ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জলবায়ু ও পরিবেশ

এপ্রিলে সিলেটে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতেও কাটছে না খরা

বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন, ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮০৯ ঘণ্টা, মে ২, ২০২১
এপ্রিলে সিলেটে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতেও কাটছে না খরা চা বাগানের সেকশনে রোদের তীব্রতা। ছবি: বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন

মৌলভীবাজার: বর্ষপুঞ্জি থেকে সদ্য বিদায় মাস এপ্রিল। এ মাসেই দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে ১৪২ মিলিমিটার।

তারপরও কাটছে না খরা। বৃষ্টির অভাবে চা গাছগুলো ক্ষতি সম্মুখীন হতে চলেছে।

চা শিল্পাঞ্চলের সবুজ কোমল কুঁড়ি আর বড় বড় পাতারা এখন বৃষ্টির প্রতীক্ষায় মুখর। সেকশনের (সুনির্দিষ্ট চা আবাদের এলাকা) পর সেকশনজুড়ে বৃষ্টিহীন আবহাওয়া। দেশের সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃষ্টি হলেও কাটছে না খরা এবং উত্তপ্ত পরিবেশ।

চা পাতাগুলো ফ্যাকাসে হয়ে অসুস্থ হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্বচ্ছল চা বাগানগুলোতে ইরিগেশনের (সেচ) মাধ্যমে চা গাছে কৃত্রিম পানি দেওয়া হলেও বৃষ্টির মতো শতভাব কাজ হচ্ছে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ জুড়ে সিলেট এবং শ্রীমঙ্গলেরও দেশের সবচেয়ে বেশি রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। ৭ মার্চ, ৯ মার্চ, ৩০ মার্চ এবং ৩১ মার্চ সিলেটের মোট রেকর্ড করা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৩১ মিলিমিটার।

আর চলতি বছরের এপ্রিল মাসের আবহাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিলেটে মোট ১২ দিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই ১২ দিনের মোট বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ১৪২ মিলিমিটার। এর মধ্যে ১৬ এপ্রিল ৩৫ দশমিক ২ মিলিমিটার এবং ১৮ এপ্রিল ৫৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার ১২ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের তথ্য রেকর্ড করা হয়। এই দুই দিনই সিলেটে সর্বোচ্চ সংখ্যক বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, শুধু সিলেটেই নয়। বৃষ্টিপাতের ধারা দেশের অন্যান্য স্থানেও কোনো কোনো দিন খরাকে দূর করতে নেমে আসে। ৯ এপ্রিল রাজারহাটে ১৯ মিলিমিটার, ২২ এপ্রিল টাঙ্গাইলে ২৯ মিলিমিটার এবং তাড়াশে ১৯ মিলিমিটার, ২৯ এপ্রিল তাড়াশে ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। তবে এ তথ্যগুলো সিলেটের বৃষ্টিপাতের রেকর্ডের মতো সংখ্যা বিবেচনায় বেশি সংখ্যক নয়।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ আবহাওয়াবিদ সাইদ আহমেদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, সিলেটে এপ্রিল মাসে ১৪২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে হওয়ার কথা ছিল ৩৯৭ মিলিমিটার। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২৫৫ মিলিমিটার কম। ওয়েদারের অবনারমালের (আবহাওয়ার ভারসাম্যহীনতা) কারণে এই তারতম্য ঘটেছে। এপ্রিলে বৃষ্টিদিনের হিসেবে বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল ১৬/১৭ দিন। কিন্তু হয়েছে ১২দিন।

তবে মে মাসজুড়ে ভালো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা সিলেটে রয়েছে বলে জানান এ আবহাওয়াবিদ।

বাংলাদেশিয় চা সংসদ (বিটিএ) সিলেট ব্রাঞ্চ চেয়ারম্যান এবং অভিজ্ঞ টি-প্লান্টার জিএম শিবলি বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে আমাদের টি ইন্ডাষ্ট্রিতে (চা শিল্পাঞ্চল) ড্রাউট (খরা) চলছে। এপ্রিল মাসে সিলেটের ১৮৩ এবং শ্রীমঙ্গলে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের যে রেকর্ড আপনার কাছে শুনলাম তা যথেষ্ট নয়। সারাদেশের বিবেচনায় সিলেটে বৃষ্টিপাত বেশি হয় থাকে। এপ্রিল মাসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে আমাদের ইন্ডাষ্ট্রির জন্য আরো বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন যদি ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টিপাত হতে হবে।

অতিবৃষ্টিও আবার চায়ের জন্য খারাপ। আকাশ যত মেঘলা থাকবে চা উৎপাদন কমার পাশাপাশি লোপারসহ বিভিন্ন পোকামকড়ের আক্রমণ বেড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়বে চা শিল্প। সবচেয়ে ভালো রাতে বৃষ্টি এবং দিনে রোদ চা উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য বয়ে আনে বলে জানান এই অভিজ্ঞ টি প্লান্টার।  

বাংলাদেশ সময়: ০৮০৫ ঘণ্টা, মে ২, ২০২১
বিবিবি/কেএআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa