ঢাকা, রবিবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ১৯ মে ২০২৪, ১০ জিলকদ ১৪৪৫

শিক্ষা

পিসি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষকদের পুনর্মিলনী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২০১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৪
পিসি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষকদের পুনর্মিলনী ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বাগেরহাট: বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী সরকারি পিসি কলেজের (আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র মহাবিদ্যালয়) প্রাক্তন শিক্ষক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুনর্মিলনী উৎসব পালিত হয়েছে। প্রাক্তন শিক্ষকদের সন্তানরা এ উৎসবের আয়োজন করে।


 
আশির দশক থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত অবসর নেওয়া পিসি কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে দিনভর পিসি কলেজ মাঠে প্রাক্তন শিক্ষকরা গান, গল্প ও স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে তাদের ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা অংশগ্রহণ করে।
 
পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নব্বইয়ের দশকে এ কলেজের দায়িত্বে পালন করা অধ্যক্ষ মুজিবর রহমান তার স্মৃতিচারণে বলেন, আমাদের সন্তানদের এ উদ্যোগ সত্যিই অসাধারণ। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আমার সময়ে যারা এখানে শিক্ষকতা করেছেন তারা অনেক অবসরে গেছেন কেউ এখনো কর্মরত রয়েছেন। অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠানে আবার দেখা হয়ে দারুণ লাগছে।  
 
তিনি আরো বলেন, আমি ভাবতেও পারিনি এদের সঙ্গে আবার নতুন করে দেখা হবে। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার গুণগত মান ধরে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি দিনদিন এগিয়ে যাচ্ছে। এখানে এখন ১৪ বিষয়ে স্নাতক ও ছয়টি স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে আমি অভিভূত মুগ্ধ।
 
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও প্রাক্তন শিক্ষকের সন্তান মোস্তফা রসুল বলেন, আমার বাবা গোলাম রসুল নব্বইয়ের দশকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। বাবার চাকরির সুবাদে এই প্রতিষ্ঠানটি যেন আমার নাড়ির বন্ধনে আঁকড়ে ধরেছে। বাবার সহকর্মী ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে এ কলেজে পড়ালেখা করেছি। ছাত্রজীবনে এই কলেজের অনেক স্মৃতি আজও আমাকে কাছে টানে।  
 
কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেনের ছোট ছেলে জাকির হোসেন বলেন, এটি দক্ষিণাঞ্চলের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ। এখান থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ সংসদ সদস্য হয়েছেন। তারা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।  
 
তিনি আরো বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এখনো জেলার সর্বশ্রেষ্ঠ। দিনদিন প্রতিষ্ঠানটি তার শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। অবসরে যাওয়া শিক্ষাগুরুদের একত্রিত করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরে যাওয়া শিক্ষাগুরুদের নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নেয় সেজন্য সবার কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।
 
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- অধ্যাপক মোজাফফর হোসেন, অধ্যাপক মতিনুল হক, অধ্যাপক এনায়েত হোসেন তালুকদার, অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুর রব, অধ্যাপক সুকণ্ঠ কুমার মণ্ডল এবং পিসি কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র হীরা।  
 
পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে দিনব্যাপী ওই পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।  
 
বাংলাদেশ সময়: ২২০২ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৪   

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।