ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৭ মে ২০২২, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

‘প্রভাবশালী’র ভয় সাতকানিয়ার স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনুদ্দিনের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৬, ২০২২
‘প্রভাবশালী’র ভয় সাতকানিয়ার স্বতন্ত্র প্রার্থী মঈনুদ্দিনের বক্তব্য দেন চরতী ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মঈনুদ্দিন চৌধুরী।

চট্টগ্রাম: সাতকানিয়ার ‘প্রভাবশালী’ চক্রের ভয়ে ‘নিরাপত্তাহীন’ ১ নম্বর চরতী ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মঈনুদ্দিন চৌধুরী।

বুধবার (২৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান।

 

মঈনুদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমার প্রতীক আনারস। আমার বাবা মরহুম বজল আহমদ চৌধুরী ২৮ বছর চরতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা বিধান করেছিলেন। আমি, আমার বড় ভাই চরতী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দিন চৌধুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। এর ধারাবাহিকতায় আমি নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। পরে জানতে পারি জামায়াত নেতা মুমিনুল হক চৌধুরীর ছেলে রুহুল্লাহ চৌধুরীকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার পক্ষের পরিবারের সদস্য হিসেবে আমার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক, দুঃখজনক ও হতাশাজনক ছিল। কিছুতেই নৌকা প্রতীকে রাজাকারের উত্তরসূরিকে চেয়ারম্যান পদে মানতে না পেরে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিই। যদিও রুহুল্লাহ চৌধুরী অত্যন্ত প্রভাবশালী।  

মঈনুদ্দিন বলেন, গত ২২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ছিল। আমি যেহেতু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করছি না তাই আগের দিন ২১ জানুয়ারি রাত ১২টায় অচেনা ৫০-৬০ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী আমরা চরতীর বাড়িতে গিয়ে হইচই, চিৎকার ও অশ্লীল ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করে। ২২ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে আমাকে জানে মেরে ফেলবে বলে শাসিয়ে আসে। ২২ জানুয়ারি ওমর আলী মাতবর সড়কের নাজমা টাওয়ারে আমার বাসায় শতাধিক মুখোশ পরা সশস্ত্র সন্ত্রাসী শাসাতে থাকে, পরিবারের সদস্যদের অপহরণের হুমকি দেয়। এ অবস্থায় আমি নির্বাচন ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় সময় অতিবাহিত করছি।  

সংবাদ সম্মেলনে মঈনউদ্দিন চৌধুরী সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ আনেন। তার দাবি, চান্দগাঁও থানা থেকে ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য তার বাসায় গিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। তার গ্রামের বাড়িতেও সাদা পোশাকে পুলিশ গিয়ে হুমকি দিয়েছে।

মঈনউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আমি এতদিন প্রচারণায় নামতে পারিনি। এলাকায়ও যেতে পারছি না। ইনশাআল্লাহ আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে আমি প্রচারণায় নামব। আমি পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি। আমার নিরাপত্তা দাবি করছি। আমি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ’

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৫  ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৬, ২০২২
এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa