ঢাকা, শনিবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯, ০২ জুলাই ২০২২, ০১ জিলহজ ১৪৪৩

অর্থনীতি-ব্যবসা

মাগুরায় বেড়েছে চালের দাম

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩০ ঘণ্টা, মে ২৭, ২০২২
মাগুরায় বেড়েছে চালের দাম ফাইল ছবি

মাগুরা: মাগুরায় সবজির বাজার নিম্নমুখী থাকলেও দাম বেড়েছে চালের। এতে মাথায় হাত উঠেছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের।

ফলে অনেকে খাবারের তালিকায় আমিষের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

মাগুরায় ভরা মৌসুমে নজিরবিহীন ঊর্ধ্বগতি চালের বাজারে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কেজিতে দাম বেড়েছে ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত।

জেলার পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, নাজিরশাইল কেজিতে ১২টাকা, মিনিকেট ১০টাকা এবং স্বর্ণ সিদ্ধের দাম কেজিতে ৭টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম নাজিরশাইলের ১০ টাকা এবং মিনিকেটের বেড়েছে ৪ থেকে ৬ টাকা ।
মাগুরা নতুন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ বেশ ভাল, দামও রয়েছে হাতের নাগালে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু ২০ টাকা, করলা ২৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা, বেগুন ৩৫ টাকা। এছাড়া ফুলকপি ৫০টাকা, ঢেঁড়স ২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে মাছ মাংস ও ডিমের বাজারে দাম অপরিবর্তীত আছে। প্রতি কেজি খাসির মাংস ৯শ টাকা, গরুর মাংস সাড়ে ৭শ থেকে ৮শ টাকা, বয়লার মুরগী ১৮০ এবং সোনালী ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের মিল না থাকায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে নিত্যপণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
রিকশাচালক মো. কামাল শেখ বলেন, পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৬ জন। আমার একার আয়ে নির্ভর করে গোটা পরিবার চলে। আগে প্রতিদিন যে আয় করতাম, এখন তার থেকে অনেক কম হচ্ছে। অথচ বাজারে সবকিছুরই দাম  বেড়েছে। আগে যেখানে সপ্তাহে  দুই থেকে তিন দিন মাংস দিয়ে ভাত খেয়েছি, এখন সেখানে একদিন খাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

মাগুরা শিব রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ সাহা বলেন, বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকায় হতাশার ছাপ পড়েছে। একজন দিনমজুরের প্রতিদিন আয় ৪শ টাকা থেকে ৫শ টাকা; কিন্তু ব্যয় করতে হচ্ছে তার তুলনায় বেশি। ফলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তিনিও সঠিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।

এদিকে ব্যবসায়ারী বলছেন চালের দাম বাড়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানি না। তবে মিলারদের থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই  খুরচা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এখন কী কারণে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী তা বলতে পারছি না।

অপরদিকে মাগুরার জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মিনিটরিং করা হচ্ছে। তাছাড়া জেলা বিপনন কর্মকর্তারা নিয়মিত বাজার তদারকি করছেন। আশা করছি কিছু দিনের মধ্যেই বাজারে পণ্যের দাম  নিম্নমুখী হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩০ ঘণ্টা, ২৭ মে, ২০২২
এমএমজেড

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa