ঢাকা, বুধবার, ১ শ্রাবণ ১৪৩১, ১৭ জুলাই ২০২৪, ১০ মহররম ১৪৪৬

অর্থনীতি-ব্যবসা

শেষ মুহূর্তে জমছে পশুর হাট, ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি

শরীফ সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৩৭ ঘণ্টা, জুন ১৬, ২০২৪
শেষ মুহূর্তে জমছে পশুর হাট, ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি

রাজশাহী: আকাশচুম্বী দামের কারণে রাজশাহীতে এবার পশুহাটের কেনা-বেচা শুরু থেকেই ছিল ঢিলেঢালা। তবে রোববার (১৬ জুন) রাত পোহালেই ঈদুল আজহা।

হাতে রয়েছে মাত্র আজকের দিনই। তাই শেষ মুহূর্তে জমজমাট হয়ে উঠছে রাজশাহীর বিভিন্ন পশুর হাট।

বিশেষ করে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সিটি হাটে আজ যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সকাল থেকে বেলা যত গড়াচ্ছে পশুর আমদানি ততই বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়ও।

প্রায় একমাস ধরে হাটগুলো ছিল ক্রেতাশূন্য। এতে অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন এই অঞ্চলের খামারিরা। গেল শুক্রবারই (১৪ জুন) প্রথম ভিড় লক্ষ্য করা যায় রাজশাহীর পশুর হাটগুলোতে।

শনিবার (১৫ জুন) থেকে সেই ভিড় পূর্ণতা পায়। আর রোববার (১৬ জুন) রাজশাহীর পশুহাট যেন মানুষের ভিড়ে একাকার হয়ে গেছে। তবে এখনো দাম খুব একটা কমছে না কোরবানির পশুর। তাই মানুষের ভিড়ে পশুর হাট জমে উঠলেও কেনা-বেচা হচ্ছে কম। যদিও রাত গড়ালে দাম কমবে বিক্রি বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।

এখন ক্রেতা-বিক্রেতার দরদামেই পশুহাট মেতে উঠেছে। সময় খুবই কম। এজন্য দুপুর গড়াতেই কোরবানির জন্য পছন্দের পশুটি কিনতে বেশিরভাগ মানুষই এখন হাটে ছুটছেন। যাদের কোরবানির পশু রাখার জায়গা নেই তারাও ছিলেন এই চাঁদ রাতের অপেক্ষায়। তাই হাটে মানুষের ঢল নামছে। যা দেখে শেষ সময়ে হাট জমে ওঠার স্বপ্ন দেখছেন খামারিরা।

দেখা যাচ্ছে, হাটে একদিকে যেমন দরদাম চলছে অন্যদিকে তেমন পশু কেনাবেচাও শুরু হয়েছে। তবে বাজারে মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় কোরবানির পশুর দামও প্রায় দ্বিগুণ চড়েছে। খামারি ও ব্যবসায়ীরা মাংসের দামের কেজি হিসাবে পশুর দাম নির্ধারণ করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি দাম হাঁকছেন। আর দাম বেশি হওয়ায় কম বাজেটে কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে বাধ্য হয়েই বাজেট বাড়াচ্ছেন।

তবে যাদের সামর্থ্য রয়েছে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তারা বেশি দাম দিয়েই কোরবানির জন্য হাটের সেরা পশুটিই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। রোববার দুপুরের পর তাই মানুষের ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রাজশাহী সিটি হাট ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির জন্য সবাই ছোট এবং মাঝারি আকৃতির গরুর চাহিদাই বেশি। আর তাই বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকৃতির গরুর দামও বেশি। তবে এক লাখ টাকার নিচে গরুই যেন নেই। গরুর গায়ে হাত রাখলেই যেন এক লাখ টাকা দাম হাঁকা হচ্ছে। মাঝারি আকৃতির গরুগুলো দেড় লাখ টাকার ওপরে দাম হাঁকা হচ্ছে। আর হাটের বড় আকৃতির গরুগুলোর দাম শুরুই হচ্ছে পৌনে দুই লাখ টাকা থেকে।

