বুধবার (৩ এপ্রিল) দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সরকার ও বিএফডিসির পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাতে গোনা কয়েকজন তারকা ছাড়া তেমন কারো দেখা মেলেনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথির বক্তব্যে চিত্রনায়ক আলমগীর বলেন, আমাদের চলচ্চিত্র একটি সংকটময় অবস্থায় আছে। আরেকটি সংকট দেখা দিতো ১২ এপ্রিল থেকে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হলে। কিন্তু মন্ত্রী মহাদয় (তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ) এটা হতে দেননি। এজন্য ওনাকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, সমস্যা সব জায়গায় আছে, আমাদের চলচ্চিত্রেও আছে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছেন এতে আমি খুব আশাবাদী। আমাদের চাকা আবার ঘুরবে।
‘তবে আমার প্রশ্ন হচ্ছে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে আমাদের শিল্পীরা কোথায়? আমি নাম ধরে বলতে চাই, মৌসুমী, শাবনূর, ওমর সানি, অমিত হাসানরা কোথায়? আমি এমন আরও ৩০টা নাম নিতে পারি। আপনারা কিন্তু সবাই এই চলচ্চিত্র থেকে তারকা হয়েছেন, অভিনেতা হয়েছেন, অনেক কিছু হয়েছেন। আপনাদের কাছে কার্ড পাঠালে যথেষ্ঠ নয়। আপনাদের বারবার অনুরোধ করে এখানে আনা যায় না। কিন্তু এ চলচ্চিত্র আপনাদের সব দিয়েছে।
প্রয়াত নায়ক রাজ রাজ্জাকের কথা স্মরণ করে আলমগীর বলেন, তিনি নিজে থেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করে বলতেন, ৩ এপ্রিল তোমরা কী আয়োজন করেছ? তবে এখন সেই মানসিকতা কোথায়? বাড়ি থেকে সেধে আনতে হবে কেনো?
শিল্পীদের উদ্দেশ্য করে আলমগীর আরও বলেন, আপনারা যদি চলচ্চিত্র থেকে কিছু পেয়ে থাকেন। তাহলে কিন্তু চলচ্চিত্রকে কিছু দিতে হয়। আপনারা দিতে ভুলে গেছেন। দিতে শিখুন একটু। সবাই আমার ছোট ভাই-বোনের মতো। আপনারা কেন আসবেন না? এটা চলচ্চিত্র দিবস।
আমি আসার পর অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন, আমাদের শিল্পীরা কোথায়? আমার লজ্জা লাগছিলো।
আমার সেসব শিল্পীর প্রতি অনুরোধ চলচ্চিত্রকে ভালোবাসতে শিখুন। নয়তো চলচ্চিত্র এমন একটি জায়গা, যেখানে রিল ঘুরতে থাকে এবং আপনি এক সময় রিল থেকে মুছে যাবেন।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় বিএফডিসির মান্না ডিজিটাল কমপ্লেক্সের সামনে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম, ইলিয়াস কাঞ্চন, তথ্য সচিব আবদুল মালেক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক হারুন-অর-রশীদ প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৩, ২০১৯
জেআইএম/আরআইএস/