সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় জাবির শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধনে প্রায় শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদারের সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘সরকার সম্প্রতি সম্রাজ্যবাদী ভারতের সঙ্গে নতজানু চুক্তি করেছে। এর বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে মেধাবীদের নির্মমভাবে গুম, খুন করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের পরিচালিত এহেন হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে দেয় দেশে গণতন্ত্রের লেবাসে স্বৈরতন্ত্র কায়েম হয়েছে। রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে পার পেয়ে যায়। এই রাষ্ট্রীয় অনাচরের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে জেগে উঠতে হবে। ’
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কস বাদী) সভাপতি মাহথির মোহাম্মাদ বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকার জন্য এই সরকার সম্রাজ্যবাদী ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করেছে। ফলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে এ অবস্থায় দেশের মানুষকে সজাগ হতে হবে। ’
জাহঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা এমন এক স্বাধীনতা আমরা পেলাম যেখানে মুক্ত চিন্তার কোনো দাম নেই। আজ শিবির সন্দেহ হওয়াই আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমার প্রশ্ন এই অধিকার তাদের কে দিয়েছে?
‘আমরা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই যে, সংগঠন এখনো রাষ্ট্রের নিষিদ্ধ নয় সে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে কেউ কাউকে হত্যা করতে পারেন না। প্রয়োজনে রাষ্ট্র নিষিদ্ধ করবে, বিচারবিভাগ বিচার করবে কিন্তু ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন কিসের দায়ে কাউকে হত্যা করতে পারে। ’
সমাজতান্ত্রীক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সুস্মিতা মরিয়ম বলেন, ‘আবরারকে কোনো লোকাল সন্ত্রাসী হত্যা করেনি। তাকে হত্যা করেছে তারই বিশ্বিবদ্যালয়ের কিছু সন্ত্রাসী। আজকে বাংলাদেশের সরকার যখন ভারতকে সবকিছু দিয়ে দিচ্ছে। সে যখন এই সত্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তখনই তারা তাকে হত্যা করেছেন। আমরা বলতে চাই শুধু এই খুনের বিচার করলেই এমন হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে না। এর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ’
বাংলাদেশ সময়: ১৬৪৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৭, ২০১৯
এএটি