প্রতিবার শেষ সময়ে দাম কমতে শুরু করলেও এবারের চিত্র যেন উলটো। তাই দাম নিয়ে এক ধরনের অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে পশু হাটে। এরপরও দূর-দূরান্ত থেকে মিনি ট্রাক, নসিমন, করিমন ও ভটভটিবোঝাই গরু নিয়ে আসছেন মালিক, খামারি ও বেপারীরা।

ক্রেতাদের অভিযোগ শেষ মুহূর্তেও দাম ধরে রাখছেন বিক্রেতারা। তবে খামারি এবং ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে গোখাদ্যের দাম বেশি। এতে গরু লালন-পালন করতে বছরজুড়ে খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। তাই কোরবানির পশুর দামও দ্বিগুণ। করার কিছু নেই।

পবার পারিলা ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামের খামারি গোলাম মোস্তফা বাংলানিউজকে বলেন, গো-খাদ্যের দাম হু-হু করে বেড়েই চলেছে। বছরজুড়ে গরু-ছাগল লালন-পালন করতে যেই খরচ হচ্ছে কোরবানির হাটে এসে সেই খরচও ওঠানো দায় হয়ে গেছে। ক্রেতারা কম দাম বলায় অনেকে গরু বিক্রি না করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে ক্ষতি করেও গরু-ছাগল বিক্রি করে দিচ্ছেন। তাই দাম বেশি মনে হলেও তাদের কিন্তু খুব একটা মুনাফা হচ্ছে না। কিছু অ্যাগ্রো ফার্ম লাইভ ওয়েটে (ওজন দেখিয়ে) কোরবানির পশু বিক্রি করছেন। লাভ তারাই করছেন। প্রান্তিক খামারিদের অবস্থা বেশি ভালো না। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেকেই আর কোরবানি জন্য গরু-ছাগল প্রস্তুত করবে না বলেও জানান।

শেষ দিনে গরু নিয়ে হাটে আসা পুঠিয়ার ভাল্লুকগাছি গ্রামের হোসেন আলী বলেন, তার কাছে তিন মণ ওজনের দুইটা গরু ছিল দাম ১ লাখ ২০ হাজার লাখ টাকা করে। ৪ মণ ওজনের গরু আছে দুইটা দাম দেড় লাখ টাকা করে। আর ছয় মণ ওজনের গরুটি ২ লাখ টাকা দাম হাঁকছেন। কিন্তু বড় গরু ক্রেতা কম। সকালে ছোট গরু দুইটি বিক্রি করেছেন। কিন্তু বাকিগুলো এখনো দরদামই চলছে।

এদিকে কোরবানির পশু কিনতে আসা রাজশাহীর নতুন বিলসিমলা এলাকার রাইসুল আলম বলেন, মানুষের ভিড় ঠেলে এই তীব্র গরমে হাটে এসেছেন। কারণ আজই শেষ দিন। ভেবেছিলেন আজ দাম কমবে। কিন্তু পরিস্থিতি অন্য। দাম আজও বেশি। তাই দরদাম করে কোরবানির জন্য সেরা পশুটিই কেনার চেষ্টা করছেন। পশুর সরবরাহও বেশি। ওজন না দেখলেও মাঝারি আকৃতি দেখে দাম নিয়ে কষাকষি করে দেড় লাখ টাকার ভেতরেই গরু কেনার চেষ্টা করছেন বলেও জানান।

রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান বলেন, শেষ দিনে আজ হাট জমজমাট, গরু আমদানিও বেশি। কিন্তু কেনা-বেচা অন্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম। আর বাইরের বেপারীও খুব একটা আসেনি। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অ্যাগ্রো ফার্ম হওয়ার কারণে মানুষের পশুহাটে আসার আগ্রহ কমে যাচ্ছে। বেশিরভাগ মানুষ হাটের বাইরে অনলাইন দেখেই গরু কিনছেন। আর উৎপাদন বেশি হলেও এবার দাম বেশি। যে কারণে শেষ মুহূর্তের কেনা-বেচাও আর আগের বছরগুলোর মতো হয়তো জমজমাট হবে না।

বাংলাদেশ সময়: ১৭৩৭ ঘণ্টা, জুন ১৬, ২০২৪
এসএস/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।