ঢাকা, সোমবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৭ মে ২০২৪, ১৮ জিলকদ ১৪৪৫

দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা

বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণের পাচার বেড়েই চলেছে, উদ্বিগ্ন প্রশাসন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯০০ ঘণ্টা, মার্চ ১০, ২০২৩
বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণের পাচার বেড়েই চলেছে, উদ্বিগ্ন প্রশাসন

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার বর্ডার আউট পোস্টের মালিদা সীমান্ত থেকে বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) ২৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বাজেয়াপ্ত স্বর্ণের ওজন ২ কেজি ৬৮৩ গ্রাম ০৪ মিলিগ্রাম।

 

জানা গেছে, এসব স্বর্ণ বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছিল। যার ভারতীয় বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ রুপির মতো।    

শুক্রবার (১০ মার্চ) বিএসএফ তরফে জানা গিয়েছে, পাচারের বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই তাদের কাছে গোপন সূত্রে খবর এসেছিল। সেই খবর পাওয়ার পর থেকেই পাচারকারীদের ধরতে ছক কষেছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। নির্দিষ্ট স্থানে রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা দেখতে পান, বাংলাদেশের দিক থেকে কাঁটাতারের কাছে এক ব্যক্তি আসছেন। তার গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় বিএসএফ বাহিনীর। বাহিনী তাকে থামতে বললে তিনি কাঁটাতারের উপর দিয়ে একটি প্যাকেট ছুঁড়ে বাংলাদেশের দিকে ফিরে যায়। এরপরে বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে একটি প্যাকেট থেকে ২৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে। বিএসএফ সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে তাদের ঊর্ধ্বতন কমান্ডারকেও বিষয়টি জানান। ইতোমধ্যে ওই স্বর্ণের বার বাগদা কাস্টমস বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় পাচারকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

তবে এ ধরনের ঘটনা সীমান্তে হামেশাই চলছে বলে বিএসএফের তরফে জানানো হয়েছে। গত ৬ মার্চ ভারতীয় বর্ডার আউট পোস্ট (কল্যাণী) দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তে, একটি সূত্রের মারফত খবর পেয়ে পুকুর থেকে ৪০টি স্বর্ণের বিস্কুট উদ্ধার করে বিএসএফ। জব্দ করা স্বর্ণের ওজন ওজন প্রায় ৪ কেজি ৬শ গ্রাম। ভারতীয় বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫৭ লাখ রুপির মতো। ধারণা, ওই স্বর্ণও বাংলাদেশ হয়ে ভারতে পাচার হয়েছিল।

এরও আগে গত ২ মার্চ, পশ্চিমবঙ্গের জয়ন্তীপুর সীমান্ত থেকে ২২টি স্বর্ণের বার উদ্ধার এবং দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিএসএফ। এই স্বর্ণের বারগুলোও বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হয়েছিল। ২২টি স্বর্ণের বারসহ দু’জনকে আটক করেছে সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার, বিএসএফ। উদ্ধার হওয়া ২২টি স্বর্ণের বারের মোট ওজন ২ কেজি ৫৬৬ গ্রাম, আটক স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৪৪ লাখ রুপির কিছু বেশি। পরে ২২টি স্বর্ণের বার ও আটককৃত দুই ব্যক্তিকে জয়ন্তীপুর পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, জহির হুসেন মোল্লা এবং গিয়াসউদ্দিন মন্ডল নামে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার বাসিন্দা। গোপন সূত্রে বিএসএফ খবর পেয়ে ওই দুই পাচারকারীর মোটরসাইকেল তল্লাশি চালিয়ে সিটের নিচে কালো রঙের কাপড়ে মোড়ানো একটি ব্যাগের মধ্য থেকে ২২টি স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করে। বাহিনীর জেরায়, ভারতীয় দুই পাচাকারী স্বীকার করে যে তারা, করিম মন্ডল নামে বাংলাদেশি যশোরের বাসিন্দার কাছ থেকে স্বর্ণের বারগুলো নিয়েছিল। স্বর্ণগুলো উত্তর ২৪ পরগণার রাজু বিশ্বাসের হাতে তুলে দিলে তারা বিশ হাজার রুপি পেত। যদিও তাদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয় বিএসএফ। জব্দকৃত স্বর্ণ পেট্রাপোল কাস্টম অফিস হস্তান্তর করে বিএসএফ।

বিএসএফের তথ্য মতে, অতীতে চোরাকারবারিরা মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশে স্বর্ণ লুকিয়ে রাখা, আমদানি-রফতানি ট্রাকের কেবিন ও সীটের নিচে, কাঁটাতার টপকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া, চপ্পল বা শাড়িতে লুকিয়ে রাখা, স্কুলের শিশুদের ব্যাগে ভেতর লুকিয়ে রাখা, কৃষিকাজে লুকিয়ে রাখাসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এছাড়া শরীরের নীচের অংশে বা সীমান্ত ঘেষা বাজারে মাছ বিক্রির অজুহাতে মাছের মধ্যে লুকিয়ে রাখা, যাত্রীদের লাগেজেসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে লুকিয়ে রাখা থেকে স্বর্ণ উদ্ধার করেছে বিএসএফ।

এ বিষয়ে দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসএফ কর্তারা নিজেদের তথ্যের সুবিধার জন্য একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি বিএসএফের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের মুখপাত্র বলেছেন, যে চোরাকারবারিরা বিভিন্ন উপায়ে পাচার করার চেষ্টা করছে। কিন্তু, বিএসএফ সদস্যদের সতর্কতা এবং বোঝাপড়ার কারণে, চোরাকারবারিরা ক্রমাগত ধরা পড়ছে এবং তাদের পরিকল্পনা ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছে।

বিএসএফের তথ্য মতে গতবছর এই দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তর দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসএফ কর্তারা, বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হওয়া ১১৩ কেজিরও বেশি স্বর্ণ উদ্ধার করেছিল। যদিও চলতি বছরের বিগত কয়েকদিনে সীমান্ত এলাকায় লাগাতার স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনিক মহলে। সতর্ক রয়েছে বিএসএফ। পাচারকারীদের ধরতে রোজই নিত্যনতুন ফাঁদ পাতছে প্রশাসন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৫৮ ঘণ্টা, মার্চ ১০, ২০২৩
ভিএস/এসএ
 

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।