ঢাকা, শনিবার, ১৪ মাঘ ১৪২৯, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৫ রজব ১৪৪৪

ক্রিকেট

পাকিস্তানের অভিজ্ঞতার কাছে হেরে গেল জিম্বাবুয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৪১ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৫, ২০২১
পাকিস্তানের অভিজ্ঞতার কাছে হেরে গেল জিম্বাবুয়ে সংগৃহীত ছবি

সিরিজের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতার কাছে হেরে গেল জিম্বাবুয়ে। অন্যদিকে এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ ঘরে তুলেছে পাকিস্তান।

রোববার (২৫ এপ্রিল) হারারে স্পোর্টস স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ২৪ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। শুরুতে ব্যাটিং করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রানের সংগ্রহ পায় বাবর আজমের দল। জবাবে ২০ ওভার ব্যাটিং করেও ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান তুলতে পারে জিম্বাবুয়ে।

ফলাফল বলছে পাকিস্তান সহজেই জিতেছে। কিন্তু ম্যাচের আসল চিত্রটা ভিন্ন। শেষদিকে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ালেও একটা পর্যায় পর্যন্ত মাধেভেরে এবং মারুমানি মিলে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছিলেন। পাকিস্তান তখন খেই হারানোর পথে। কিন্তু মোহাম্মদ হাসনাইন এসে দৃশ্যপট পাল্টে দিলেন। পরে বল হাতে আগুন ঝরালেন হাসান আলী।

মাঝারি লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে তারিসাই মুসাকান্দা (১০) বিদায় নেওয়ার পর মারুমানি ও মাধেভেরে মিলে ৬৫ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। কিন্তু বোলিংয়ে এসেই মারুমানিকে (৩৬ বলে ৩৫ রান) বিদায় করেন পাকিস্তানি পেসার হাসনাইন। এরপর এক প্রান্তে আটকে যান ব্র্যান্ডন টেইলর। কারণ মাধেভেরে স্ট্রাইক বদল করতে পারছিলেন না।  

হাসনাইনের ওই আঘাতের পর পাকিস্তানের বাকি পেসাররাও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলে দেন। মারুমানির বিদায়ের পরের পাঁচ ওভারে স্বাগতিকরা মাত্র ৩২ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে আরও ৩ উইকেট। এর মধ্যে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মাধেভেরেকে বিদায় করে আসল কাজটা সারেন হাসনাইন।  

৪৭ বলে ৫৯ রান করা মাধেভেরের বিদায়ের পর কার্যত ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। বড় ভরসা টেইলর এক প্রান্তে থাকলেও অন্য প্রান্তে উইকেট পতনের মিছিল চলতেই থাকে। অবশেষে ইনিংসের শেষ ওভারের পঞ্চম বলে আউট হওয়ার আগে টেইলর ২২ বলে করেন মাত্র ২০ রান।  

বল হাতে ৪ ওভারে ১৮ রান খরচে ৪ উইকেট নিয়েছেন হাসান আলী। সমান ওভারে ৩৪ রান খরচে ২ উইকেট গেছে হারিস রৌফের ঝুলিতে। বাকি উইকেট হাসনাইনের।

এর আগে মোহাম্মদ রিজওয়ানের অপরাজিত ৯১ রান ও অধিনায়ক বাবর আজমের ৫২ রানের ইনিংসে ভর করে মাঝারি সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। রিওয়ান ৬০ বলে নব্বই ছাড়ানো ইনিংসটি খেলার পথে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। আর ৪৬ বলে ৫ চারে ৫২ রান করার পথে বিরাট কোহলির একটি রেকর্ড ভেঙেছেন বাবর।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ২০০০ রানের রেকর্ড এতদিন ছিল বিরাট কোহলির দখলে। সেই রেকর্ডের নতুন মালিক এখন বাবর আজম। ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করতে ভারতীয় অধিনায়ক কোহলির লেগেছিল ৫৬ ইনিংস। তার চেয়ে ৪ ইনিংস কম খেলেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন পাকিস্তানি অধিনায়ক।  

বাবর ও কোহলির পর সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ২০০০ রানের মাইলফলকের তালিকায় আছেন যথাক্রমে অ্যারন ফিঞ্চ (৬২), ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (৬৬) ও মার্টিন গাপটিল (৬৮)।

বল হাতে একাই ৩ উইকেট নিয়েছেন জিম্বাবুয়ের পেসার লুক জঙউই। এর আগে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম জয় পাওয়ার ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তানের পেসার হাসান আলী।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪১ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৫, ২০২১
এমএইচএম  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa