ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২১ মে ২০২৪, ১২ জিলকদ ১৪৪৫

বিনোদন

কানাডায় সাড়া জাগিয়েছে 'হালদা'

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২০, ২০১৭
কানাডায় সাড়া জাগিয়েছে 'হালদা'

'হালদা', নদীর নামে বাংলা চলচ্চিত্র দেখতে কানাডার প্রেক্ষাগৃহ ওডিয়ন সিনেপ্লেক্সে বাংলাদেশিদের ভিড় জমেছে। ছবিটি ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এতে হালদা নদীর ডিম্ববতী মাছ রক্ষার দাবি পাচ্ছে বিশ্ব বাঙালির সমর্থন।

পরিবেশ দূষণের কারণে বিপন্ন নদী, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র ও নদী তীরবর্তী জনপদের মানুষদের জীবন নিয়ে তৌকির আহমেদের পরিচালনায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশনা 'হালদা' বলে মন্তব্য করেছেন কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক সৈকত রুশদী।

তিনি বলেন, কখনও কখনও বার্তা প্রকট হয়ে উঠলেও সংলাপে ও নীরবতায় পরিমিতিবোধ প্রশংসনীয়।

সপরিবারে উপভোগ করার মতো চলচ্চিত্রটি প্রবাসে স্বদেশের এক পশলা বৃষ্টির মতো স্বস্তির।

অনবদ্য অভিনয় তিশা, ফজলুর রহমান বাবু ও দিলারা জামানের। এতো কম সংলাপে মোশাররফ করিম কোন চলচ্চিত্র বা নাটকে অভিনয় করেছেন কিনা সন্দেহ। জাহিদ হাসানের সুযোগ কম হলেও অভিনয়ে পরিপক্কতা স্পষ্ট। নদী, সমুদ্র ও চর নিয়ে বড় ক্যানভাসে দৃশ্য পরিকল্পনা এবং ক্যামেরার কাজে পরিশ্রমের ছাপ সুস্পষ্ট। আবহসঙ্গীত ও গান চলনসই।  

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার সংলাপ অন্য এলাকার মানুষের জন্য প্রায় দুর্বোধ্য হলেও চট্টগ্রামের মানুষকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাদের ও ভিন্ন ভাষার সবার জন্য বিকল্প ইংরেজি সাবসাইটেল!

এই চলচ্চিত্রে তৌকির নিজে ও পরিবারের সদস্যদের অভিনয় থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদার্হ বলে মনে করেন বোদ্ধারা।

মনে দাগ কাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য দু'টির একটি হলো সুরত বানুর সঙ্গে হাসুর একান্ত ক্ষণটি। বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবারে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যহীন নারীর হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি পরিচয় ফিরে পাওয়ার আকুলতার মধ্য দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের সংযোগ স্থাপনকালে উভয়ের হৃদয়াবেগ। অপরটি হলো, মা মাছের বিচরণক্ষেত্র হালদা নদীর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মতো সেই নদীর বুকে অনাগত শিশুকে গর্ভে নিয়ে এক হবু মায়ের একাকী নিরুদ্দেশ যাত্রা।  

নান্দনিক সৌন্দর্যমণ্ডিত শৈল্পিক দৃশ্যপটের উঁকিঝুঁকি 'তিতাস একটি নদীর নাম' মনে করিয়ে দিতে গিয়েও হারিয়ে যায় এই চলচ্চিত্রের গানের কলির মতো অকূল দরিয়ার 'লোনা জলে, ঘোলা জলে'।  

বাংলাদেশ সময়: ২২৩৪ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২০, ২০১৭
এমপি/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।