ঢাকা, বুধবার, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

শিক্ষা

শিক্ষাবর্ষ জটিলতায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

ইবি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪২৭ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১
শিক্ষাবর্ষ জটিলতায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

ইবি: করোনাকালীন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিবহন ও আবাসিক হল ফি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আর এতে ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী।

জানা যায়, রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রেরিত ফি মওকুফকৃত প্রজ্ঞাপনে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিবর্তে লেখা হয়েছে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ।  

বিষয়টি ভুল সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন। পাশাপাশি যারা অতিরিক্ত টাকা জমা দিয়েছে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনার্স ও মাস্টার্সের চুড়ান্ত পরীক্ষা শুরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়র সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে করোনাকালীন এক বছরের হলের সিটভাড়া ও পরিবহন ফি মওকুফ করে প্রশাসন। ওইদিনই রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে ফি মওকুফের প্রজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আবাসিক হলে পাঠানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাকালীন হলসমূহ বন্ধ ও ছাত্র-ছাত্রীরা গাড়ি ব্যবহার না করার কারণে তাদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের বাসভাড়া ও হলের সিট ভাড়া মওকুফ করা হলো। শিক্ষার্থীরা ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য ফরম পূরণ করলেও প্রজ্ঞাপনে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিবর্তে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ উল্লেখ থাকায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সকল ফি দিতে নির্দেশনা দিয়েছে।  

রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাডেমিক শাখা ও হলের কর্মকর্তারা জানান, চলতি শিক্ষাবর্ষের নয়, আগামী শিক্ষাবর্ষের ফি মওকুফ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  

কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের এ শিক্ষাবর্ষের হলের সিট ভাড়া ও পরিবহন ফি মওকুফের কোনো নির্দেশনা নেই। বর্তমানে যারা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তারা ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ফি মওকুফ করা হয়েছে মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে রেজিস্ট্রার দপ্তর। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তারা পূর্ণ ফি আদায় করছে।  

বিভিন্ন বিভাগ এরই মধ্যে পরীক্ষার রুটিন ঘোষাণা করায় ফি মওকুফের বিষয়ে নিশ্চিত হতে শিক্ষার্থীরা এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরছেন। একেক দপ্তরে এক এক রকম তথ্য মেলায় বিভ্রান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।  

এদিকে নির্ধারিত সময়ে ফি না দিতে পারলে পরীক্ষায় বসতে পারবেন না তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ বলেন, ‘০৪ অক্টোবর আমাদের পরীক্ষা শুরু হবে। বিভাগ থেকে আমাদের দ্রুত ফরম ফিলাপ করত বলা হয়েছে। ফরম ফিলাপ করতে যেয়ে আমাদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। প্রশাসন থেকে হল ও পরিবহন ফি মওকুফ করার নির্দেশ দিলেও তা নিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে আমাদের সম্পূর্ণ ফি-ই দিতে হচ্ছে।  

সোমবার (২০ সেপ্টম্বর) প্রজ্ঞাপন সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা।  
বিশ্ববিদ্যালয়র ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মু. আতাউর রহমান বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ লেখাটা যৌক্তিক নয়, ২০১৯-২০ হবে। কর্তৃপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছিল আমরা (রেজিস্ট্রার দপ্তর) সেভাবেই করেছি। তবে প্রজ্ঞাপন পরিবর্তন হতে পারে। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলের সিট ভাড়া ও পরিবহন ফি মওকুফ করা হয়েছিল। প্রজ্ঞাপন সংশোধন করা হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকলে তা সমন্বয় করা হবে। ’

বাংলাদেশ সময়: ১৪২৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১
এসআইএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa