ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ বৈশাখ ১৪৩১, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৫

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা

হাজারো মানুষের মিলন মেলা

ইসমেত আরা, নিউজরুম এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪০৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৪
হাজারো মানুষের মিলন মেলা সোহেল সরওয়ার, স্টাফ ফটো করেসপন্ডেন্ট / ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

চট্টগ্রাম: যে দিকে চোখ যায়, সে দিকেই শুধু মানুষ আর মানুষ।   শিশু থেকে বয়স্ক সব বয়সের মানুষেরই রয়েছে সরব উপস্থিতি।

  কেউ এসেছেন কেনাকাটা করতে, কেউবা এসেছেন ঘুরতে।   সকলের পদচারণায় এ যেন পরিণত হয়েছে হাজারো মানুষের মিলন মেলায়।


চট্টগ্রামে কাজীর দেউড়ি আউটার স্টেডিয়ামে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চলছে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা।   মাসব্যাপী বিজয় মেলার এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। আর তাই হাজারো মানুষের ভিড়ে মুখরিত মেলা প্রাঙ্গণের দেখা গেছে এমন চিত্র।

মেলায় এবার ১০ টাকা থেকে ২৫ হাজার টাকা দামের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।   প্রবেশমুখেই বসেছে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের দোকান।   হাঁড়ি, ঢাকনা ছাড়াও শীতের পিঠা তৈরির বিশেষ বাটি বিক্রি চলছে সেখানে।   গৃহসজ্জার নানা উপকরণ, বাঁশ ও বেতের জিনিষপত্র, রান্নাঘরের তৈজসপত্র, দা-ছুরি-বঁটি, ক্রোক্রারিজ সামগ্রী, বাচ্চাদের খেলনা, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, শাল, শীতের কাপড়, গহনা, ব্যাগ, জুতা, স্যান্ডেল, ইলেকট্রনিকস পণ্য, আচার, নানা ধরনের মুড়িমুড়কির দোকান দেখতে পাওয়া গেল মেলায়।   এছাড়াও দেখা গেল জাদু শেখানোর স্টল হিং টিং ছট।

পরিবার নিয়ে আগ্রাবাদ থেকে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শহীদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, মেলায় সব পণ্য একসঙ্গে পাওয়া যায়, পরিবার নিয়ে কিছুটা সময় বেড়ানোও হয়, তাই মেলায় আসা।

অক্সিজেন থেকে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা যুথি জানান, মেলায় আমাদের ঐতিহ্যবাহী অনেক জিনিষ কিনতে পাওয়া যায়, জিনিষপত্রের দামও কিছুটা কম বলে মেলায় আসা।

সালোয়ার-কামিজের দোকান নিয়ে বসা টেক্স এন্ড ফ্যাশনের কর্মচারী লিটন বাংলানিউজকে জানান, মেলায় পণ্যের বিক্রির চেয়ে প্রচারের দিকে বেশি নজর দেয়া হয়। তাই পণ্যের ওপর ছাড় দিয়ে কম লাভে বিক্রি করা হয়।

মাটির পণ্যসামগ্রীর দোকান মালিক আবুল লতিফ জানান, চট্টগ্রামে মাটির জিনিষের চাহিদা ভালো, তাই আমরা সাতক্ষীরা থেকে এখানে এসেছি এবং ভালো সাড়া পাচ্ছি।

তবে মেলা শুরুর প্রথম দিকে বিক্রি বেশি হলেও শেষ সময়ে এসে পণ্যের বিক্রি কম বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ বিক্রেতা।   তারা বলছেন, মেলায় অনেক দর্শক এলেও সবাই কেনাকাটা করছে না।   তবে সরকারি বন্ধ ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ভালো পরিমাণ বিক্রি হয় বলে জানান তারা।

মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, মেলায় এবার ছোট-বড় মিলিয়ে ২১৫টি স্টল বসেছে।   প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চললেও ভিড় জমে মূলত বিকেল ও সন্ধ্যায়।   এছাড়া বাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে মেলায় নাগরদোলা, মৃত্যুকূপের মতো খেলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকেই মেলা শুরু হয়।   শিখা প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ১০ ডিসেম্বর।   শুরু থেকেই মেলা নিয়ে মানুষের বেশ আগ্রহ ছিলো।   আর তাই এ মেলা রূপ নিয়েছে হাজারো মানুষের প্রাণের মেলায়।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৪৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৭, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।