ঢাকা, শনিবার, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ১৫ মে ২০২১, ০২ শাওয়াল ১৪৪২

অর্থনীতি-ব্যবসা

পদ্মা সেতুর নকশার অতিরিক্ত ব্যয়সহ সাত প্রকল্পের দরপত্র অনুমোদন

স্টাফ করেসডন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩৪ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১১
পদ্মা সেতুর নকশার অতিরিক্ত ব্যয়সহ সাত প্রকল্পের দরপত্র অনুমোদন

ঢাকা: পদ্মা সেতুর নকশা তৈরির অতিরিক্ত ব্যয়সহ সাত প্রকল্পের দরপত্র অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

সোমবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে এ দর প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।



অনুমোদিত অন্যান্য দর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- কাশিয়ানী থেকে টুঙ্গীপাড়া পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ, ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ব্যবহারের জন্য ২ লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল ক্রয়, ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প, ঢাকা ওয়াসার জন্য ডিজেলচালিত ২শ’ জেনারেটর ক্রয় এবং ৩০ হাজার মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল ও ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম ক্রয়।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী পদ্মা সেতুর নকশা তৈরিতে অতিরিক্ত ব্যয় সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান, অনেকগুলো সমীক্ষা চালাতে হয়েছে। ২৮টি সমীক্ষা হয়েছে, নদীর ড্রেজিং নিয়েও সমীক্ষা হয়েছে। ফলে কাজের পরিধি আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। এ কারণে ব্যয় বেড়েছে এবং সময়ও লাগছে বেশি।

উল্লেখ্য, নকশা তৈরিতে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে ৫১ কোটি টাকা। এর আগে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১১৪ কোটি টাকা।
 
অনুমোদিত অন্যান্য দর প্রস্তাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরেকটি হচ্ছে কাশিয়ানী থেকে টুঙ্গীপাড়া পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং একই সঙ্গে কালুখালী থেকে ভাটিয়াপাড়া পর্যন্ত রেলপথ সংস্কার করা হবে।

এতে ব্যয় হবে ২৪৮ কোটি ৮২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান জিপিটি ও কেপিটিএল যৌথভাবে এ রেলপথ নির্মাণ করবে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের যেসব জেলায় রেলপথ নেই সেসব স্থানে রেলপথ স্থাপনের লক্ষ্যে সরকার একটি উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসাবে এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক সময় লাগে।
 
এছাড়া ভাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহারের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল ক্রয় করা হবে।

এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রথম ধাপে ৮০ হাজার মেট্রিক টন টন ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টনের জন্য প্রিমিয়াম দিতে হবে ৩১ দশমিক ৫০ ডলার এবং মোট ব্যয় হবে ৩০৫ কোটি টাকা।

ইন্দোনেশিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসপি এ ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করবে।
 
ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। মেসার্স ন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
 
ঢাকা ওয়াসার জন্য ডিজেলচালিত ২শ’ জেনারেটর কিনতে ব্যয় হবে ৫১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেড এ জেনারেটরগুলো সরবরাহ করবে।
 
এছাড়া বৈঠকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার দর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

প্রতি মেট্রিক টন ৫৩০ দশমিক ২৪ ডলার হিসাবে চাল আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ১১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং  প্রতি মেট্রিক টন ৩৬২.৯০ ডলার হিসাবে গম আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ১৩০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

চাল সরবরাহ করবে মেসার্স ওলাম ইন্টারন্যাশনাল ও গম সরবরাহ করবে মেসার্স এলএমজে ইন্টারন্যাশনাল।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১১

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa