ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৩ মে ২০২৪, ১৪ জিলকদ ১৪৪৫

নির্বাচন ও ইসি

রায়পুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী এমপি নয়নের ভগ্নিপতি 

মো. নিজাম উদ্দিন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১২৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ২২, ২০২৪
রায়পুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী এমপি নয়নের ভগ্নিপতি  নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও মামুনুর রশিদ

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোট করবেন সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের আপন ভগ্নিপতি অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ। এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

 

জেলা রিটার্নিং কার্যালয় থেকে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ উপজেলাতে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন হাওলাদার।  

মামুনুর রশিদ উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর-সদর আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের আপন ভগ্নিপতি তিনি।  

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীসহ স্থানীয়দের মাঝে সমালোচনা চলছে।  

যদিও কয়েকদিন ধরে মামুনুর রশিদকে 'একক প্রার্থী' করতে এমপি নয়ন সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদেরও চাপের মধ্যে রাখার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার নামে 'সমঝোতা' সভার আয়োজন করেন তিনি। সেখানে চেয়ারম্যান পদে শুধুমাত্র এমপি নয়নের ভগ্নিপতি মামুনুর রশিদ ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে মারুফ বিন জাকারিয়াকে মনোনীত করা হয়।  

গত শুক্রবার ওই সভায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হলেও সেটা আর বাস্তবায়ন হয়নি। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষদিন পর্যন্ত রায়পুর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুইজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।  

বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মারুফ বিন জাকারিয়া বিগত সময় ধরে চেয়ারম্যান পদে প্রচারণা চালালেও 'সমঝোতা' বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। যদিও এ পদে আরও চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।  

আর চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া আলতাফ হোসেন হাওলাদার বাংলানিউজকে বলেন, এমপি দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে তার ভগ্নিপতি মামুনুর রশিদকে একক প্রার্থী করতে চেয়েছেন। যদিও দলের নির্দেশনা অনুযায়ী মামুনুর রশিদ প্রার্থী হতেই পারেন না। আমি দলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রার্থী হয়েছি। আমার কাছে দল আগে।  

তিনি বলেন, দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের পরিবারের সদস্যদের প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত দিলেও আমাদের এমপি মহোদয় নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন।  

তিনি জানান, নির্বাচন না করতে তাকে বিভিন্ন লোকজনকে দিয়ে অনুরোধ করানো হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন করে যাবেন বলে জানান।

জানতে চাইলে মামুনুর রশিদ বাংলানিউজকে বলেন, নির্বাচনে দলীয় কোনো প্রতীক নেই। দল থেকে প্রার্থী হইনি। আমি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছি। ১৯৯১ সালে আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ১৯৯৭ সালে সভাপতি, ২০১৫ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে এখনো সভাপতির দায়িত্বে আছি। ২০১৯ সাল থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছি। এমপি মহোদয় ২০২১ সালে সংসদ সদস্য হয়েছেন। তার আগে থেকেই আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তাই আমার বেলায় এ ধরনের নির্দেশনা নাও হতে পারে। আর আমাদের কাছে কেন্দ্রীয়ভাবে লিখিত কোনো নির্দেশনাও আসেনি। হয়তো মন্ত্রী-এমপিদের ছেলে বা ভাই- এরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না, তাদের বেলায় এ নির্দেশনা হতে পারে।  

এদিকে উপজেলা চেয়রাম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী দিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের যে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন।

এমপি নয়ন তার বক্তব্যের একপর্যায়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দলের স্বার্থে ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী দিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তে একমত থাকলে দু' হাত তুলে দেখান। আপনাদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী দিনগুলোতে ইউপি, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী দিয়ে দলের ঐক্য ধরে রাখবো। আপনারা যেভাবে চান সেভাবেই প্রার্থী হবে। আমরা কোনো প্রার্থী চাপিয়ে দেব না। আমাদের একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলেও তাদের মধ্য থেকে আপনারা যে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী চান আলোচনার মাধ্যমে আমরা তা সিদ্ধান্ত নেব। চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়টি নিয়ে এমপি নয়ন উপস্থিত নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে সবাই হাত তুলে সম্মতি জ্ঞাপন করেন।  

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা পরিষদের পুরো নির্বাচন সমন্বয় করার জন্য চারজন নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছি। বিএনপি ও জামায়াত ইসলাম নির্বাচন করলে আমাদের সিদ্ধান্ত একরকম হবে, তারা নির্বাচন না করলে হবে অন্যরকম। দল থেকে একক প্রার্থী দিলেও অন্যরা প্রার্থী হতে পারবেন। কিন্তু তারা দলের সমর্থিত প্রার্থী নন। যেহেতু কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে উন্মুক্ত নির্বাচনের তাই কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, দল থেকে একক প্রার্থী দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। ক্ষমতাও কারো নেই। যারা করেছে তারা অবৈধভাবে করেছে। দলের কেউই কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো দলগতভাবে কোনো প্রার্থী দেওয়া যাবে না। এমপি-মন্ত্রীর কোনো আত্মীয়-স্বজনও নির্বাচন করতে পারবে না। কোনো ধরনের হস্তক্ষেপও করা যাবে না। আর বর্ধিত সভায় আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি, বিষয়টি আমি কেন্দ্রে জানাবো।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (২১ এপ্রিল) রায়পুর উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। ৩০ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।  

বাংলাদেশ সময়: ২১১৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ২২, ২০২৪
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।