ঢাকা, বুধবার, ৪ বৈশাখ ১৪৩১, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৭ শাওয়াল ১৪৪৫

দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা

হর্ন বাজিয়ে জরিমানা গুনলেন ১০০ চালক

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৫৪ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩
হর্ন বাজিয়ে জরিমানা গুনলেন ১০০ চালক

কলকাতা: এশিয়ার ব্যস্ততম রেল স্টেশন কলকাতার শিয়ালদহ। এই স্টেশন লাগোয়া রাজপথে যত রকম শব্দ দূষণ।

সারাদিন গাড়ির হর্নের শব্দে কান-প্রাণ ঝালাপালা। কলকাতা পুলিশের এক সমীক্ষায় এমনই তথ্য সামনে এসেছে।  

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হর্ণ প্রবণ এলাকা নীলরতন সরকার (এনআরএস) হাসপাতাল সংলগ্ন শিয়ালদহ চত্বর। কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজার থানার তরফে, গত ৩ ও ১৬ জানুয়ারি শহরজুড়ে অহেতুক হর্ন বাজানোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।  

পুলিশের প্রতিবেদন বলছে, দুদিনই বিনা কারণে হর্ন বাজানোর অপরাধে সবচেয়ে বেশি চালককে জরিমানা করা হয়েছে শিয়ালদহ অঞ্চলে। গত ৩ জানুয়ারি অহেতুক হর্ন বাজানোর কারণে শহরে মোট ৪১ জনকে জরিমানা করেছে কলকাতা পুলিশ। এই অভিযোগে, শুধুমাত্র শিয়ালদহ থেকে ১১ জন গাড়ি ও বাইকচালক ধরা পড়েছে।

এরপর ১৬ জানুয়ারি, ফের সারপ্রাইজ অভিযান চালায় পুলিশ। রিপোর্ট অনুযায়ী, আগের দিনের তুলনায় এদিন অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানোর অভিযোগ আরও বেড়েছে। কেবল ১৬ জানুয়ারি পুলিশের ট্রাফিক গার্ড ও অ্যান্টি পলিউশন সেলের যৌথ অভিযানে ৫৯ জনকে জরিমানা করা হয়েছে।

কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা শিয়ালদহ। সেখানে একদিকে এনআরএস হাসপাতাল, অন্যপাশে রেলের বিআরসিং হাসপাতাল। স্বভাবতই এই হাসপাতাল দুটিতে বহু মুমূর্ষু রোগী ভর্তি থাকেন। রোগীদের পরিবারের দাবি, এত শব্দ হলে রোগীরা তো এমনিতেই অসুস্থ হয়ে পড়বেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা ফতেমা খাতুন বাবাকে হার্টের চিকিৎসা করাতে এনআরএস হাসপাতালে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ট্রেন থেকে নামার পরেই হর্নের শব্দে বুক ধড়ফড় করছিল বাবার। শুধু সড়কে নয়, হাসপাতালের ভেতর থেকেও শোনা যাচ্ছে গাড়ির বিকট হর্নের শব্দ।

শব্দ যন্ত্রণা প্রসঙ্গে এনআরএস হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. পীতবরণ চক্রবর্তী বলেন, হাসপাতালের দুই পাশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা রয়েছে। যেখানে সারাদিন হর্ন বেজেই চলেছে। যা রোগী ও চিকিৎসকদের কাছে অত্যন্ত বিরক্তির বিষয়। পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করব, যাতে এই শব্দ-যন্ত্রণা রোধ করা যায়।  

জেনারেল ফিজিশিয়ান তথা ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা. গোরাচাঁদ সাহা বলেন, ইদানীং হর্ন যন্ত্রনা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আর তা গাড়ি বেড়েছে বলে নয়, মানুষের ধৈর্য্য কমেছে। এ কারণে মানুষের কানের সমস্যা বা মাথা ব্যথার মত সমস্যা বাড়ছে। অনেকক্ষেত্রে নার্ভের সমস্যাও বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে লালবাজারের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শুধু শিয়ালদহ নয়, গোটা শহরে হর্ন যন্ত্রণা আগের তুলনায় বেড়েছে। আর তা আয়ত্বে আনতে প্রায় প্রতিদিন পুলিশের টিম নামছে। মাঝে মাঝে সারপ্রাইজ অভিযান চলছে। বিনা প্রয়োজনে হর্নের ব্যবহার রোধে নিয়মিত ধরপাকড় চলছে। পাশপাশি মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রচারে নামছি। অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো আটকাতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি ট্রাফিক এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক গার্ড ও অ্যান্টি পলিউশন সেলের তরফে এই অভিযান চলছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৩
ভিএস/এনএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।