ঢাকা, সোমবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৭ মে ২০২৪, ১৮ জিলকদ ১৪৪৫

বিনোদন

সন্তুষ্ট নই, মুক্তিযুদ্ধের ছবিতে আরও কাজ করতে চাই

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৯১৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭
সন্তুষ্ট নই, মুক্তিযুদ্ধের ছবিতে আরও কাজ করতে চাই গেরিলা ছবির দৃশ্যে শতাব্দী ওয়াদুদ, সঙ্গে জয়া (ছবি: সংগৃহীত)

ঢাকা: নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন শতাব্দী ওয়াদুদ। এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চারটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন গুণী এই অভিনেতা। তবে এতে সন্তুষ্ট নন তিনি। বাঙালির গৌরবময় এই ইতিহাস নিয়ে আরও বেশি কাজ করতে চান তিনি।

শতাব্দী বাংলানিউজকে বলনে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্ম। মুক্তিযুদ্ধ করতে পারিনি, কিন্তু চেতনায় ধারণ করি।

মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বেশি বেশি জানার জন্য চলচ্চিত্রের বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মের কাছে ১৯৭১’র প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে আরও বেশি চলচ্চিত্র হওয়া উচিত।

২০১১ সালে মুক্তি পায় নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত ছবি ‘গেরিলা’। এতে শতাব্দী পাকিস্তানি মিলিটারির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এই চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে প্রচুর ‘মানসিক যন্ত্রণায়’ ভুগেছেন বলে জানান।

বলেন, অভিনেতা হিসেবে আমার কাছে সব চরিত্রই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে পাকিস্তানি হানাদারের চরিত্রটা করতে গিয়ে প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে হয়েছে। কোনোভাবেই চরিত্রের ভেতরে নিজেকে ঢুকাতে পারছিলাম না। কারণ যখনই আমি এটা নিয়ে ভাবছি তখনই ’৭১ সালে ফিরে গেছি। পাকিস্তানি ঘাতকদের নির্যাতনের বর্বরোচিত ঘটনাগুলো চোখে ভেসে উঠতো। শতাব্দী ওয়াদুদ (ছবি: সংগৃহীত)শুধু বিজয় দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবস এলেই মুক্তিযুদ্ধের কথা সবাই স্মরণ করেন। কিন্তু প্রশংসিত এই অভিনেতা চান সারাবছর এ নিয়ে কাজ হোক। শতাব্দীর ভাষ্যে, ১৬ ডিসেম্বর বা ২৬ মার্চ এলেই শুধু মুক্তিযুদ্ধের কথা আমাদের মনে পড়ে। সারাবছর আমরা মুক্তিযুদ্ধের কথা কম মনে করি।  সারাবছরই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও নাটক প্রচারিত হওয়া উচিত।

পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন মঞ্চ থেকে আসা এই অভিনেতা। তিনি মনে করেন নতুন প্রজন্মের নির্মাতারাও অনেক মেধাবী। তাদের মধ্যে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করতে প্রবল আগ্রহী। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারাও ভালো ভালো চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারবেন।

‘মেহেরজান’ ছবিতে শতাব্দী মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেন। তিনি বলেন, যখন ক্যামেরার সামনে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাঁড়ালাম, তখন নিজেকে সত্যি সত্যি মুক্তিযোদ্ধা মনে হয়েছে। এখন যদি যুদ্ধ হতো জানি না সব কিছুর মায়া ছেড়ে শুধু দেশের জন্য আমি যুদ্ধে অংশ নেবো কিনা। তবে মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে ঘর ছেড়ে জীবনের বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন সেটা অনুভব করেছি।

শতাব্দী ওয়াদুদ অভিনীত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্য দুইটি চলচ্চিত্র হলো তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘জীবনঢুলী’ ও রিয়াজুল রিজু ‘বাপজানের বায়স্কোপ’।

প্রসঙ্গত, শতাব্দী ওয়াদুদ অভিনীত ‘ঢাকা অ্যাটাক’ মুক্তি পায় চলতি বছর। এটি অলোচিত ছবির মধ্যে অন্যতম। এছাড়াও তার অভিনীত ‘আদি’, ‘দাগ’, ‘রাগি’ ও ‘আসমানি’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।  

কিছুদিন পর ‘দাহকাল’ নামে একটি নতুন ছবির কাজ শুরু করবেন তিনি।

প্রথম পর্ব পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধের ছবি: আমরা প্রযোজক পাইনি, এখন পেয়েও হয় না!

বাংলাদেশ সময়: ১৫১০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭
জেআইএম/আইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।