ঢাকা, শনিবার, ২০ বৈশাখ ১৪৩২, ০৩ মে ২০২৫, ০৫ জিলকদ ১৪৪৬

ফুটবল

ফুটবলের দুই কিশোর কিংবদন্তি—তুলনায় পিছিয়ে মেসি-রোনালদোরাও!

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯:৩০, মে ২, ২০২৫
ফুটবলের দুই কিশোর কিংবদন্তি—তুলনায় পিছিয়ে মেসি-রোনালদোরাও! সংগৃহীত ছবি

দুজনেরই জন্ম ২০০৭ সালে। একজন বার্সেলোনার প্রাণভোমরা লামিনে ইয়ামাল, অন্যজন রিভার প্লেটের উদীয়মান নক্ষত্র ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো।

১৭ বছর বয়সেই বিশ্বের শীর্ষ ক্লাবগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা। এই বয়সে তাদের পারফরম্যান্স পেছনে ফেলে দিয়েছে গত দুই দশকের বহু তারকা ফুটবলারকে।

ইয়ামালের উত্থান: রেকর্ড আর শিরোপার হাতছানি

২০২৩ সালের ২৯ এপ্রিল মাত্র ১৫ বছর বয়সে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে আত্মপ্রকাশ করেন ইয়ামাল। ওই মৌসুমেই দল লা লিগা জিতে, তার শিরোপা জয়ের যাত্রা শুরু। পরের মৌসুমে মূল দলে নিয়মিত হন তিনি। সেপ্টেম্বরে ডাক পান স্পেন জাতীয় দলে।

সত্যিকারের বিশ্বপরিচিতি আসে ইউরো ২০২৪-এ, যেখানে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন বানাতে মুখ্য ভূমিকা রাখেন ইয়ামাল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে শিরোপা জিতে নিজের দ্বিতীয় বড় ট্রফি তুলেন ১৭ বছর বয়সে।

ইতিমধ্যে তার ঝুলিতে রয়েছে স্প্যানিশ সুপার কাপ, কোপা দেল রে এবং সম্ভাব্য লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। ১১৯ ম্যাচে ২৬ গোল ও ৩৮ অ্যাসিস্ট—এই বয়সে এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় তিনি কতটা ব্যতিক্রমী।

ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনোর মঞ্চে ওঠা: রিভার প্লেটের নবীন সেনাপতি

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ১৬ বছর বয়সে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের বিপক্ষে রিভার প্লেটের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলেন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুনো। মৌসুমজুড়ে কোচ দেমিচেলিস তাকে আস্থায় রেখে মাঠে নামান। বিদায়ী ম্যাচে কোচকে বিদায় জানাতে স্রেফ একটি গোলই যথেষ্ট ছিল—সারমিয়েন্তোর বিপক্ষে সেই গোল করেন তিনি।

২০২৫ সালে দক্ষিণ আমেরিকা অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার পর, দলে নিয়মিত হন তিনি। সান মার্টিনের বিপক্ষে গোল করে ফেরেন, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি। এ পর্যন্ত ৫৫ ম্যাচে ৭ গোল ও ৫ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি ২০২৪ সালের আর্জেন্টাইন সুপার কাপও জিতেছেন।

তাহলে অন্য তারকারা কী করছিলেন ১৭ বছর বয়সে?

লিওনেল মেসি: মাত্র ৯টি পেশাদার ম্যাচ খেলেছিলেন ১৭ বছর বয়সে। একটি গোল এবং একটি লা লিগা শিরোপা। তবে ২০০৫ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ছিল তার আসল মঞ্চ। সেখানে সেরা গোলদাতা ও শিরোপা জয় ছিল তার সাফল্যের শুরু।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো: ১৭ বছর বয়সে স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে ১৯টি ম্যাচ, ৫ গোল, ৫ অ্যাসিস্ট—তবে কোনও শিরোপা নয়। ২০০২/০৩ মৌসুমেই অভিষেক হয় তার, কিন্তু নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পেতে সময় লেগেছে।

নেইমার: সান্তোসের হয়ে ৫৪ ম্যাচে ২০ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট করেছিলেন ১৭ বছর বয়সেই। তবে শিরোপা না জেতায় বছরটি ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

এমবাপ্পে: ১৬ বছর বয়সে মোনাকোর হয়ে অভিষেক। ১৮ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত খেলেছেন ২৮টি ম্যাচ, ৭ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট। লিগ ওয়ান জয়ের স্বাদ পান তিনি বয়স প্রাপ্তির কিছুদিন পর।

ইতিহাসে ব্যতিক্রমী দুই কিশোর

ইয়ামাল ও মাস্তানতুনোর এই উত্থান বর্তমান যুগে একেবারেই বিরল। ১৭ বছর বয়সে এমন পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার করতে পারা খুব কম ফুটবলারের পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। অতীতে যেসব তারকা পরবর্তীতে কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন, তাদের তুলনায়ও এই দুজন অনেক এগিয়ে।

তবে সামনে দীর্ঘ পথ—ফিটনেস, ধারাবাহিকতা ও মানসিক দৃঢ়তাই বলে দেবে, ইতিহাসের পাতায় কতটা জায়গা করে নিতে পারবেন তারা।  

এমএইচএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।