ঢাকা, সোমবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৭ মে ২০২৪, ১৮ জিলকদ ১৪৪৫

অর্থনীতি-ব্যবসা

ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে উন্নতি করতে বিচার ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩২ ঘণ্টা, এপ্রিল ৩, ২০২১
ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে উন্নতি করতে বিচার ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন

ঢাকা: ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে উন্নতি করতে বিচার ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান (সালমান এফ রহমান) 

সালমান ফজলুর রহমান বলেন, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকার বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কার সিদ্বান্ত বাস্তবায়ন করেছে এবং আগামীতে তা অব্যাহত থাকবে।

শনিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা: ব্যবসা পরিচালন সূচকে অন্যতম অনুষঙ্গ’ শীর্ষক ওয়েবিনার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।



তিনি বলেন, বিডার ওএসএস সেবা পুরোদমে চালু হলে ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা আরো সহজতর হবে।  

তিনি আরো বলেন, আমাদের জিডিপিতে করের অবদান খুবই কম এবং যতবেশি করের আওতা বাড়ানো যাবে ততই করের হার কমানো সম্ভব হবে এবং এটি আমাদের ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।  

এফ রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সব বন্দরসমূহের সক্ষমতা বেড়েছে, তবে এক্ষেত্রে আরো উন্নয়নে জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।  

তিনি বলেন, সরকার গৃহীত বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বে টার্মিনাল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর, কক্সবাজার ২য় বৃহত্তম এয়ারপোর্ট, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগসহ পদ্মা সেতুর মত বৃহৎ প্রকল্পসমূহের কাজ সম্পন্ন হলে আমাদের অর্থনীতিকে যুগান্তকারী পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে। সামনের দিনগুলোতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা মোকাবিলার জন্য সরকার মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে আরো বেশি হারে গুরুত্বারোপসহ বিশেষ বরাদ্দ বৃদ্ধির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এছাড়াও তিনি মামলা পরিচালনার দীর্ঘসূত্রিতা নিরসনকল্পে ‘মামলার সময় ব্যবস্থাপনা’ উন্নয়নের প্রতি জোরারোপ করেন।

বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সরকার অনেক সময় বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সত্ত্বেও ব্যাংক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে তা যথাসময়ে না পৌঁছানোর জন্য জরিপের সময় কম পয়েন্ট পেতে হয়। এতে সংস্কার করেও তেমন লাভ হয়না। এজন্য যেকোনো সংস্কারের সংবাদ দ্রুততম সময়ে ব্যবসায়ী মহলসহ সব স্তরে যেন সবাই প্রচার করে তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।    

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, ব্যবসা পরিচালনার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নয়নে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তাবায়ন করেছে।  

তিনি বলেন, আরবিট্রেশন, ব্যবসায়িক চুক্তি বাস্তবায়ন এবং দেউলিয়াত্ব প্রভৃতি বিষয়ে দেশের বেসরকারিখাতকে সরকারের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার সহায়তা দেওয়া হবে।  
তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য বিরোধ বিষয়ক মামলা পরিচালনায় ই-জুডিসিয়ারি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে যার আওতায় ই-ফাইলিং, প্রমাণাদি সংরক্ষণে ডিডিটাল ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হবে, ফলে এ ধরনের বিরোধ দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।  

ওয়েবিনারের স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, বাংলাদেশে বাণিজ্য বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সাধারণ প্রায় ৪ বছর সময় লেগে যায়, তবে পৃথিবীর অনেক দেশ বাণিজ্য বিষয়ক আইনি প্রক্রিয়ার এ ধরনের দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাসকরণে সংশ্লিষ্ট আইনের যথাযথ প্রয়োগ, কোর্ট কার্যক্রমের অটোমেশন, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের প্রবর্তন, বিশেষায়িত বাণিজ্যিক কোর্ট চালুকরণ এবং এডিআর কার্যক্রমের সম্প্রসারণের ওপর অধিক হারে জোরারোপ করছে।  

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, সাত্তার অ্যান্ড কোং-এর প্রধান মো. সামির সাত্তার।  

ওয়েবিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জগন্নাথ চন্দ্র ঘোষ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) পরিচালক জীবন কৃষ্ণ সাহা রয়, জেট্রো বাংলাদেশের প্রতিনিধি কাজিমুরি ইয়ামাডা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং সিইও আহসান খান চৌধুরী এবং ওরিক্স বায়ো-টেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  ডেভিড বাও আলোচক হিসেবে অংশ নেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৩, ২০২১
এসএমএকে/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।