ঢাকা, সোমবার, ২৩ মাঘ ১৪২৯, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৪ রজব ১৪৪৪

কৃষি

বড় হিমসাগরের টেস্ট কম

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১০০২ ঘণ্টা, জুন ১৮, ২০১৮
বড় হিমসাগরের টেস্ট কম বানেশ্বরের বাজারে হিমসাগর আম

রাজশাহী থেকে ফিরে: হিমসাগর আম কিনতে গিয়ে যারা পুষ্ট আম খোঁজেন, অপেক্ষাকৃত ছোট সাইজের আম নিতে চান না তারা কিন্তু ঠকে যাচ্ছেন। কারণ ছোট সাইজের হিমসাগর আমের টেস্ট সবচেয়ে বেশি। এমন তথ্যই জানালেন রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের বাজার বানেশ্বরের আমচাষি মাহফুজার রহমান রানা।

রানা জানান, নতুন গাছে আমের সাইজ অপেক্ষাকৃত বড় হয়। আর পুরাতন অর্থাৎ বড় গাছের আমের সাইজ কিছুটা ছোট হয়।

তবে নতুন অর্থাৎ ছোটো গাছের আমের তুলনায় পুরাতন গাছের ছোট আমগুলো বেশি সুস্বাদু হয়।
 
আর এ কারণেই পাইকারি আমের বাজার বানেশ্বরে সব সময়েই ছোটো আমের চাহিদা একটু বেশি থাকে। আবার দামও একটু চড়া হয়। হিমসাগরের ছোট সাইজ মণ প্রতি কমপক্ষে এক-দেড়’শ টাকা বেশি হয়। কিন্তু ভোক্তারা অনেকেই এ বিষয়ে অবগত নন। তারা অনেকেই পুষ্ট আম খোঁজেন। আবার আমের স্তুপে থেকেও অপেক্ষাকৃত ছোট বাদ দিয়ে নেন।
 
যারা এতোদিন এভাবে বাছাই করে আম কিনেছেন তাদের ছোটো আম কিনে খেয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন আমচাষি রানা। বিশ্বাস না করতে চাইলে একসঙ্গে দুই ধরনের আম কিনে খেয়ে দেখতে পারেন। নজরুল ইসলাম নামের এক চাষিও এমন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, একসঙ্গে না খেলে অনুমান করা কঠিন।  
 
তিনি বলেন, আমাদের এলাকার লোকজন কিন্তু স্তুপ থেকে তুলনামূলক ছোটো আমই কেনে। রাজশাহী অঞ্চলে অনেক জাতের আমের চাষ হয়। কিন্তু তুলনামূলক হিমসাগরকে সেরা বলা হয়।  

হিমসাগর আমের এখন চলছে ভরা মৌসুম। জেলার সবচেয়ে বড় এবং প্রসিদ্ধ আমের হাট বানেশ্বর। বৈচিত্র্যময় এই হাটে একই দিনে তিনবার বিক্রি হয় একই আম। ভোরে আম নিয়ে হাটে যান চাষিরা। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে সেই বেচাকেনা। এ সময়ে সাধারণত প্রধান ক্রেতা ফড়িয়ারা। এ পর্যায়ে আম বেচাকেনা হয় ঠিকা অনুযায়ী। চাষিরা আন্দাজ করে খাঁচিতে ভরে আম নিয়ে আসেন বাজারে। আর ফড়িয়ারাও ঠিকা অনুযায়ী কেনেন।
 
এরপর ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে দ্বিতীয় ধাপে বেচাকেনা। এ ধাপে বিক্রেতা ফড়িয়ারা। আর ক্রেতা হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বড় ব্যাপারিরা। ফড়িয়াদের জমা করা আমের স্তুপ ঘুরে ঘুরে তারা আম কেনেন। এ ধাপে আমের দর আর ঠিকা অনুযায়ী হয় না। ওজন করে বিক্রি করা হয়। ব্যাপারির চাহিদা অনুযায়ী আম সরবরাহ করেন ফড়িয়ারা।
 
আবার আরেক শ্রেণির লোক রয়েছে যারা ফড়িয়াদের কাছ থেকে কিনে প্রকৃত ভোক্তার কাছে বিক্রি করেন। এই শ্রেণির বিক্রেতারা সকাল থেকেই মধ্যরাত পর্যন্ত কখনও সারারাত ধরেই পসরা সাজান নাইট কোচের যাত্রীদের কাছে বিক্রি করার জন্য।
 
 বাংলাদেশ সময়: ১৬০১ ঘণ্টা, জুন ১৮, ২০১৮
এসআই/আরআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa