বেগুনের তো গুণেরই শেষ নেই! করলা, পেঁপে, লাউ শোভা পাচ্ছিলো সবুজের সমারোহ। সবজিগুলো ক্ষেত থেকে তুলে কৃষক সরাসরি বিক্রি করতে বাজারে নিয়ে এসেছেন।
বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী মহাস্থান বাজারে তোলা হয়েছে রকমারি শীতকালীন সবজি। প্রতিদিন শিবগঞ্জ উপজেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত কৃষক এ বাজারে তাদের জমির উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে আসেন।
কাকডাকা সকাল থেকে তাদের এ বেচাবিক্রির আয়োজন চলে। ক্ষেত থেকে সবজি ওঠানোর পর ভটভটি, ভ্যান, রিকশা, সাইকেল, ভারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সকাল ৭টার মধ্যেই কৃষকরা সবজি নিয়ে হাজির হন এ বাজারে।
বাজারে পা রাখা মাত্র স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা তাদের ঘিরে ধরেন। পরে পাইকাররা দামদর করে সবজি কিনতে শুরু করেন। তবে বর্তমানে বেশিরভাগ সবজি একদরেই বেচাবিক্রি হচ্ছে। কারণ বাজারে সবজির টানা রয়েছে। দামও খানিকটা বেশি।
জাহাঙ্গীর আলম, বেদার উদ্দিন, ফজলু মিয়াসহ একাধিক কৃষক বাংলানিউজকে জানান, জেলার ঐতিহ্যবাহী মহাস্থান বাজার সবজির বৃহৎ মোকাম। যে কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এ মোকামে নিয়মিত আসেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে বড় বড় পাইকাররাও কেনাকাটার জন্য এ মোকামের ওপর নির্ভরশীল। তাই সব সময়ই মহাস্থান বাজারে পণ্যের ব্যাপক টান থাকে।
বাজারে আলু, মূলা, বেগুন, মরিচ, গাঁজর, শিম, পেঁয়াজ, ফুলকপি, পটল, ঢেঁড়স, পালং ও লাল শাক, করলা, ঝিঙা, বরবটি, শসা, শোলুকপাতা, ছাচি লাউ, মিষ্টি লাউ, আদা, রসূনসহ সব ধরনের সবজি পাওয়া যায়।
এরমধ্যে আলু ২৫ টাকা কেজি, বেগুন ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, শুকনো মরিচ ২০০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, গাঁজর ১২০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, পালং শাক ৮০ টাকা, লাল শাক ৬০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, শসা ১০০ টাকা, আদা ৮০ টাকা, রসূন ১২০ টাকা, মিষ্টি লাউ পিস ৩০ টাকায় পাইকারি দরে বেচাবিক্রি হচ্ছে। যা স্থানীয় খুচরা বাজারে এসে কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়ে যাচ্ছে।
আবুল হোসেন, আব্দুল জলিল, ইব্রাহিম হোসেনসহ একাধিক পাইকার বাংলানিউজকে জানান, সবজি কিনতে তারা নিয়মিত এ মোকামে আসেন। কারণ এখানে চাহিদামত প্রায় সব ধরনের টাটকা সবজি পাওয়া যায়। এ মোকামের সিংহভাগ সবজি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাজারে যায় বলেও জানান এসব পাইকার।
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৭ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৭, ২০১৭
এমবিএইচ/জেডএস