ঢাকা, শনিবার, ৬ বৈশাখ ১৪৩১, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১০ শাওয়াল ১৪৪৫

বাজেট

ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট চলছে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫২৮ ঘণ্টা, জুন ১৯, ২০১৭
ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট চলছে বাজেট পরবর্তী আলোচনায় বক্তারা/ছবি: সুমন শেখ

ঢাকা: দেশের ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। ব্যাংক সেক্টরে লুটপাট চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার (১৯ জুন) দ্য ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউস্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত জাতীয় বাজেট ২০১৭-১৮ পরবর্তী আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ইব্রাহিম খালেদ।

তিনি বলেন, ব্যাংক সেক্টরে বেসরকারি ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ৫ শতাংশ।

আর সরকারি ব্যাংকের হার সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ। বেসিক ব্যাংকে ৬০, সোনালী ব্যাংকে ৪০, বিডিবিএল-এ ৩০ শতাংশের কাছাকাছি খেলাপি ঋণের হার। পৃথিবীর কোনো দেশে ব্যাংক সেক্টরে এরকম খেলাপি ঋণের হার নেই। অথচ আমাদের ব্যাংক থেকে টাকা লোপাট করা হচ্ছে। কথা নেই বার্তা নেই, যার ইচ্ছামতো লোকজন বসিয়ে জগগলের টাকা লুট করা হচ্ছে। না হলে বেসিক ব্যাংকের মতো একটি ভালো ব্যাংক এখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬০ শতাংশ দাঁড়ায় কীভাবে?

পৃথিবীর কোনে দেশে এরকম নজির নেই উল্লেখ করে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, সরকার যদি ব্যাংকের টাকা লুট করে তাহলে আমরা যাবো কোথায়? এটা অদ্ভুত ব্যাপার যে, সরকার আমাদের টাকা মেরে দিয়ে, আবার আমাদের পকেটের টাকা থেকে ট্যাক্স নিচ্ছে। এই টাকায় ব্যাংকের ঘাটতি মেটাচ্ছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে সিপিডি থেকে ব্যাংক কমিশনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো ব্যাংকিং সেক্টরে সংস্কারের জন্য। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ব্যাংক সেক্টরের এই অবস্থা থেকে উত্তোলনের জন্য দরকার ব্যাংক খাতের সংস্কার। তা না হলে ব্যাংক ক্র্যাপ হয়ে যাবে। আমি জানি না এখনও সরকার এগুলো কেন করছে না। কিন্তু আইএমএফ কোনো সময় এসে প্রস্তাব করলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা করে ফেলবে। কেন আমাদের কথা শুনবে না?

আবগারি শুল্ক প্রসঙ্গে সাবেক এই ডেপুটি গভর্নর বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে অর্থমন্ত্রী ১৬ কোটি মানুষের কথা শুনলেন না। প্রধানমন্ত্রী বলার পরই তিনি আবার ৫০০ টাকা রাখার কথা বলছেন।

তিনি বলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী ১৯৯১ সালে লাখে ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক নির্ধারণ করেছিলেন। তখন ব্যাংকের সুদের হার ছিলো শতকরা ১২ শতাংশ। এখন সেটা কমে ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। সুতরাং নতুন আবগারি শুল্ক বাড়ানো অপ্রত্যাশিত ব্যাপার। এর কোনো যুক্তি নেই।

আইসিএমএবি-এর নিজস্ব কার্যালয়ের আব্দুল কুদ্দুস অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সাবেক সদস্য আরিফ খান এবং ফরেন ইনভেসমেন্ট চেম্বারর্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট রূপালি চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিএমএবি’র প্রেসিডেন্ট জামাল আহমেদ চৌধুরী।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ব্যাংক সেক্টরে সংস্কার ছাড়া মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া সম্ভব নয়। তার কারণ এ বছরেও ব্যাংক সেক্টরে চুরি করে নেওয়া ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় থেকে ঘাটতি দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক খাতের এই অবস্থা থেকে উত্তোলনে আরেকটি ব্যাংক কমিশন গঠন করা দরকার। যাতে ব্যাংক খাত পরবর্তীতে আর দুষ্ট চক্রের হাতে না যায়।

বাংলাদেশ সময়: ২১২৭ ঘণ্টা, জুন ১৯, ২০১৭
এমএফআই/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।