শক্তিশালী ভূমিকম্পে জাপানে প্রায় ১ দশমিক ৮১ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। ভূমিকম্পে ভয়াবহ সুনামি হওয়ারও শঙ্কা রয়েছে।
মন্ত্রিসভা দপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, দেশের মোট জিডিপির প্রায় অর্ধেক— ২৭০ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন অর্থনৈতিক ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে, যা আগের ২১৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইয়েনের হিসাবের চেয়ে অনেকটাই বেশি। এই পরিবর্তন ঘটেছে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব এবং হালনাগাদ করা ভূখণ্ড ও জমির তথ্যের কারণে। এই হালনাগাদে বন্যার সম্ভাব্য এলাকার পরিমাণ বেড়েছে।
জাপান পৃথিবীর সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি। দেশটির সরকার নানকাই ট্রফ নামের একটি কম্পনশীল সমুদ্র তলদেশে ৮ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ৮০ শতাংশ শঙ্কার কথা জানিয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, যদি ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তাহলে জাপানে প্রায় ১২ দশমিক ৩ লাখ মানুষ, অর্থাৎ দেশের মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ শরণার্থী হয়ে পড়তে পারেন। শীতকালের রাতে যদি ভূমিকম্প হয়, তাহলে সুনামি ও ভবন ধসে দুই লাখ ৯৮ হাজার মানুষের প্রাণ যেতে পারে।
নানকাই ট্রফ জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত। এটি প্রায় ৯০০ কিলোমিটার (৬০০ মাইল) বিস্তৃত। সেখানে ফিলিপিনো সাগরের প্লেট ইউরেশিয়ান প্লেটের নিচে চলে যাচ্ছে। জমতে থাকা টেকটোনিক চাপ প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ বছরে একবার একটি বিশাল ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে।
গত বছর জাপান প্রথম মেগা ভূমিকম্পের সতর্কতা জারি করেছিল। ওই সতর্কতায় বলা হয়েছিল, নানকাই ট্রফে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার ‘তুলনামূলকভাবে বেশি সম্ভাবনা’ রয়েছে, এর পরই ট্রফের প্রান্তে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
২০১১ সালে ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়, যা একটি বিধ্বংসী সুনামি তৈরি করে। ওই ভূমিকম্পে উত্তর জাপানের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তিনটি রিঅ্যাক্টরে গলন সৃষ্টি হয়। আর তাতে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫৪০ ঘণ্টা, এপ্রিল ০২, ২০২৫
আরএইচ