সৌভিক করিমের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জাদুকর ও ডানার কবিতাগুচ্ছ’-এর মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২০২৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান কবি সৌভিক করিম।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে আলোচনা করেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বইটির প্রকাশক ইউপিএলের কর্ণধার মাহরুখ মহিউদ্দিন, অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান।
আরও আলোচনা করেন সৌভিকের ভাই এবং জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজের সাহিত্যের শিক্ষক ফিরোজ রহমান, শূন্য দশকের কবি আলতাফ শাহনেওয়াজসহ সৌভিক করিমের বন্ধু-স্বজনরা।
সৌভিক করিম গান লিখতেন, সেই সাথে সুর ও সংগীতও নিজেই করতেন, তাঁর রেকর্ড করা অপ্রকাশিত গানের সংখ্যা ২৩। গানগুলো এই বইতে স্থান পেয়েছে। ‘ফিরে এসো বেহুলা’ নামের একটি বাংলা চলচ্চিত্রের দুটি গানের গীতিকার সৌভিক করিম, গান দুটির সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীও তিনি। এ ছাড়া অং রাখাইনের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাই বাইসাইকেল’-এর সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি।
গান ও কবিতার পাশাপাশি ‘জাদুকর ও ডানার কবিতাগুচ্ছ’ বইটিতে স্থান পেয়েছে কিছু অনুবাদ কবিতা।
অকাল প্রয়াত কবি সৌভিকের কবিতা নিয়ে নতুন প্রকাশিত বই ‘জাদুকর ও ডানার কবিতাগুচ্ছ’ প্রসঙ্গে আলোচনায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, প্রেম ও দ্রোহের কবি সৌভিক করিম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় ধারণ করে গেছেন তার কবিতায়। যেই সময় রুদ্ধশ্বাস স্বৈরশাসনে এই দেশে নেমে এসেছিল সামষ্টিক বিষাদ, আবার সময়ের টানে যেই জনতা জীবন বাজি রেখে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে—সৌভিকের গান ও কবিতায় এই দুই-ই ফুটে উঠেছে।
সৌভিকের বন্ধু কবি আলতাফ শাহনেওয়াজ বলেন, প্রেম, প্রতিবাদ, ভক্তি, নৈরাশ্য এবং অস্তিত্বের প্রশ্ন-সবকিছুকেই কবিতা আর গানের ভাষায় প্রকাশ করেছেন সৌভিক করিম। লেখালেখিসহ সকল ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন ভীষণ খুঁতখুঁতে, প্যাশনেট এবং অলস। ফলে তাঁর লেখা সংখ্যায় কম। একবিংশ শতকের শুরুর দিকের বাংলাদেশ এবং এ সময়ের তরুণদের অন্তর্জগতের আভাস মিলবে সৌভিক করিমের গান ও কবিতায়।
বাংলাদেশ সময়: ২১৫৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫
এমজেএফ