ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ০৭ জুলাই ২০২২, ০৭ জিলহজ ১৪৪৩

অর্থনীতি-ব্যবসা

বন্ধ পাটকলের পাওনা পরিশোধে ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭১৩ ঘণ্টা, মে ২৫, ২০২২
বন্ধ পাটকলের পাওনা পরিশোধে ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ

ঢাকা: বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) বন্ধ মিলগুলোর পাওনা ও অন্যান্য দায়-দেনা পরিশোধে ৫৭৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এই অর্থ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনা, কাঁচা পাট সরবরাহকারীদের পাওনা ও অন্যান্য দায়-দেনা পরিশোধে খরচ করা হবে।

২০২১-২২ অর্থবছরের অর্থ বিভাগের সংশোধিত বাজেটে ‘পরিচালন ঋণ’ খাত থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) অনুকূলে ‘পরিচালন ঋণ’ হিসেবে ৫৭৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা  বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত এ অর্থ ৩২৭ কোটি ৭ লাখ টাকা ১৯৮০ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাওনা, ২ হাজার ২১৭ জন কাঁচা পাট সরবরাহকারীদের পাওনা বাবদ ২৩৪ কোটি ৯১ লাখ এবং এক হাজার ১১৯ জন স্টোর সরবরাহ/ক্যারিং সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের পাওনা বাবদ ১২.১৬ টাকা ব্যতীত অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না। বরাদ্দ অর্থ সংশ্লিষ্ট মিলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, কাঁচা পাট সরবরাহকারী এবং স্টোর সরবরাহ/ক্যারিং সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের সুনির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১০ মে তারিখে স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়, আগামী ২০ বছরে (৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ) ৫ শতাংশ সুদে ষান্মাসিক কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আর এ জন্য অর্থ বিভাগের সঙ্গে বিজেএমসিকে একটি ঋণ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

চিঠিতে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী/কাঁচা পাট সরবরাহকারী/স্টোর সরবরাহ বা ক্যারিং সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধকালে বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ তাদের পাওনার বিষয়টি সরকারি বিধি-বিধানের আলোকে পুনরায় যাচাই বাছাই করে নিশ্চিত হয়ে পাওনা পরিশোধ করবে। পাওনা পরিশোধকালে পাওনার বিষয়ে কোনো অসঙ্গতি দৃষ্টিগোচর হলে বিজেএমসি/মিল কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে হবে। বরাদ্দ অর্থ ব্যয়ে সরকারের বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে। বিধি বহির্ভূতভাবে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, কোনো অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট মিল অথবা বিজেএমসির বিরুদ্ধে কোনো মামলা করে থাকলে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী মামলার সকল ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর আদালতের রায় অনুযায়ী অথবা উক্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে মামলা প্রত্যাহারপূর্বক লিখিত আবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাদের পাওনা পরিশোধের বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যক্তিগত দায় বা নিরীক্ষা আপত্তি থেকে থাকলে সেই আপত্তি নিষ্পত্তি হবার পর যথাযথ বিধি-বিধানের আলোকে পাওনাদি পরিশোধ করতে হবে। অব্যয়িত অর্থ পরবর্তীতে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

এছাড়াও, বরাদ্দ অর্থ ব্যয়ের ৭ (সাত) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মিলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মতর্কা-কর্মচারী/কাঁচা পাট সরবরাহকারী/স্টোর সরবরাহ বা ক্যারিং সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের তালিকাসহ বিস্তারিত ব্যয় বিবরণী অর্থ বিভাগে দিতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭১১ ঘণ্টা, মে ২৫,২০২২
জিসিজি/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa