়ের কাজ শুক্রবারের মধ্যেই শেষ হবে। শনিবার সকালেই যাত্রার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত থাকবে বাংলার কাকলি। তবে জোয়ারের ওপর নির্ভর করে তা বন্দর ছাড়বে।

সকালে জোয়ার পর্যাপ্ত হলে সকালেই নয়তো বিকেলে জোয়ার এলে জাহাজ ছাড়া হবে। শনিবারেই জাহাজ যাত্রা শুরু করবে কলম্বোর উদ্দেশ্যে, বলেন জহিরুল ইসলাম।  

চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থের ৩ নম্বর জেটিতে অবস্থান নেয়া জাহাজটিতে গত ১৭ ডিসেম্বর চাল বোঝাই করা শুরু হয়। ১০ দিন টানা কাজ করে জাহাজটিতে চাল বোঝাই সম্পন্ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পরের চালানে আরো সাড়ে ১২ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে বিএসসির আরেকটি জাহাজ শ্রীলংকা যাবে বলেও জানান জহিরুল ইসলাম।

আগে বাংলাদেশ থেকে সীমিত পরিমাণে সুগন্ধি চাল রপ্তানি হলেও এবারই প্রথম চালের বড় চালান রপ্তানি করা হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় শ্রীলঙ্কার হাই কমিশন‍ সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উভয় দেশের সরকারি পর্যায়ে সিদ্ধ চাল নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ‘চতুর্থ এগ্রো বাংলাদেশ এক্সপো’র অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ শ্রীলংকায় ৫০ হাজার  থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন চাল রপ্তানির কথা জানান।  

বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি পাওয়ার পর সেপ্টেম্বরে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগতভাবে শ্রীলংকায় চাল রপ্তানির অনুমোদন দেয়। বর্তমানে সেখানে বৃষ্টির মৌসুম শুরু হওয়ায় চাল খালাসে অসুবিধা হবে বিধায় শ্রীলংকা আপাতত প্রথম পর্যায়ে ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল সরবরাহ নেবে। পরবর্তীতে সুবিধামতো সময়ে শ্রীলংকা বাকি চাল কিনবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সরকারি গুদামে ১১ লাখ মেট্রিক টন চালের মজুদ ছিল, যা এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন বেশি। এ অবস্থায় দেশে চালের উৎপাদন ও সরকারি গুদামে মজুদ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে খাদ্য অধিদপ্তর ৫০ হাজার থেকে এক লাখ মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছিল।

এরপর চলতি বছরের ৩ ডিসেম্বর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সরকার এবং শ্রীলংকা সরকারের মধ্যে চাল রপ্তানির বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সারওয়ার খান এবং শ্রীলংকার পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন লংকা সাথোসা লিমিটেড’র চেয়ারম্যান নালীন ফারনান্ডো। প্রতি টন চালের দাম ধরা হয়েছে ৪৫০ ইউ এস ডলার।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য গুদামে মজুদ আছে, যা গতবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন বেশি। বাংলাদেশ যেকোন দেশের চাহিদা মোতাবেক ১ লাখ মেট্রিক টনের বেশি চাল রপ্তানি করতে প্রস্ত‍ুত রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ দশমিক ৮২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ১১দশমিক ৫১ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং এক দশমিক ৩১ মেট্রিক টন গম। এছাড়া শূণ্য দশমিক ৩৩ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৩৫১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।