ঢাকা, বুধবার, ১৮ মাঘ ১৪২৯, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৯ রজব ১৪৪৪

অর্থনীতি-ব্যবসা

বিশ্বব্যাংকের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ রিপোর্টে বিস্মিত বিডা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১
বিশ্বব্যাংকের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ রিপোর্টে বিস্মিত বিডা কর্মশালা চলছে।

ঢাকা: ব্যবসায়িক পরিবেশ আরো উন্নত করতে সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি বেসরকারিখাতের তদারকির দরকার আছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।  

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ৮০ শতাংশ অধিক নির্ভরতা বেসরকারি খাতের ওপরে।

এ সময় তারা বিশ্ব ব্যাংকের ২০১৯ সালে প্রকাশিত হওয়া জরিপের সমালোচনা করেন। বিশ্ব ব্যাংকের এই জরিপ দেখে আমরা বিম্মিত। তারা কীভাবে কাদের কাছ থেকে এ তথ্য নিয়ে তা নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। তবুও আমরা তাদের সূচকের ওপর যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে খাত সংশ্লিষ্টদের কিছু কিছু নির্দেশনা দিয়েছি। যাতে করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এদেশে সহজে ব্যবসা করার পরিবেশ পায় এবং আমরা এই সূচক এগিয়ে থাকতে পারি।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে বিডা আয়োজিত ব্যবসা সহজীকরণ সূচক বিষয়ক এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা।  

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত (২৫ অক্টোবর ২০১৯) ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ রিপোর্টে ২০২০ বা সহজে ব্যবসা করার সূচক অনুযায়ী ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। গতবার যা ছিল ১৭৬তম। বাংলাদেশ এগিয়ে ছিলো আট ধাপ।   এর কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাংক বলছে, ব্যবসা শুরু করতে আগের চেয়ে খরচ কমেছে বাংলাদেশে। ঢাকাসহ শহর এলাকায় বিদ্যুৎ প্রাপ্তি সহজ হয়েছে। এছাড়া ঋণপ্রাপ্তির ধরনের তথ্য এখন সহজে, আরও বিস্তারিত বিস্তারিত আকারে পান উদ্যোক্তারা।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নয়নের নিরিক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বেস্ট সিক্রেট দেশ হলো বাংলাদেশ, আর এর মূল কারণ হল প্রধানমন্ত্রীর সাহসী বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্ব ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে, আমাদের এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হবে, আমাদের সামনে ২০২৫ সালে মধ্যম মধ্য আয়ের দেশ, ২০৩১ সালে উচ্চ মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা আছে। আমাদের সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রয়োজন, আর অর্থনৈতিক উন্নয়নের ৮০ শতাংশ অধিক নির্ভরতা বেসরকারি খাতের ওপরে। আর এখানে ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ (ব্যবসা সহজ করা) সূচক বড় ফ্যাক্টর। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই সূচক অনুযায়ী বিনিয়োগ করেন। সুতারাং এ সূচকে আমাদের অত্যাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।  ইতোমধ্যে ব্যাবসা সহজীকরণের যে ১০টি সূচক আছে তার মধ্যে ৭টিতে  উল্লেখযোগ্য রিফর্ম করা হয়েছে।

এসময়ে তিনি দেশের সমগ্রিক উন্নয়নের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমরা ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস (ব্যবসা সহজ করা) সূচকের বিভিন্ন রিফর্ম নিয়ে  আমরা কাজ করে চলছি, ইতোমধ্যে অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন তথা দ্রুত ও সহজ সেবার ব্যবস্থা করতে পেরেছি। এসময়ে তিনি আগামী জরিপে ইজ অব ডুয়িং বিজনেস (ব্যবসা সহজ করা) ১০টি সূচকেই উন্নয়নের মাধ্যমে দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে কর্মশালায় বিডার মহাপরিচালক মো. ওয়াহিলুদ ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বিডা কর্মকর্তা উপমা ফারিসার সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিডার নির্বাহী সদস্য সাইফুল্লাহ মকবুল মোর্শেদ, আবুল খায়ের মো. আমিনুর রহমান, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাফর আলম, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ২০২৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২১
এমআইএস/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa