ঢাকা, রবিবার, ২২ মাঘ ১৪২৯, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৩ রজব ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চবির আলাওল হলে দিনে অপচয় ২৮ হাজার লিটার পানি

মোহাম্মদ আজহার, ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৩৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০২২
চবির আলাওল হলে দিনে অপচয় ২৮  হাজার লিটার পানি ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: আলাওল হলের চারতলার ওপর পানির ট্যাংক থেকে অবিরত গড়িয়ে পড়ছে খাবার পানি। মাসের পর মাস দিন রাত পানি পড়ার শব্দে শিক্ষার্থীদের ঘুমের ব্যত্যয় ঘটলেও ঘুম ভাঙেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

 

সরেজমিন দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলের ছাদের উপরে থাকা ৫টি পানির ট্যাংকের মধ্যে দুটি ট্যাংক থেকে প্রতি মিনিটে অন্তত ২০ লিটার পানি নষ্ট হচ্ছে। হিসেব করলে ঘণ্টায় প্রায় এক হাজার ২০০ লিটার বিশুদ্ধ পানি অপচয় হচ্ছে।

সেই হিসাবে প্রতিদিন ২৮ হাজার ৮০০ লিটার পানি নষ্ট হচ্ছে। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮ লাখ ৬৪ হাজার লিটার।  

অপচয় হওয়া এ পানির পুরোটাই খাওয়ার উপযুক্ত করে বিশুদ্ধ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পাম্পিং সিস্টেমের মাধ্যমে। অথচ মাত্র তিন থেকে চারশ’ টাকা খরচ করে ট্যাংকে লাগানো হয়নি ফ্লোট সুইচ। যার ফলে ট্যাংক ভর্তি হয়ে উপচে পড়ছে পানি।

আলাওল হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পানির ট্যাংকগুলো আগে নিচেই ছিল। কয়েক মাস আগে ট্যাংকগুলো চারতলার ওপরে তোলা হয়েছে। এরপর থেকেই প্রতিনিয়ত পানি নষ্ট হচ্ছে এভাবে। দিনরাত বৃষ্টির মতো পানি পড়ার শব্দ শোনা যায়। পানির অপচয় বন্ধে হলের শিক্ষার্থীরা প্রকৌশল দফতর, হল কর্তৃপক্ষ, হলের কর্মচারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টদের কাছে বিভিন্ন সময় ধন্নাও দিয়েছেন । কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

চবির প্রকৌশল দফতরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ছৈয়দ জাহাঙ্গীর ফজল বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের কাজ হলো প্রতিটি হলের নিচে একটা পানির ট্যাংক থাকে, আমাদের কাজ সেখান পর্যন্ত পানি পৌঁছে দেওয়া। সেই ট্যাংকে যদি কোনো সমস্যা থাকে বা সেখান থেকে যদি পানি নষ্ট হয়, সেটা দেখাশোনা করা। কিন্তু আলাওল হলের পানিগুলো নষ্ট হচ্ছে তাদের নিজস্ব ট্যাংক থেকে। তাই এর জন্য হলের কর্মচারীরা দায়ী। তাই পানি অপচয়ের দায়ভার হল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরিদুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, পানি পড়ার বিষয়টি আমি জানতাম না। পানি ছেড়ে সময়মতো বন্ধ করে দিলেই এ সমস্যাটা হয় না। আমি কথা বলে পানি পড়া বন্ধের ব্যবস্থা করবো।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির জন্য স্থাপন করা একটি পানির ট্যাংক থেকে মাসে সাড়ে তিন লাখ লিটারের বেশি পানি অপচয় হতো। চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলানিউজে 'চারশ টাকা বাঁচাতে গিয়ে মাসে অপচয় সাড়ে তিন লাখ লিটার পানি' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।  

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৫, ২০২২
এমএ/পিডি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa