ঢাকা, শনিবার, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৬ মহররম ১৪৪৬

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

প্লাস্টিক দূষণে ঝুঁকিতে পাহাড়ি নদী

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬০২ ঘণ্টা, জুন ১৩, ২০২৪
প্লাস্টিক দূষণে ঝুঁকিতে পাহাড়ি নদী ফাইল ছবি

দেশের পরিবেশ ও নদী নিয়ে গবেষণা করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার (আরডিআরসি)। সম্প্রতি ৫৬টি নদীর তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে আরডিআরসি।

সেখানে বলা হয়, তিন কারণে দূষিত হচ্ছে দেশের নদী- প্লাস্টিক বর্জ্য, শিল্প বর্জ্য ও পৌর বর্জ্য। পাহাড়ের নদী ঝুঁকিতে আছে প্লাস্টিকের জন্য। বিষয়টি নিয়ে সুরাইয়া জেরিন তমার সঙ্গে কথা বলেছেন আরডিআরসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ।  

প্রশ্ন: নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীই এখন হুমকির মুখে। নদীদূষণ একটা বড় সমস্যা। আপনার প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে গবেষণাও করেছে। নদীদূষণের চিত্রটা কেমন?

মোহাম্মদ এজাজ: পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে যতদিন না সাধারণ মানুষের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে ততদিন নদীদূষণ চলতেই থাকবে। এখন পর্যন্ত বিনিয়োগকারীকে বিবেচনায় রেখে উন্নয়ন হচ্ছে। এই কারণেই নদীর পাড়ে কলকারখানা নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো আইন-কানুনের তোয়াক্কা করা হয় না। সারা বছর ১২ লাখ গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে কারণ প্রকৃতি এখানে প্রধান বিষয় নয়। পরিবেশ রক্ষাকে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়, তবে আসলে পরিবেশ রক্ষাকে দেখা উচিত অধিকার হিসেবে। নদীকে একজন শিল্পবর্জ্য ও পৌর বর্জ্য দিয়ে দূষিত করে মেরে ফেলবে, আর জেলে ও সাধারণ মানুষ মাছ খেতে পারবে না, এটা খুবই অস্বাভাবিক। হাইকোর্ট নদীকে জীবন্ত-সত্তা হিসেবে ঘোষণা দিলেই শুধু হবে না। পরিবেশের এই বিপর্যয়ের জন্য মূল দোষীকে খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশের এখন অস্তিত্বের সমস্যা।

প্রশ্ন: আপনাদের গবেষণায় দেখা গেছে নদী দূষণের কারণে শীর্ষে আছে প্লাস্টিক। এমনকি পাহাড়ের নদীও প্লাস্টিকের কারণ দূষিত হচ্ছে...

মোহাম্মদ এজাজ: নদীদূষণের জন্য অন্যতম দায়ী প্লাস্টিক। বিশেষ করে চিপসের প্যাকেটের মতো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সবচেয়ে বেশি দূষিত করছে নদীকে। পাহাড়ের নদীগুলোর দূষণের পেছনেও কাজ করছে প্লাস্টিক। দুর্গম পাহাড়েও মানুষ মিনি প্যাক শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, টুথপেস্ট ব্যবহার করছে, বিষয়টা এমএনসিগুলোর জন্য বেশ পজিটিভ সাইন। কিন্তু এই একবার ব্যবহারযোগ্য পণ্যগুলো ব্যবহারের পর যত্রতত্র ফেলে দেওয়ায় তা শেষ পর্যন্ত পানিতে গিয়ে মিশছে এবং নদী-খাল-বিলের পানিকে দূষিত করছে। পাহাড় দূষণের পেছনে পর্যটকরা অনেকাংশে দায়ী। মানুষ পাহাড়ে ঘুরতে যায়, হাতে চিপসের প্যাকেট নিয়ে। খাওয়ার পর তা অবলীলায় ফেলে দিচ্ছে। এমনকি বিরিয়ানির প্যাকেটও ফেলা হচ্ছে এসব নদীতে। এসব বন্ধ করা উচিত। যেভাবেই হোক নদী রক্ষার জন্য এসব বন্ধ করা উচিত।

প্রশ্ন: কৃষিকাজের কারণে নদী দূষণ হচ্ছে কি? হলে সেটা কেমন?

মোহাম্মদ এজাজ: সামনে বর্ষাকাল আসছে। এই সময় পুরো দেশের ভূমির ৬৭ শতাংশ পানির নিচে চলে যাবে। এই সময় মাটি নিজেকে প্রস্তুত করবে। আবার এই নদীগুলো প্রোটিনের প্রধান উৎস। হালদাসহ সব নদীতে মা মাছ ডিম পাড়বে। কিন্তু আমরা কলকারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলছি, সব ধরনের প্লাস্টিক নদীতে ফেলছি, বাণিজ্যিকভাবে অধিক ফসল উৎপাদনের জন্য অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করছি। এসব দূষণ নদীকে মেরে ফেলছে। নদীর প্রাণিসম্পদকে হত্যা করছে।  

প্রশ্ন: পাহাড়ের নদীগুলোর দূষণ কীভাবে রোধ করা যায়?

মোহাম্মদ এজাজ: প্রথমত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহার কমাতে হবে। প্লাস্টিক তৈরির কারখানা বন্ধ করতে হবে। ডাব খেতে এখন স্ট্র ব্যবহার করা হয়। অথচ আমরা স্ট্র ছাড়াও ডাব খেতে পারি। এই স্ট্র পাহাড়ের পরিবেশকে নষ্ট করছে। আবার যেখানে-সেখানে পলিথিন, চকলেটের প্লাস্টিক খোসা, চিপসের প্যাকেট, ওয়ান টাইম প্লাস্টিক কাপ এগুলো ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। দরকার হলে পাহাড়ে চকলেট, চিপস বিক্রি বন্ধ করতে হবে।

উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ময়লা ফেলানোর জন্য নদীকে বেছে নেওয়া হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার। এক্ষেত্রে উপজেলা ইউনিয়ন পর্যায়ে ময়লা ফেলানোর জন্য স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মাল্টিন্যাশনাল প্রোডাক্ট, টয়লেট্রিজ প্রোডাক্ট তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার পরবর্তী সময়ে প্লাস্টিক যেন দূষণের কারণ না হয়- এই ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে। মার্কেটকে টেকসই করতে গিয়ে এমন কিছু উৎপাদন করা উচিত না যা মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি করে মাটি-পানির দূষণ করে। খাবারের যেমন ফুড গ্রেড স্ট্যান্ডার্ড থাকে তেমনি এনভায়রনমেন্টাল গ্রেড তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫৪ ঘণ্টা, জুন ১২, ২০২৪
এইচএ/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।