ঢাকা, শনিবার, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২২২ জন, ৭৮ % রোগী শহরের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২
চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২২২ জন, ৭৮ % রোগী শহরের

চট্টগ্রাম: চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিনে চট্টগ্রামে ২২২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা চলতি বছরের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি।

এ মাসে আক্রান্ত মোট রোগীর ৭৮ শতাংশই চট্টগ্রাম মহানগরের এবং বাকি ২২ শতাংশ রোগী বিভিন্ন উপজেলা এলাকার বাসিন্দা। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও এখনও শঙ্কার কিছু নাই বলছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। তবে সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।  

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ বছর জানুয়ারি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে মাত্র ৫ জন। ফেব্রুয়ারিতে একজন আক্রান্ত হলেও মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে পাওয়া যায়নি কোনো রোগী। তবে জুন মাস থেকে আবারও বাড়তে শুরু করে আক্রান্তের সংখ্যা। এ মাসে আক্রান্ত হয় ১৭ জন। এছাড়া জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত বেড়ে ৫০ জন, আগস্ট মাসে ৭৬ জন এবং চলতি সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২২২ জন।  

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট ৩৭১ জন রোগীর মধ্যে ৮৩ শতাংশ বা ৩০৮ জনই চট্টগ্রাম মহানগরীর বাসিন্দা। বাকি ১৭ শতাংশ বা ৬৩ জন রোগী বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে পুরুষ ১৭০ জন, নারী ১০১ জন এবং শিশু রয়েছে ১০০ জন।  

স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বাড়লেও জনসংখ্যা অনুপাতে আক্রান্তের সংখ্যা খুবই নগন্য। তাই এখনই ভীতি ছড়ানোর মত কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে অবশ্যই সচেতন থাকার পরামর্শ তাদের।  

ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে করণীয় কি হতে পারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হামিদুল্লাহ মেহেদী বাংলানিউজকে বলেন, বর্ষাকালে যেকোনো জ্বর হলেই ডেঙ্গুর কথা মাথায় রাখতে হবে। সাধারণত এই জ্বর হয়ে থাকে অতিরিক্ত মাত্রার, ১০২ থেকে ১০৫ ফারেনহাইট। জ্বরের সঙ্গে আরও বেশ কিছু উপসর্গ থাকতে পারে। এর মধ্যে তীব্র শরীরব্যথা, পিঠে এবং মাংসে ব্যথা, চোখের চারপাশে এবং পেছনে ব্যথা, বমি বমি ভাব অথবা বমি, পেটে ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্বাদের পরিবর্তন এবং গায়ে লালচে ভাব। এ সময় জ্বরে আক্রান্ত হলে কালক্ষেপণ না করে জ্বরের শুরুতেই প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু এনএসওয়ান টেস্ট করে নেওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে প্রয়োজন সিবিসি, এসজিপিটি, এসজিওটি টেস্ট করা। সর্বোপরি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, সবার আগে সচেতনতা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়া জরুরি। যে কোনো সময় ঘুমাতে গেলে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। আর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।  

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে। এ রোগ মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া নগরের হাসপাতালগুলোতেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৯২৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২
এমআর/টিসি
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa