চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সার নতুন কোচ কিকে সেতিয়েনের অভিজ্ঞতাটা ভালো হলো না। এমনকি আসন্ন ক্লাসিকোর আগে এমন ফলাফল ভালোর চেয়ে অনেক দূরে।
কিছুদিন আগে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’কে মেসি বলেছিলেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার মতো যথেষ্ট ভালো খেলছে না বার্সা। নাপোলির মাঠে সেটারই বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেল।
নাপোলির বিপক্ষে বার্সা যেন খেই হারিয়ে ফেলা এক দলে পরিণত হয়েছিল। অসংখ্য অযথা পাস বার্সার খেলাকে দৃষ্টিকটুও বানিয়ে ছেড়েছে। তারপরও নাপোলির চেয়ে তুলনামূলক এগিয়ে ছিল বার্সাই। ফলে অ্যাওয়ে ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র খুব একটা খারাপ ফলাফল নয়।
নাপোলি ম্যাচে মৌসুমে নিজের ১৪তম গোল করেছেন আঁতোয়া গ্রিজম্যান। ঠিক সময়ে জ্বলে ওঠার কাজটা এখন নিয়মিতই করে যাচ্ছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এমনকি গত তিন বছরে যা (চ্যাম্পিয়নস লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচে গোল) করতে পারেননি, সেই কাজটা তিনি করে দেখিয়েছেন।
গ্রিজম্যান ছাড়া নাপোলির বিপক্ষে বার্সার হয়ে কাজের কাজটা কেউই করতে পারেননি। এর মধ্যে জুনিয়র ফিরপোর কথা আলাদা করেই বলতে হয়। গোল হজম করার পেছনে তার বড় ভূমিকা ছিল। পরেও তাকে ছন্দ খুঁজে পেতে লড়াই করতে দেখা গেছে।
বার্সার সবচেয়ে বড় ভরসার একজন মার্ক আন্দ্রে টের-স্টেগান নাপোলির বিপক্ষে দুটি বড় সেভ করেছেন। যদিও ৩০তম মিনিটে বার্সার জুনিয়র ফিরপোর ভুলে পিওতর জিলিনিস্কির পা ঘুরে বল পান মের্টেন্স। চেষ্টা করেও জাল বাঁচাতে পারেননি বার্সার জার্মান গোলরক্ষক।
স্যামুয়েল উমতিতি ও ইভান রাকিতিচ দুজনকেই খেলিয়ে কিছুটা অবাক করেছিলেন সেতিয়েন। রাকিতিচ যদিও আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। তবে ফরাসি তারকা ঠিকই নজর কেড়েছেন।
বার্সার দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছেন সার্জিও বুসকেতস ও আর্তুরো ভিদাল। চিলিয়ান মিডফিল্ডার আর স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দুজনেই হলুদ কার্ডের খাড়ায় পড়ে নাপোলিকে ক্যাম্প ন্যুয়ে আতিথ্য দেওয়ার ম্যাচে খেলতে পারবেন না।
শুধু দুই মিডফিল্ডার কেন, জেরার্ড পিকে ছিটকে গেছেন ইনজুরিতে। এমনকি পরের সপ্তাহে এল ক্লাসিকোয় তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এর আগেই ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন লুইস সুয়ারেস ও উসমানে দেম্বেলে। সবমিলিয়ে সেতিয়েন এখন খেলোয়াড় সংকটে পড়ে গেছেন।
দলের এমন ছন্নছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে সেতিয়েনের ভরসা উমতিতি এবং ক্লিমেন্ট ল্যাঙ্গলেট। আর অপেক্ষায় থাকতে হবে জর্দি আলবা ও সার্জি রবার্তোর ফিরে আসার।
বাংলাদেশ সময়: ২০৩৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০
এমএইচএম