ঢাকা, সোমবার, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

এক বছরে রেলের ১০ একর ভূমি উদ্ধার

সৈয়দ বাইজিদ ইমন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৪৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২
এক বছরে রেলের ১০ একর ভূমি উদ্ধার রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযান।

চট্টগ্রাম: ১৭৬০ সালে চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রিটিশরা। এরপর থেকেই চট্টগ্রামে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করে তারা।

১৮৭০ সালে নগরের কদমতলী থেকে টাইগারপাস হয়ে পাহাড়তলী পর্যন্ত ২০৯ একর জমি অধিগ্রহণ করে ব্রিটিশরা। ১৮৭২ সালে প্রশাসনিক ভবন হিসেবে সিআরবি (সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং) নির্মাণ করা হয়।

আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে প্রতিষ্ঠার পর ১৮৯৩ সালের ১৪ নভেম্বর সরকারি গেজেটের মাধ্যমে সিআরবিসহ ১৬০ একর জমি রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করে ব্রিটিশ সরকার। সিআরবিকে করা হয় আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের সদর দফতর।

চট্টগ্রামে রেলপথ এসেছে আসাম ও সিলেটের সমৃদ্ধ চা শিল্পকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে। সে সময় আসাম থেকে দূরত্ব অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চা রপ্তানি করা যেত না। চা বোঝাই নৌকা অথবা গরুর গাড়ি কলকাতা পৌঁছাতে সময় লাগত ১৫ দিন। সেখান থেকেই বিশ্ব বাজারে এই চা রপ্তানি হতো। এসবের গুরুত্ব বিবেচনায় ব্রিটিশরা সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। অধিগ্রহণ করে ভূমি।  

নানা কারণে বেহাত হয়েছে রেলওয়ের অনেক ভূমি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জায়গাগুলো উদ্ধারে অভিযান শুরু করে রেলওয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগ বেহাত হওয়া রেলওয়ের জায়গা পুনরুদ্ধারে নামে। গত এক বছরে রেলওয়ে উদ্ধার করেছে ১০ একর জায়গা। এছাড়াও বিতাড়িত করা হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার অবৈধ দখলদারকে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনা।  

জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট জানআলী হাট রেলস্টেশনের দুই পাশে রেলওয়ের মালিকানাধীন ভূমিতে অবৈধভাবে নির্মিত ২৫৩টি সেমিপাকা, টিনসেড ও ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেদ করা হয়। বিতাড়িত করা হয় ৫৪৮ দখলদারকে। উদ্ধার হয়েছে ১ দশমিক ৩ একর জায়গা।  

৭ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত চারটি অভিযানে নগরের কদমতলী রেলওয়ে বাংলো নম্বর এফ/২৩ সংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের মালিকানাধীন ভূমিতে অবৈধভাবে নির্মিত ৩২টি স্থাপনা, ৫০ জন দখলদার ও শূন্য দশমিক ২ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও রেলওয়ের চট্টগ্রাম পে-অ্যন্ড ক্যাশ, রেলওয়ে ম্যান্স স্টোর, চাঁদপুর বড় রেলস্টেশন সংলগ্ন ৩ নম্বর কয়লাঘাট এলাকা, চট্টগ্রাম ঝাউতলা-ষোলশহর এলাকা থেকে ৯১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ৫১৬ জন অবৈধ দখলদারকে বিতাড়িত ও শূন্য দশমিক ৯৩ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়।  

জানুয়ারির দুইটি অভিযানে নগরের বাটালী সড়কের হাসপাতাল কলোনি, ঝাউলা বিজিএমইএ ভবনের উত্তর পাশের এলাকা, ফেনী রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা, বারোইয়ারহাট রেল গেট এলাকা, কদমতলী, দেওয়ানহাট, ইস্পাহানী রেল গেট, কৈবল্যাধাম, ফৌজদারহাট, ভাটিয়ারী লেভেলক্রসিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২৫টি অবৈধ স্থাপনা, ৩৬০ জন অবৈধ বসবাসকারীকে উচ্ছেদ করে রেলওয়ের শূন্য দশমিক ৮০ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়। মার্চে পাহাড়তলী স্টেশনের দক্ষিণ অংশ, গোয়ালপাড়া তুলাতলী রোড় সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৪০৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ৩ হাজার ৬৫১ জন অবৈধ বসবাসকারীকে বিতাড়িত করে ৩ দশমিক ৩৩৮ একর জায়গা উদ্ধার করে রেলওয়ে।

মে মাসে লাকসাম স্টেশনের সিগন্যাল কেবিন সংলগ্ন এলাকা, স্টেশনের দুই পাশ, ঝাউতলা স্টেশন সংলগ্ন বাজার রোড় থেকে স্টিল পানির ট্যাংক রোডের গোডাউন সংলগ্ন রেলওয়ের মালিকানাধীন ২৮৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ১ হাজার ২০৪ জন দখলদারকে বিতাড়িত করে শূন্য দশমিক ৭৩ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়।  

জুন মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন লাইনের দুই পাশের ৬/৩ থেকে ৬/৪ এর মধ্যবর্তী কৈবল্যধাম স্টেশনের উত্তর পাশ, সেগুনবাগান রেঞ্জ রোডের রেলওয়ে বাংলো নম্বর এসআর/৫ এর সীমানা দেয়ালের ভেতরে ও বাইরে, ফয়’স লেকের ১ নম্বর ঝিল, লাকসাম, নোয়াখালী, বিপুলসার, সোনাইমুড়ী স্টেশনে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ২৫৪টি স্থাপনার ৭৫৬ জন অবৈধ দখলদারকে বিতাড়িত করে ১ দশমিক ৪৭ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়।

জুলাইয়ের একটি মাত্র অভিযানে সীতাকুণ্ড থানাধীন কুমিরা স্টেশন এলাকার উত্তরে লেভেলক্রসিং এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ও ১৬৫ জন দখলদারকে তাড়িয়ে দিয়ে শূন্য দশমিক ৩৪ একর জায়গায় উদ্ধার করা হয়। আগস্ট মাসে নগরের এনায়েত বাজার, ঝাউতলা, চট্টগ্রাম রেলস্টেশন কলোনি, চট্টগ্রাম থেকে ফৌজদারহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২৯০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ১৯৩ জন দখলদারকে বিতাড়িত করে রেলওয়ের শূন্য দশমিক ৮২ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়।  

গত এক বছরে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের ২৪টি অভিযানে ১০ একর ভূমি উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও বিতাড়িত করা হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার অবৈধ দখলদারকে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনা।  

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ের জায়গা বিভিন্ন মহল অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছে। আমরা রেলওয়ে এসব অবৈধ দখলদারকে বিতাড়িত করতে বদ্ধপরিকর। রেলওয়ের বেহাত হওয়া এসব জায়গা উদ্ধারে আমাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১১২০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২
বিই/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa