ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৫ রজব ১৪৪৪

বিনোদন

কথা বলতে ও খেতে পারছেন এটিএম শামসুজ্জামান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২০৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯
কথা বলতে ও খেতে পারছেন এটিএম শামসুজ্জামান

আবারো গুরুতর অসুস্থ কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) তার চিকিৎসা চলছে।

এটিএম শামসুজ্জামানের চোখে ভাইরাস অ্যাটাক করেছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যার কারণে তিনি স্বাভাবিকভাবে খেতে এবং কারো সঙ্গে কথাও বলতে পারছিলেন না।

তবে রোববার (২২ ডিসেম্বর) বর্ষীয়ান এই অভিনেতার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এখন তিনি কথা বলতে ও খেতে পারছেন।

এটিএম শামসুজ্জামানের মেয়ে কোয়েল আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, গতকালের চেয়ে আজ বাবার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এখন খেতে পারছেন এবং কথাও বলছেন। একটি টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, বাবার চোখে এক ধরণের ভাইরাস আক্রমণ করেছে। যার কারণে এসব সমস্যা হচ্ছে। আবার ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্টোক করেছেন। তবে এমআরআই রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি চিকিৎসক নিশ্চিত হতে পারছেন না। আরও দুই সপ্তাহ ওনাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হতে পারে বলে চিকিৎসকের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ নভেম্বর এটিএম শামসুজ্জামানকে বিএসএমএমইউ’তে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে সপ্তাহখানেক পর তিনি বাসায় ফিরেন। গত ৮ ডিসেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে থেকে ২০১৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ‘আজীবন সম্মাননা’ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন> গুরুতর অসুস্থ এটিএম শামসুজ্জামান, আবারো হাসপাতালে

এদিকে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল গ্যাস্ট্রিক এবং মলত্যাগজনিত সমস্যার কারণে এটিএম শামসুজ্জামানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন তার অবস্থা অবনতির দিকে গেলে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়।

প্রায় চার মাস চিকিৎসা নিয়ে গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর বসুন্ধরায় মেয়ের বাসায় ওঠেন এটিএম শামসুজ্জামান। সেখানেই তিনি এতদিন বসবাস করছিলেন।  

১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে এটিএম শামসুজ্জামান জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। প্রথম চিত্রনাট্যকার হিসেবে তিনি কাজ করেছেন ‘জলছবি’ সিনেমায়। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন বর্ষীয়ান এ অভিনেতা।  

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য এ অভিনেতার একমাত্র পরিচালিত সিনেমা ‘এবাদত’। এর আগে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এ কিংবদন্তি।  

কাজী হায়াতের ‘দায়ী কে’ সিনেমার জন্য দুটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পান তিনি। এরপর ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ এবং ‘চোরাবালি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য একই পুরস্কার লাভ করেন এটিএম শামসুজ্জামান।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০২  ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯
জেআইএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa