ঢাকা, বুধবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭ শাবান ১৪৪৫

অর্থনীতি-ব্যবসা

৭৩ বছরে মোংলা সমুদ্রবন্দর

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১, ২০২৩
৭৩ বছরে মোংলা সমুদ্রবন্দর

বাগেরহাট: ৭৩ বছরে পদার্পণ করল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

দিনটি উপলক্ষে শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সকালে বন্দর চত্বরে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা ও বাইবেল পাঠ, কেক কাটা, সর্বোচ্চ বন্দর ব্যবহারকারীদের ক্রেস্ট দেওয়া, কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য নির্বাচিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের ক্রেস্ট দেওয়া, বিদায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রেস্ট দেওয়াসহ নানা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আ. খালেক।  

এ সময় সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তা, বন্দরের পদস্থ কর্মকর্তা, বন্দর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা, মোংলা প্রেসক্লাব সদস্যরা, সিবিএ নেতারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্দর সদর দপ্তর মোংলা ও খুলনাস্থ বন্দর এলাকায় আলোকসজ্জা করা হয়। রাত ১২টা ১ মিনিটে বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি সব জাহাজে ১ মিনিট বিরতিহীন হুইসেল বাজানো হয়। বন্দরের অগ্রগতি কামনা করে সব মসজিদে দোয়া মোনাজাত আয়োজন করেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে সুন্দরবনের পাশে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা পশুর নদীর পাড়ে স্থাপিত করা হয় এ সমুদ্র বন্দরটি। প্রথমে চালনা বন্দর নামে মোংলায় যাত্রা শুরু করে দেশের সম্ভাবনাময় এ সমুদ্র বন্দরটি। ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর বন্দরে বিদেশি একটি ব্রিটিশ বণিক জাহাজ ‘দি সিটি অব লিয়নস’ মোংলা বন্দরে প্রথম নোঙর করে। সমুদ্রগামী জাহাজ নোঙরের ক্ষেত্রে মোংলা অধিকতর সুবিধাজনক হওয়ায় ১৯৫৪ সালে বন্দরটি চালনা থেকে মোংলায় স্থানান্তর করা হয়। তখন মোংলা বন্দর দীর্ঘদিন ধরে চালনা নামেই পরিচিত ছিল। বন্দর প্রতিষ্ঠার পর এটি প্রথমে চালনা অ্যাঙ্কর পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালে ‘চালনা পোর্ট কর্তৃপক্ষ এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সাল থেকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ হিসাবে যাত্রা শুরু করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, এক সময়ের মৃত বন্দর আজ বিশ্বের দরবারে একটি আন্তর্জাতিক মানের বন্দরে রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় মোংলা বন্দরকে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার জন্য বেশ কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যা এখন চলামান রয়েছে। একটি বন্দরে প্রাণ হলো মূল চ্যানেল, বন্দরের সেই পশুর চ্যানেল নাব্যতা রক্ষায় আউটারবার ড্রেজিং শেষ করে এখন ইনার বার ড্রেজিং চলছে। এছাড়া, কার্গো ও কনটেইনার সংরক্ষণের সুবিধাদি বাড়ানো এবং আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ করা। আধুনিক কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, গাড়ি ইয়ার্ড নির্মাণ, জয়মনিরঘোলে মাল্টি-পারপাস জেটি নির্মাণ, আকরাম পয়েন্টে ভাসমান জেটি নির্মাণ, হিরণ পয়েন্ট পাইলট স্টেশনের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং জ্যাফর্ড পয়েন্টে লাইট হাউজ ও ভবন নির্মাণ, যাবতীয় সুবিধাদিসহ হ্যালিপ্যাড ও হ্যাঙ্গার নির্মাণ ও হেলিকপ্টার ক্রয়, উদ্ধারকারী জলযান সংগ্রহসহ আরও অনেক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে এ বন্দরকে ঘিরে। যার একমাত্র অবদান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের।  

মোংলা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী বলেন, মোংলা বন্দরে চলমান চ্যানেল ড্রেজিংয়ের ফলে সম্প্রতি ৬০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে বন্দরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লাইবেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজ এমভি মানা সরাসরি মোংলা বন্দরে আগমন করে। এছাড়াও বন্দর জেটিতে ৮ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজও আগমনের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে এ বন্দর। তাই মোংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল বন্দরে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে এবং অচল বন্দরকে সচল ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বন্দরে ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আরও উদ্যোগে এবং সহনশীল হয়ে মোংলা বন্দরের সুনাম রক্ষায় সবার সহযোগিতার আহ্বান জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ।  

১৯৫০ সালের এ দিনে চালনা অ্যাংকারেজ পোর্ট নামে মোংলা সমুদ্র বন্দরের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নানা সমস্যা মোকাবিলা করে পণ্য আমাদানি-রপ্তানি ও সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে মোংলা সমুদ্র বন্দর, যা আগামী দিনেও এ উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যবহৃত থাকবে বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০১, ২০২৩
এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।