ঢাকা, শনিবার, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫ রজব ১৪৪৪

ব্যাংকিং

সংকটেও কৃষি ঋণ বিতরণে সুবাতাস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০০২ ঘণ্টা, নভেম্বর ২০, ২০২২
সংকটেও কৃষি ঋণ বিতরণে সুবাতাস

ঢাকা: করোনাভাইরাস মহামারির পর বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি যুদ্ধজ্বরে আক্রান্ত। বাদ যায়নি বাংলাদেশের অর্থনীতিও।

এ অবস্থায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সৃষ্টিতে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে কৃষিক্ষেত্রে। ফলে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষিঋণ বিতরণে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-অক্টোবর) কৃষি ঋণ বিতরণ হয়েছে ৯ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। যা পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে বিতরণ হয়েছিল ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

চলতি বছরে কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত আট ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১১ হাজার ৭৫৮ কেটি টাকা। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। আর দেশে ব্যাংকিং করা আট বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭৭১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুসারে জুলাই-অক্টোবর ৪ মাসে আট রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করেছে লক্ষ্যমাত্রার ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে লক্ষ্যমাত্রার ৩১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গড় হার ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। চার মাসে কৃষি ঋণ বিতরণের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৩৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ হিসাবে কৃষি ঋণ বিতরণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো পিছিয়ে থাকলেও গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এ বছর কৃষি ঋণ বিতরণ বেশি হয়েছে।

অতীতের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বছরের অর্ধেক সময় ঋণ বিতরণ কম করলেও শেষের দিকে বেশি বিতরণ করে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে। এতে কৃষি ঋণের মান যেমন কমে যায়, তেমনি কৃষক প্রয়োজনের সময় পায় না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কৃষি ঋণ পুরো বছর সমান হারে এবং কৃষকের প্রয়োজন মতো বিতরণে নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ বছরের শুরু থেকে ফসলভিত্তিক ঋণ বিতরণে মনোযোগ দিয়েছে। এ কারণে কৃষি ঋণে বেড়েছে। তবে এ হার আরও বাড়তে হবে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মোট বিতরণকৃত ঋণের দুই শতাংশ বিতরণ করছে কৃষকদের। এর বাইরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বিতরণ করা ঋণের পুরোটাই কৃষকদের মাঝে বিতরণ করছে।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংককগুলোর পল্লী অঞ্চলে শাখা না থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার কারণে মোট বিতরণ করা ঋণের দুই শতাংশ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করতে বাধ্য হচ্ছে। তারা ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (এমআরএ) নিবন্ধিত এনজিওগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করছে। এবং সুদ হার নিচ্ছে ২৪ থেকে ২৬ শতাংশ। দেশে কর্মরত বিদেশি ব্যাংকগুলোও একই পথ অনুসরণ করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজস্ব চ্যানেলে বিতরণ করছে ৯ শতাংশ সুদে।

বৈশ্বিক খাদ্য অর্থনৈতিক সংকট ও খাদ্যের পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীতে খাদ্য সংকট আরও প্রকট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশনা রয়েছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা আছে কৃষি ঋণ বিতরণের। এবার এ চাপ আরও বেড়েছে। এ সব কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কৃষি ঋণ বিতরণ বেড়েছে বলে জানান অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়দ বখত। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, যেভাবেই হোক কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হবে। বিতরণ না করলে বাণিজ্যিক ব্যাংককে জরিমানা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সব কারণে কৃষি ঋণ বিতরণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চাপ রয়েছে।

এবার কৃষি ঋণ বিতরণে জলবায়ুও সহায়ক হয়েছে। কৃষক চাষে উৎসাহ পেয়েছে, ঋণও নিচ্ছে। কৃষি ঋণ বিতরণের ফলে ভালো উৎপাদনে সহায়ক হবে। খাদ্য নিরাপত্তার যে কথা হচ্ছে কৃষি ঋণ বিতরণের ফলে তা সহজ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২০০০ ঘণ্টা, নভেম্বর ২০, ২০২২
জেডএ/এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa