আগরতলা(ত্রিপুরা): চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আগরতলা-আখাউড়া নির্মাণাধীন রেলপথের কাজ শেষ হবে এবং ট্রেন পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ভারত সরকারের রেলমন্ত্রণলায়ের প্রতিমন্ত্রী রাও সাহেপ পাতিল দাংভে।
তিন দিনের জন্য ত্রিপুরা সফরে এসে তিনি বিভিন্ন নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন।
শুক্রবার (২২ এপ্রিল) তার সফরের শেষ দিন তিনি আগরতলা-আখাউড়া নির্মাণাধীন রেলপথের ভারতীয় অংশের কাজ পরিদর্শন করেন। সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ বিছানোর কাজ পরিদর্শনের পাশাপাশি সীমান্তে ভারতীয় অংশের দিকের শেষ স্টেশন নিশ্চিন্তপুর ঘুরে দেখেন।
এরপর তিনি রাজ্য অতিথিশালায় সংবাদ সম্মেলন করে একথা জানান ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, এই রুটে ট্রেন পরিষেবা চালু হলে একদিকে যেমন বাংলাদেশ এবং ত্রিপুরার মধ্যে যোগাযোগ আর দ্রুত হবে।
তিনি আরও বলেন, কলকাতার ও ত্রিপুরা যোগাযোগের সময় আর কমে যাবে। আগরতলা থেকে এখন গৌহাটি হয়ে ঘুর পথে জাতীয় রাজধানী দিল্লী যেতে সময় লাগে প্রায় ৩৮ ঘণ্টা। আগরতলা আখাউড়া রেল চালু হলে ২২ ঘণ্টা সময় কম লাগবে, মাত্র ১৬ ঘণ্টায় দিল্লী পৌঁছানো যাবে।
‘ত্রিপুরা রাজ্যের দক্ষিণ জেলার সাব্রুম রেলওয়ে স্টেশনটি বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া। এই স্টেশনটিকে সুন্দরভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে স্টেশন থেকে বাংলাদেশের বিকল্প রাস্তায় রেল সংযোগ স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ’
রাজ্যের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তের সাব্রুম রেলওয়ে স্টেশনটিকেও মাল্টি মডেল ট্রান্সপোর্ট হাব হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। ট্রেন পরিষেবার পাশাপাশি নৌ এবং সড়কপথে এই স্টেশন থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে।
পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, আগরতলা থেকে আসামের লামডিং পর্যন্ত যে রেলপথ রয়েছে এই রেলপথে ডাবল লাইন বিছানোর জন্য জরিপ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিন দিনের এই সফরে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব'র সাক্ষাৎ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাকালে আগরতলা থেকে সরাসরি ভারতের বাণিজ্য রাজধানী মুম্বাই এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে ট্রেন পরিষেবা চালু করার বিষয়েও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫১৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২২, ২০২২
এসসিএন/এনএইচআর