ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ আগস্ট ২০২২, ১৯ মহররম ১৪৪৪

অর্থনীতি-ব্যবসা

মজুরি কাঠামো মেনে নিয়েছেন শ্রমিকরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৫৭ ঘণ্টা, আগস্ট ১, ২০১০
মজুরি কাঠামো মেনে নিয়েছেন শ্রমিকরা

ঢাকা: সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি কাঠামো মেনে নিয়েছেন শ্রমিকরা। রোববার রাতে শ্রমিক-মালিক-সরকার পক্ষের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা এ ঘোষণা দেন।



বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার থেকে সব পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হবে এবং শ্রমিকরা যাতে শান্তিপূর্নভাবে কারখানায় কাজ করতে পারে এর ব্যবস্থা করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।  

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সরকার-শ্রমিক-মালিক ও ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিজিএমইএ কার্যালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান পোশাক শিল্পে চলমান নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৭ দফা সুপারিশ পেশ করেন। সুপারিশগুলো হলো- মজুরি সমর্থনে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল মিটিং সাংবাদিক সম্মেলন করা, গোলোযোগে জড়িতদের চি‎িত করে তাদের নাম প্রকাশ করা, প্রত্যেক কারখানায় শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকদের বৈঠক করা, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রয়োজন হলে আইন প্রণয়ন করা, এনজিওগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি রাখা, শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানাগুলোতে অংশগ্রহণমূলক কমিটি গঠন এবং ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।

শ্রকিদের পক্ষ থেকে আমিনুল হক আমিন বলেন, ‘৪২টি শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। তারা সবাই বেতন কাঠামো মেনে নিয়েছেন। ’

সরকারের বিবেচনার জন্য তিনি তিনটি সুপারিশ করেন। সুপারিশগুলো হলো- শ্রকিদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, হাসপাতাল ও আবাসিক ভবন নির্মাণ।

শ্রমিক নেতা রায় রমেশ চন্দ্র বলেন, ‘বিগত তিন দিন যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে এর বিরুদ্ধে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার বলেন, ‘ন্যূনতম মজুরি আমরা মেনে নিয়েছি। যদি কোনো কারখানার কোনো সমস্য দেখা দেয় সবাই মিলে এর প্রতিরোধ করব। ’

শ্রমিক নেতা শামীম আক্তার বলেন, ‘আগামীকাল থেকেকারখানা চলবে। কেউ ভাঙচুর করতে এলে আমরা সবাই মিলে প্রতিহত করব। ’

বিকেএমইএ এর সভাপতি সেলিম ওসমান বলেন, ‘যারা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তারা শ্রমিকদের স্বার্থ চায় না। তাদের চি‎ি‎ত করতে হবে। মালিক শ্রমিক সরকার মিলে এদের প্রতিহত করতে হবে। ’

বিজিএমইএ এর সভাপতি আব্দুস সালাম মোর্শেদী বলেন, ‘আগামীকাল থেকে সব বন্ধ কারকানা খুলে দেওয়া হবে। ’

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সব কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকদের কাজ করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে শ্রমমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, ‘ঘোষিত মজুরি কাঠামোয় ৬ ও ৫ নম্বর গ্রেড নিয়ে শ্রমিকরা বৈঠকে আপত্তি তুলেছে। এ ব্যাপারে শ্রমিকদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলে বিবেচনা করা হবে। ’

এছাড়া শ্রম মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে শ্রমিকদের জন্য শিগগিরই রেশনিং ব্যবস্থা, ডরমিটরি ও হাসপাতাল নির্মাণ করবেন বলে ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকের এ বৈঠকের পর থেকে পোশাক শিল্পের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে। ’

সব কারখানা খুলে দেওয়ার জন্য মালিক পক্ষের কাছে তিনি অনুরোধ করেন। এছাড়া যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি একে আজাদ, মজুরি বোর্ডের সদস্য টিপু মুন্সি, শিরিন আক্তার, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. ইসরাফিল আলম প্রমুখ।
 
বাংলাদেশ সময়: ২৩৪২ ঘণ্টা, আগস্ট ০১, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa