ঢাকা, শনিবার, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

ফিচার

কলাপাড়ায় সবজি বিপ্লব

গোফরান পলাশ | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২২০৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১০
কলাপাড়ায় সবজি বিপ্লব

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদ কলাপাড়ার সবজিচাষিরা এবার বিপ্লব ঘটিয়েছে। বাড়ির আঙিনায়, পরিত্যক্ত জমিতে তারা সবজি চাষাবাদ করেছে।

সবজি চাষাবাদে রাসায়নিক সার অথবা কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করছে জৈবসার। এ চাষাবাদে তাদের উন্নতমানের বীজ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা দিয়েছে স্থানীয় কৃষি অফিস ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের চাষিরা প্রথম সবজি চাষাবাদ শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে মজিদপুর, এলেমপুর, নাওভাঙ্গা, আমিরাবাদ, গামুরবুনিয়া, ছলিমপুরসহ প্রায় দশ গ্রামের ৩০০ চাষি শুরু করেন এ সবজিচাষ। তবে এখন কেবল নীলগঞ্জ ইউনিয়নই নয়, পাশ্ববর্তী মিঠাগঞ্জ, চাকামইয়া, টিয়াখালী, লালুয়া, ধানখালী ইউনিয়নেও শুরু হয়েছে এ চাষাবাদ।

জানা গেছে, কলাপাড়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের উৎপাদিত সবজি স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে যাচ্ছে। জৈবসারের ব্যবহার বেশি হওয়ায় এখানকার সবজির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান সবজি ব্যবসায়ীরা। সবজিচাষি দেলোয়ার হোসেন, মমিন উদ্দিন, আবুল হোসেন, মনির হোসেন জানান, প্রতি মাসে কলাপাড়া থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, বাকেরগঞ্জ, গলাচিপা, রাঙ্গাবালিসহ বিভিন্ন বাজারে গড়ে ১ হাজার টন বিভিন্ন প্রকার সবজি রপ্তানী করেন চাষিরা। প্রতিদিন সকাল হলেই চলে আসে বিভিন্ন উপজেলার পাইকাররা। জমি থেকে ফসল সংগ্রহ করা এবং সাথে সাথে ওজন করে ট্রাক-পিকআপসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে তোলার কাজে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সবজিচাষি ও ব্যবসায়ীরা। এর ফলে পাল্টে যাচ্ছে এসব এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা। এসব এলাকার অন্তত ৩০০ সবজিচাষি পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘুরে দূর হয়েছে দারিদ্র্য।
 
একফসল-নির্ভর এখানকার বর্গাচাষিরা ঘূর্ণিঝড় সিডরের পরই পরিত্যক্ত জমিতে শুরু করেন সবজি চাষ। এতে দিন দিন তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করে। কুমিরমারা গ্রামের সবজিচাষি দেলোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে জানান, ‘জমিতে আগের মোতো আর ধান পাই না। এহন মোরা বাড়ির পাশে হালাইন্যা মাডি আর উডানের হগোল মাডিতে সব ধরনের সবজি চাষ করি। দিন দিন মোগো অভাব দূর অইতে আছে। ’ তিনি আরও জানান, গত তিন মাসে (মে থেকে আগস্ট) ১৭০ মণ করলা ও ৫০ মণ শসা বিক্রি করেছেন । সবজিচাষি কালাম হোসেন জানান, ‘মুই ৩০ কড়া জমিতে সবজি চাষ কইর‌্যা তিন মাসে ১০০ মণ বেগুন বেচছি ৬০ হাজার টাকায়, করল্যা ১ লাখ টাকা এবং ঝিঙ্গা, মিষ্টিকুমড়া, লাউ ও লাল শাক বিক্রি করছি কমের পে দেড় লাখ টাকা। ’ ছলিমপুর গ্রামের সবজিচাষি কাঞ্চন মিয়া ও মালেক মিয়া জানান, ‘সিডর ও আইলার পর মোগো সবজি চাষের জন্য এনজিও করলা, লাউ, শিমসহ বিভিন্ন জাতের বীজ দেয়। পাশাপাশি ট্রেনিং দিয়া হাতে কলমে শিখাইয়া দেয় ক্যামনে সবজি চাষ করতে অয়। হেই যে হেকলাম আর পিছনে ফেরতে অয় নাই। ‘ স্থানীয় এনজিও এনএসএসের মাঠ কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ইউএসএআইডির অর্থায়নে এবং আইডিএর কারিগরি সহায়তায় নীলগঞ্জের প্রায় ৫০০ চাষিকে সহায়তা দেওয়া হয়।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিরুত্তম কুমার সরকার জানান, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের প্রায় ৩১০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে আছে করলা, শসা, বরবটি, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, মিষ্টিকুমড়া, পুঁইশাক, ডাটা, ঢেঁড়শ, জালিকুমরা। তবে নীলগঞ্জের চাষিদের অনুকরণে উপজেলার বাকি আটটি ইউনিয়নেও সবজি চাষির সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ স্থানীয় সময় ২১৪৫, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa