ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ মাঘ ১৪২৮, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

বয়স হলে আমিও বাবার মতো যুদ্ধে যেতাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৩৮ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৪, ২০১৪
বয়স হলে আমিও বাবার মতো যুদ্ধে যেতাম

চট্টগ্রাম: একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিতে না পারায় আক্ষেপ করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

তিনি বলেছেন,‘আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

আমি তখন বয়সে খুবই ছোট ছিলাম। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারিনি। বয়স থাকলে আমিও বাবার মতো যুদ্ধে যেতাম। ’

শুক্রবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী জাবেদ এসব কথা বলেন।

ভারত সরকার কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের বৃত্তি প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন,‘ আমি একজন শহীদ পরিবারের সন্তান। আমার কাকা বশরুজ্জামান চৌধুরী চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। ’

স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সরকারের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন,‘বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের মুক্তির যুদ্ধে একাত্তরে ভারত সরকার সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। যা আমাদের যোদ্ধাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এরফলে ন’মাসেই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হয়। ’

তিনি বলেন,‘সম্প্রতি আমরা একটা যুদ্ধে ছিলাম, দেশকে তালেবান ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছিল। আমরা ওই যুদ্ধেও কিছুটা জয়ী হয়েছি। বাঙালি কখনও হারে না। মাথা উচু করে বাঁচতে চায় এই জাতি। ’

নির্বাচন প্রসঙ্গে জাবেদ বলেন,‘নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর অনেক চাপ ছিল। কিন্তু তিনি তার লক্ষ্য থেকে একচুলও সরে আসেন নি। লক্ষ্য ঠিক রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি বদ্ধ পরিকর, আর সে অনুযায়ীই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। ’

তিনি বলেন,‘গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে শিক্ষা, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে। আরও উন্নয়ন পরিকল্পনা আছে। ’

এ সময় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নে নিজের জায়গা থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও ঘোষণা দেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রয়াত সংসদ সদস্য আখরুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে জাবেদ।

ষড়যন্ত্র বাংলাদেশকে রুখতে পারবে না জানিয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন,‘দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে একটি সুন্দর ক্যাবিনেট উপহার দিয়েছেন। সুযোগ দিয়েছেন দক্ষতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার। ভবিষ্যতে দেশ সব ষড়যন্ত্র ভেদ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। ’

কষ্টের বিনিময়ে অর্জিত দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার সোমনাথ ঘোষ বলেন,‘একাত্তরে দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা নি:স্বার্থভাবে যুদ্ধ করেছেন। তাদের এই নি:স্বার্থ আত্মত্যাগকে আমারা শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি। ’

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে এবং বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে এক হতেই ভারত সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শহীদ জায়া বেগম মুসতারি শফী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহবুবুল হক, মুক্তিযোদ্ধা অমল মিত্র সহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার মুক্তিযোদ্ধারা  উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি ও ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেন।

প্রসঙ্গত, ভারত সরকার তৃতীয়বারের মতো সারা দেশে উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক স্তরের ১হাজার ৩শ’ ৬৪জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে বৃত্তি দিচ্ছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ৮১জন উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক স্তরে ৬৭ জনসহ মোট ১৪৮ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়।

স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক ২৪ হাজার টাকা ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ১০ হাজার টাকা হারে বৃত্তি দেয় হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বাংলাদেশ সময়: ১২২৯ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৪, ২০১৪

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa