সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ভবন দেখা যায়, রোগীদের শয্যা-রুমের দেওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। একই সঙ্গে পুরো রুমের দেওয়ালজুড়ে ফাটল।
ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস সূত্রে জানা যায়, ১ কোটি ৮ লক্ষ ৫৪ হাজার ৫৭০ টাকা ব্যয়ে চারতলা মেডিকেল সেন্টারটির ১ম তলার কাজ ২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হারুন অ্যান্ড ব্রাদার্স। মেডিকেল সেন্টারটিতে ১৩টি কক্ষ ও ৬টি শয্যা রয়েছে।
২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেডিকেল সেন্টারের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আধুনিক মানের একটি মেডিকেল সেন্টারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অপরিকল্পিতভাবে তড়িঘড়ি করে ২০১৩ সালের প্রথম দিকে মেডিকেল সেন্টারটির নির্মাণকাজ শুরু করে।
একজন মেডিকেল অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেহেতু মেডিকেল সেন্টার তৈরি হয় রোগীদের জন্য, সেহেতু সেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এজন্যই মেডিকেল সেন্টার সাধারণত নির্মাণ করা হয় উত্তর-দক্ষিণমুখী করে। যাতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচলের সুবিধা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে পূর্ব-পশ্চিমমুখী করে। তাই কোনো আলো-বাতাসের মুখ দেখা যায় না।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলানিউজকে বলেন, ভবন নির্মাণের পর এত কম সময়ে ফাটল ধরা, প্লাস্টার খসে পড়াটা মেনে নেওয়া যায় না। এ-থেকে কি প্রমাণিত হয়? টাকা খরচ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের উপকরণ। মাঝারি মাত্রায় ভূকম্পন হলেও যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে মেডিকেল সেন্টারটি। হতে পারে জীবনহানি। এমনটি যদি সত্যি সত্যি ঘটে যায় তখন দায় নেবে কে ?
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিমত, আন্দোলনের মুখে এভাবে তড়িঘড়ি করে পরিকল্পনাহীনভাবে মেডিকেল সেন্টারটি নির্মাণ করা ঠিক হয়নি। সঠিক নক্সা ও পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে পরামর্শ করে ভাল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দিয়ে মেডিকেল সেন্টার নির্মাণ করা উচিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন বলেন, এতো খুবই হতাশার কথা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা মেডিকেল সেন্টারটির অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।
বাংলাদেশ সময়: ১০১৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৩, ২০১৭
জেএম/