ঢাকা, বুধবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭ শাবান ১৪৪৫

কর্পোরেট কর্নার

পোল্ট্রি শিল্পে বড় চ্যালেঞ্জ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি

নিউজ ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬১০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১, ২০২৩
পোল্ট্রি শিল্পে বড় চ্যালেঞ্জ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি

ঢাকা: দেশে পোল্ট্রি শিল্প ব্যাপক সম্ভাবনা খাত হিসেবে চিহ্নিত। তবে দিন দিন এর উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়ছে তাতে হাঁস, মুরগি ও ডিমের দামও অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।

আর উৎপাদন খরচ বাড়ার বড় কারণ হচ্ছে এর প্রধান অনুষঙ্গ ফিড মিল ইন্ড্রাস্টিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান জনিত ব্যয় বৃদ্ধি, এবং বিদ্যুতের পরিবর্তে তুলনামূলক বেশি দামে তেল দিয়ে জেনারেটর চালানো। এই অবস্থায় কম মূল্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহার করে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ফিড মিল স্থাপন করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘পোল্ট্রি টেক বাংলাদেশ হোস্টস ফিড মিলিং ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় পোল্ট্রি টেক বাংলাদেশ, নেদারল্যান্ডভিত্তিক কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান লারিভ ইন্টারন্যাশনাল ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রাণী খাদ্য প্রক্রিয়াজাত ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভান আরসেন ইন্টারন্যাশনাল বি.ভি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র পলিসি উপদেষ্টা হারুনি ওসমান, একই দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারি সারা ভান হোবে, নেদারল্যান্ডভিত্তিক কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান লারিভ ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ম্যাথিস ব্রিনেন, ওয়ান হেলথ পোল্ট্রি হাব- বাংলাদেশ এর গবেষণা ম্যানেজার ডা. রাশেদ মাহমুদ, দেশিয় কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসল পার্টনার্স এর পরিচালক জাহেদুল আমিন ও অন্যান্য নেতারা।

অনুষ্ঠানে কাজী গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, আফতাবগ্রুপ, প্যারাগন, প্রভিটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ জনেরও অধিক কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি অংশ নেন। পোল্ট্রি খাতে সমস্যা, করণীয় ও সুপারিশসমূহ ঠিক করতে এই খাতের স্টেকহোল্ডার ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লাইটক্যাসল পার্টনার্স এর সিনিয়র বিজনেস কনসালট্যান্ট ও প্রজেক্ট ম্যানেজার দিপা সুলতানা।

অনুষ্ঠানে ভান আরসেন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ‘ফিড মিলে জ্বালানি সক্ষমতা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ভান আরসেন প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৯ সাল থেকে প্রাণী খাদ্য প্রক্রিয়াজাত ও প্রস্তুতকারী আধুনিক ফিড মিল স্থাপনে কাজ করছে। বিশ্বের ৪০টি দেশে এইরকম ফিড মিল রয়েছে। এই মিলের মাধ্যমে হাঁস-মুরগিকে মানসম্মত ও নিরাপদ খাবার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যথাযথ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে। বাংলাদেশেও  এটি ব্যাপকভাবে চালু করা হলে তুলনামূলক কম দামে খামারে পোল্ট্রি খাবার (ফিড) সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে দি ওয়ান হেলথ পোল্ট্রি হাব এর পক্ষ থেকে একটি গবেষণা সমীক্ষা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, নিরাপদ ও অধিকতর টেকসই পদ্ধতিতে পোল্ট্রি উৎপাদন ও সঠিকভাবে বাজারজাত করলে তা মানুষ ও প্রাণীর বিভিন্ন রোগ-বালাই কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আলোচনায় পোল্ট্রি শিল্প রক্ষায় বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা উঠে আসে। এগুলো হচ্ছে- সাম্প্রতিক সময়ে পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বাড়ানো, বাজারে মুরগি ও ডিমের দামে অস্থিতিশীলতা, প্রান্তিক খামারিদের সহজে ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, আপদকালীন প্রণোদনা না থাকা, কাঁচামাল ও পণ্য আমদানিতে বেশি শুল্ক আরোপ ইত্যাদি।

প্রসঙ্গত: পোল্ট্রিটেকবাংলাদেশ (PoultryTechBangladesh) পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ এর আওতায় বাংলাদেশের এই সম্ভাবনাময় খাতকে শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নেদারল্যান্ডস এন্টারপ্রাইজ এজেন্সি, বাংলাদেশস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাস এবং নেতৃস্থানীয় ডাচ ও বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলির যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে পোল্ট্রিসহ খাদ্যে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দেশের কৃষক ও খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ল্যারিভ ইন্টারন্যাশনাল এবং লাইটক্যাসল পার্টনারস-এই দুই কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান অংশীদারের ভিত্তিতে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে গত কয়েক-বছর ধরে এই ধরনের প্রকল্প পরিচালনা ও বাস্তবায়নে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে এই সংক্রান্ত উপস্থাপনায় বলা হয়, দেশে পোল্ট্রি শিল্পে প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ২৫ লাখ এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ লাখ শ্রমিক জড়িত। বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ড্রাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এর ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পোল্ট্রি শিল্পে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ পোল্ট্রি খামার রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক নারীসহ অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাই বক্তারা-এই শিল্প রক্ষায় সরকারকে বিশেষ প্রণোদনা ও বাস্তবতার নিরিখে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ সময়: ১৬০৯ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০১, ২০২৩
এসআইএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।